অর্ধেক হৃদয়

শুভ্র তুষারে দুই জোড়া পায়ের ছাপ পরছে । লাল রঙের জ্যাকেট পরা জিনিয়া
পেঙ্গুইনের ভঙ্গিতে হাঁটছে। দুই হাত প্রসারিত করে সামনে ঝুঁকে হাঁটলে বরফে
পিছলে পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়। জিনিয়ার পাশে গোলাপি জ্যাকেট আর গোলাপি
উলের টুপি মাথায় জেনি ধীরে হাঁটছে।মায়ের সাথে তাল মেলাতে পারছে না।
সকালের সূর্য কমলালেবুর মত দেখায়। ঝকঝকে আকাশে মেঘ নেই। তবে রোদের
তেজ আছে। রোদ ঝকঝকে দিন তাপমাত্রা সম্পর্কে একটা বিভ্রম সৃষ্টি করছে।
রোদের উপস্থিতির জন্য মনে হচ্ছে বাইরে গরম। বরফে আলো পরে চারপাশ
চিকচিক করছে।
ঢং ঢং শব্দে স্কুলের বেল বাজলো । সকাল আটটা বেজে গেছে। স্কুলের দরজা
পর্যন্ত পথ জিনিয়া জেনির ব্যাগ নিয়ে ছোটে। হাসিমুখে শিক্ষক জেনিকে লাইনে
দাঁড় করান। জিনিয়া দাঁড়িয়ে থাকে যতক্ষণ তার কন্যা দরজা দিয়ে ঢুকে ততক্ষন
অপেক্ষা।যদিও এই অপেক্ষার কেবল শুরু।এরপরে বহু দরজার এপাশে জিনিয়ার
অপেক্ষা থেকেই যাবে। স্কুল শেষ করে ইউনিভার্সিটি শুরু হবে। মায়েদের অপেক্ষা
আর দুশ্চিন্তার কোনো অন্ত নেই।
জিনিয়া প্রথম দিকে ভাবতো মেয়ে বড় হলে দুশ্চিন্তা কমে যাবে।যখন এক দেড়
বছর বয়সের বাচ্চা- তার দেখ ভাল করার প্রয়োজন হয়।এখন তো অসুবিধা হলে
বলতে পারে না।
সে ভেবেছিল সময়ের সাথে মেয়ের জীবনে মায়ের প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে। যখন
কথা বলতে শিখল জেনি জিনিয়া ভেবেছিল তার চিন্তার দিন শেষ।জেনি তার সুবিধা-
অসুবিধার কথা জানাতে পারবে। ক্রমশ বুঝল জেনির অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষমতা
তার দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। জেনি প্রশ্ন করতে শিখেছে।সব প্রশ্নের জবাব
জিনিয়া দিতে পারে না। শিশুদের সব সহজ প্রশ্নের কঠিন জবাব দিতে বড়রা
অভ্যস্ত নয়।যুদ্ধে গাজা শহরের শিশু মৃত্যুর খবর সে সাবধানে জেনির কাছে
লুকিয়ে রাখে। কারণ জেনি প্রশ্ন করতে শিখেছে। ওকে দেখলেই খবর পাল্টে দেয়।
একটা দেশের মানুষ যখন অন্য দেশের মানুষের সাথে যুদ্ধে জড়ায় সেই সিদ্ধান্তে
শিশুদের কোনো হাত থাকে না।তবুও যুদ্ধে নিষ্পাপ ফুলগুলো অকালে ঝরে যায়।
তবে যেদিন জেনি বাড়ি ফিরে ক্যাথলিক স্কুলের নির্মমতার গল্প বলল সেদিন
জিনিয়া মনোযোগ দিয়ে ওর কথা শুনেছে। শিশুদের ও সত্যের সাথে পরিচয় করিয়ে
দেয়া হয়।মিথ্যা যতই মধুর শোনাক তাতে দায়মুক্তি হয় না। সে মাঝে মাঝে ভাবে
সেইসব আদিবাসী মায়ের কথা যাদের সন্তানেরা ক্যাথলিক স্কুলের নির্মমতার
