বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

খাগড়াছড়িতে কেক বানিয়ে একজন সফল উদ্যোক্তা জেসমিন ত্রিপুরা

WhatsApp Image 2025-10-13 at 13.18.42_d92b0874

ছেলের জন্য কিনতে গিয়েই কেক বানানো শেখার ইচ্ছা। এরপর ইউটিউব দেখে নিজেই বানানো শুরু করেন কেক। এখন কেক বিক্রির আয়ের টাকাই তাঁর সংসারের খরচ চালানোর মূল উৎস। কেকের পাশাপাশি নানা রকম নাশতাও বানিয়ে বিক্রি করেন তিনি। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের স্লুইসগেট এলাকায় তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে খুবই পরিচিত মুখ। বলছিলাম জেসমিন ত্রিপুরার (৩৬) কথা।

২০১৭ সালে কেক বানানো শুরু করেন জেসমিন। ছেলের জন্য কিনতে গিয়েই কেক বানানো শেখার ইচ্ছা হয়েছিল তাঁর। শুরুতে ইউটিউবে ভিডিও দেখে কেক বানানো শুরু করেন। এরপর ১০ দিনের প্রশিক্ষণ নেন খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতিতে। সেখানে তিনি কেকসহ নানা ধরনের নাশতা বানানো শেখেন।

শুরুতে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিত মানুষের জন্য কেক বানাতেন তিনি। সবাই খেয়ে প্রশংসা করতেন, ব্যবসা শুরু করারও উৎসাহ দিতেন তাঁকে। তবে সেসময় ব্যবসা শুরুর জন্য আত্মীয়স্বজনের উৎসাহকে তেমন গুরুত্ব দিতেন না তিনি।

জেসমিন বলেন, সবাই প্রশংসা করলেও তিনি প্রথমে সাড়া দেননি। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পরে এ সিদ্ধান্ত বদলায়। ঘরে সময় না কাটায় অনলাইনে কেক বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। এরপর ফেসবুকে ‘কেক নক’ (বাংলায় ‘নক’ মানে দোকান) নামে একটি পেজ খোলেন। সেখানে তিনি বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি শুরু করেন। শুরুতে সাড়া কম পেয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের শেষের দিকে ব্যাপক পরিচিতি পান।

একপর্যায়ে দোকান খোলার সিদ্ধান্ত নেন জেসমিন। এ বছরই জুনে তিনি জেলার স্লুইসগেট এলাকায় দোকান খুলেছেন। চকলেট, ভ্যানিলা, রেড ভেলভেট, ব্ল্যাক ফরেস্ট, মাখন কেক, ফ্রুট কেকসহ হরেক নামের কেক তাঁর দোকানে বিক্রি হয়। এসবের বাইরে চিকেন ফ্রাই, পিৎজা, চিকেন স্যান্ডউইচ, দই, আইসক্রিম, ডাবের পুডিং, মোমোসহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারও বানিয়ে বিক্রি করছেন তিনি।

জেসমিন ত্রিপুরা বলেন, বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা অবধি তিনি দোকান খোলা রাখেন। দোকানের সব খাবার নিজেই বানান। স্বামী তাপস ত্রিপুরাও এতে সাহায্য করেন। তাঁর এক ছেলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে, আরেক ছেলে প্রাক্‌-প্রাথমিকে পড়ে।

বিভিন্ন পারিবারিক ও দাপ্তরিক অনুষ্ঠান কিংবা উৎসবেও অনেকে তাঁর কেক চান। এ জন্য আগে থেকে অনেকেই বুকিং দিয়ে রাখেন। খাগড়াছড়ির মধুপুর এলাকার বাসিন্দা সৌরভ ত্রিপুরা বলেন, জেসমিন ত্রিপুরার কেক ও নাশতার দাম বাজারের অন্য দোকানের তুলনায় কম। এ ছাড়া স্বাদও ভালো। এ কারণে যেকোনো অনুষ্ঠানে তিনি জেসমিনের দোকান থেকেই কেক ও নাশতা নেন।

গ্রাহকদের সাড়া দেখে উচ্ছ্বসিত জেসমিনও। তিনি বলেন, ‘একসময় বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতাম। কোনো দিন ভাবিনি এমন উদ্যোক্তা হব। এখন উদ্যোক্তা হয়ে ভালো লাগেছে, পরিবারেরও সচ্ছলতা এসেছে। আমার ব্যবসা আরও বড় হোক, লোকজনের কর্মসংস্থান হোক—এটিই এখন চাওয়া। পাহাড়ের প্রান্তিক নারীদেরও আমি কেক তৈরির প্রশিক্ষণ দেব, যাতে কোনো নারীকেই বেকার হয়ে ঘরে থাকতে না হয়।’

ছবি: প্রথম আলো