বলি হয়েছে।শিশুদের উপযোগী করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে স্কুল। এথনিক
ক্লিনসিং এর গল্পে উঠে এসেছে রূপক। যে মেয়েটির গল্প স্কুলে বলেছে সেখানে
বলেছে তার রংয়ের কাপড় স্কুল বদলে দিয়েছিল। গল্পটা আদতে ঝলমলে কাপড়ের
নয়; ইতিহাস আর জাতিসত্তা বদলে দেবার গল্প।
মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফিরতি পথে হাঁটা ধরে জিনিয়া । বরফে তাদের পায়ের
ছাপ মিলিয়ে গেছে। এরপরে বহু লোকে হেঁটে গেছে।এখন আলাদা করে পায়ের ছাপ
চোখে পড়ছে না। এই দেশে অভিবাসীদের জীবন আসলেই বরফের ওপর পায়ের
ছাপের মত; সবাই এক সময় প্রবাসী জীবনের অংশ হয়ে যায়। আলাদা করে তাদের
পরিচয় ওই পায়ের ছাপের মত ঠাহর করা যায় না। সবার পরিচয় যেন ওই পায়ের
ছাপের মত মিলিয়ে যায়; মিশে যায় বরফের মত শীতল অভিবাসী জীবনে। অভিবাসী
জীবন বরফের মত শুভ্র তবে প্রাণহীন। জিনিয়া ভাবে এই যে সে ভাবছে তার
আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এর কথা এর বিনিময়ে সে পেয়েছে নিরাপত্তা। তার মেয়েও
নিরাপদ জীবন যাপন করবে।
গলির মুখে এসে মেইল বক্সের সামনে দাঁড়ায় জিনিয়া । পকেট থেকে চাবি বের করে
খোলে তার মেইলবক্স। অজস্র চিঠি এসেছে।বেশিরভাগই জাঙ্ক মেইল। তবে কিছু
কাজের চিঠিও আছে। পাশের বাড়ির কোরিয়ান ভদ্রলোক মাইক হেসে শুভ সকাল
জানায়। জিনিয়া উত্তরে বলে সুপ্রভাত। তুমি কেমন আছ? মাইক নামের
ভদ্রলোকের একটা কোরিয়ান নাম আছে। সে সবার সুবিধার্থে নিজের নাম পাল্টে
নিয়েছে।
নিজের নাম বদলে ফেলাটা জিনিয়ার কাছে অসম্ভব মনে হয়। ওর মনে হয় ওর
আত্ম পরিচয়ের বড় একটা অংশ নামের সাথে মুছে যাবে।যারা নাম বদলেছে তাদের
সাথে কথা বলে সে বুঝতে পেরেছে ইচ্ছে করেই তারা নাম বদলেছে। বেশির ভাগ
মানুষ তাদের নামের সঠিক উচ্চারণ করতে পারবে না।বাবা মায়ের দেয়া নামের
অপভ্রংশ উচ্চারণ তারা সহ্য করতে পারে না।
জিনিয়া পা চালিয়ে বাড়ি ফেরে।তার অফিসে লগইন করতে হবে।সপ্তাহে দুইদিন সে
বাড়ি থেকে অফিস করে।বাকি তিনদিন সশরীরে অফিসে যেতে হয়। এসপ্রেসো
মেশিনে এক কাপ আমেরিকানো কফি বানিয়ে নিয়ে ইমেইল চেক করতে বসে।
কাজের ফাঁকে মনে পড়ে তার বাবার স্মৃতি হারানোর অসুখের কথা। একেক সময়
জিনিয়ার মনে হয় বাবার এই অসুখ ঠিক হয়ে যাবে। গল ব্লাডারের পাথর অপসারণ,
এপেন্ডিক্স সার্জারি করে বাবা যেমন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন তেমন বাবা
এবারেও সুস্থ হবেন।পর মুহূর্তে মনে পড়ে এই অসুখ মনের অসুখ।মস্তিষ্কের
রোগ সহজে সারবার নয়। জখম সারানোর জন্য সত্যকে আলিঙ্গন করা
জরুরি।মিথ্যে সান্তনার মায়ায় নিজেকে আবদ্ধ করা উচিত নয়।জিনিয়া চোখ বন্ধ
করে তার মনে হয় বাবা একদিন তাকেও চিনতে পারবেন না। এই ভয়ংকর সত্যকে
আলিঙ্গন করতে গভীর বেদনায় তার হৃদয় বিদীর্ন হয়ে যাচ্ছে।
বাবা একসময় দেশ থেকে বই এনে লাইব্রেরি বানিয়েছেন। জিনিয়ার বাবাকে মনে
হয় কোনো এক বইয়ের উপন্যাসের চরিত্র। গল্পের বইয়ের চরিত্রের মত তিনি
তার কন্যার স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন। একসময় পুরোপুরি স্মৃতি ভ্রষ্ট হবেন।
শ্রুতিধর বাবার এই পরিণতির কথা ভাবলে মনে হয় প্রকৃতি বড় নিষ্ঠুর। স্মৃতি
ভ্রষ্ট হয়ে বেঁচে থাকার মত বড় কোনো কোনো শাস্তি আর নেই।
ঠিক বারোটার সময়ে লাঞ্চে যায় জিনিয়া। বরাবরের মত হালকা খাবার দুপুরে খেয়ে
সে অভ্যস্ত।খাবার পরে সে লিভিং রুমের মেঝেতে বসে বাক্সে বাড়ির জিনিস পত্র
গোছাতে বসে। বাক্স ভরে গেলে বন্ধ করে তার ওপরে লিখে রাখছে এই বাক্সের
জিনিস বাড়ির কোন ঘরে যাবে। বাক্সে বন্দি করে সে এত বছরের সংসার গুছিয়ে
নিয়ে যাচ্ছে। বাক্সের মাঝে কেমন বন্দি হয়ে গেল এক জীবন। লিভিং রুমের
কোনার দেয়ালের কাছে দাঁড়ায়। তার মনে পড়ে জেনি ঠিক এই জায়গাতে দেয়ালে ছবি
এঁকেছিল।কত কষ্টে উঠেছিল সেই দাগ। সিঁড়ি থেকে পরে একবার ব্যথাও পেয়েছিল
জেনি।
অতিমারীর সময়ে যখন সে বাড়ি থেকে চাকরি করত জেনিকে লিভিং রুমে বসিয়ে
রাখত। সামনে চলত নার্সারি রাইম।কাজের মাঝেই খাওয়ানো, দুপুরের ঘুম এসব
সামলে এক অদ্ভুত সময় পার করেছে।
নতুন বাড়িতে যাবার জন্যই এই আয়োজন। নতুন ঠিকানায় যাবার জন্য খুশি হওয়া
উচিত। অথচ আনন্দের বদলে কেমন এক অদ্ভুত বিষাদ এসে গ্রাস করছে। মনে
হচ্ছে এই বাড়ির কাছে লেক, খেলার মাঠ সব ছেড়ে একবারে চলে যাচ্ছে। কেমন
গাছের মত শেকড় বাকর গজিয়ে গেছে মনের মাঝে। জিনিয়া চোখ বন্ধ করে সোফায়
হেলান দিয়ে বসে। ওর মনে পড়ে যেদিন কয়েকটা সুটকেসে ওর বারো বছরের
জীবনের সব সঞ্চয় গুছিয়ে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিল। ঠিক এমন বিষাদে আচ্ছন্ন
হয়েছিল মন। সে জানতো ফেরার জন্য কখনোই কেউ ঘর ছেড়ে যায় না। যেই দরজা
দিয়ে অন্য ঠিকানার উদ্দেশ্যে বাইরে পা রাখা হয়, সেই পায়ের চিন্হ আর দরজার
সামনে পরবে না।
অফিসের ফাঁকেই জেনিকে স্কুল থেকে নিয়ে আসার সময় হয়ে যায়।ওকে স্কুল
থেকে আনার পরে হালকা খাবার দিতে হয়।সেসব আগেই তৈরী করা থাকে। জিনিয়া
বাড়ি থেকে বের হয়ে দ্রুত পা চালালো।
জেনির মুখ ভার। চোখ ছলছল করছে। জিনিয়া প্রশ্ন করল, ; আজকে তুমি স্কুলে
কী শিখলে?;
; সে তো অনেক কিছু। যা শিখেছি সব একবারে বলা যায়?
; তোমার কী মন খারাপ?
" হ্যা। আমি এক বছর এখানে পড়েছি। মন তো খারাপ হবেই। আমার স্কুল, খেলার
মাঠ, বন্ধুদের ছেড়ে চলে যাচ্ছি। মিস স্যান্ডার্স আমার খুব প্রিয় টিচার। তুমি
আবার আমাকে নতুন স্কুলে পাঠাবে। আমি গত দুই বছরে এই তিন নম্বর স্কুলে
যাবো। আমার বন্ধুরা এখানে থেকে যাবে।
অল্পবয়সী মিস স্যান্ডার্স রূপবতী। তার ধৈর্য আছে। শিশুদের বকাঝকা করে
না।জিনিয়া লক্ষ করেছে জেনির বেশিরভাগ বন্ধু উপমহাদেশের। সে ধরেই নিয়েছিল
যেহেতু বাড়িটা বাবা-মায়ের উপমহাদেশের বন্ধু দেখে সে অভ্যস্ত সেহেতু জেনি
বাবা-মায়ের পদাংক অনুসরণ করেছে।
t; তুমি কাকে সবচেয়ে বেশি মিস করবে?
; আমাদের ক্লাসে জোসেফ নাম একটা ছেলে আছে। সে অনেক বুদ্ধিমান।সব সময়
আমাকে দেখে শুনে রাখে।
কথা সত্য। এর আগে স্কুল থেকে অসুস্থ জেনিকে যখন ছুটির আগে আনতে
গিয়েছিল তখন ছেলেটা ওর পাশে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল। জিনিয়া হাসল। সে
বোঝে যেহেতু জেনির ভাই-বোন নেই সে বন্ধুদের মাঝে ভাই-বোনের সম্পর্ক
খোঁজে।
; জোসেফ অনেক বুদ্ধি রাখে বুঝি?
; আসলে সে বয়সে আমার ছয় মাসের বড়। ছয় মাস পরেই আমি জোসেফের মত
বুদ্ধিমান হয়ে যাবো।
জিনিয়া হেসে ফেলে। জেনি খুঁজে বের করেছে কেন জোসেফকে বন্ধু হিসাবে সে
পছন্দ করে। জোসেফের বুদ্ধিমান হবার পেছনে একটা যুক্তিও দাঁড় করিয়েছে।
" তুমি বাড়ি গিয়ে কী খেতে চাও?"
" আজকে ভাত খেতে চাই না মা। অনেক ঝাল।"
" তুমি একটা কথা জানো ঝাল খেলে বুদ্ধি বাড়ে?"
জেনি সন্দেহ নিয়ে তার মায়ের দিকে তাকায়।
জিনিয়া বলে, " দেখো তোমার বাবা আর আমি দুজনেই ঝাল পছন্দ করি। এখন তুমি
বলতো আমরা দুজন বোকা না বুদ্ধিমান?"
" এটা আমার ভেবে বের করতে হবে। তবে আজকে আমি ভাত খাবো না।"
" ঠিক আছে কোনো সমস্যা নেই। তোমার যা খেতে ইচ্ছে করছে বলবে আমি সেই
খাবার বানিয়ে দেব।"
দুজনে টুকটুক করে হেঁটে গল্প করতে করতে বাড়ি ফেরে। এই সময়টা আসলেই
সুন্দর যখন সন্তান নির্দ্বিধায় বাবা-মাকে তার সব গল্প বলে। যেখানে লুকো –
ছাপা নেই। জিনিয়ার ভালো লাগে।
শিশুদের পৃথিবী আসলেই সুন্দর। বাবা-মা যেন এক অদৃশ্য ফিল্টার পরিয়ে
অসুন্দরের সাথে এক পৃথিবী দূরত্ব রচনা করে দেয়। খাটের নিচে লুকোনো কল্পিত
দানবের ভয় থাকলেও সেখানে থাকে না মানুষের দানবীয় প্রবৃত্তির পরিচয়।
একেক সময় মানুষ বোধ হয় কল্পিত দানবের চেয়েও ভয়ংকর। হিংসা , দ্বেষ
এসবের সাথে তখনও পরিচয় ঘটে না। প্রজাপতির মত উড়ে বেড়ানোই শৈশব। বড়
হবার পরে সেই প্রজাপতির ডানা ভেঙে দেয় জীবন। মানুষ বেঁচে থাকে বিবর্ণ
প্রজাপতির মত যার স্মৃতিতে থাকে সুন্দর শৈশব।
জেনি আবদার করে মায়ের কাছে সে গ্রিল্ড চিজ স্যান্ডউইচ খাবে।
খেতে খেতে প্রশ্ন করে জেনি, " আমরা কী মাঝে মাঝে আমাদের পুরোনো স্কুলে
বেড়াতে আসতে পারি?"
" অবশ্যই পারবে। তবে নতুন স্কুলেও তোমার অনেক বন্ধু হবে।তাদের নিয়েই তুমি
ব্যস্ত হয়ে পরবে।"
" সে তো হবেই। তবুও আমার মনে হচ্ছে আই আমি লিভিং হাফ অফ মাই হার্ট
হিয়ার । আমার হাতের নেকলেসটা দেখো মা। অর্ধেক হয়ে যায়। অর্ধেক হৃদয়
আমার কাছে আর বাকি অর্ধেক তোমার কাছে। ঠিক তেমন নতুন স্কুলে আমি
আমার অর্ধেক হৃদয় নিয়ে যাচ্ছি। পুরোনো স্কুলে বাকি অর্ধেক রেখে যাচ্ছি।"
" তুমি বরং একটা কাজ করো। যখন ইয়ারবুকের ছবি আসবে তোমার সব প্রিয়
বন্ধুদের নিয়ে কয়েকটা আনন্দের স্মৃতি একটা স্ক্র্যাপবুক লিখে রাখো। বড় হয়ে
দেখবে। সেই স্ক্র্যাপবুকটার নাম রাখো অর্ধেক হৃদয়।"
জেনি খাওয়া শেষে ওর ঘরে যায়। রান্নাঘরের জানালায় বাগানবিলাস ফুটেছে।
জিনিয়া ঘরের ভেতরে বড় টবে লাগিয়েছে বাগানবিলাস। জানালার বাইরে দেখা যাচ্ছে
আধ ভাঙা চাঁদ। এই বাগানবিলাসের পাশে চাঁদ সে বহুবার দেখেছে তাদের
বাংলাদেশের বাড়িতে। বাড়ির সদর দরজার পাশে বাগানবিলাসের ঝাড় ছিল। জিনিয়ার
মনে হয় আমরা এক জীবন ধরে মনের স্ক্র্যাপবুক স্মৃতি জমাই। পেছনে ফেলে
আসি অর্ধেক জীবন; অর্ধেক হৃদয়।


