চাকসুতে চার ভাষায় প্রচারপত্র তৈরি করেছেন সুমাইয়া

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে যেন চলছে উৎসব। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এদিকে লিফলেট, প্রচারকার্ড হাতে প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। আনন্দমুখর পরিবেশে দিন-রাত চালাচ্ছেন প্রচারণা।
এরই মধ্যে একটি লিফলেটে বাংলা, চাকমা, মারমা ও চাটগাঁইয়া ভাষায় অভ্যর্থনা জানিয়ে রয়েছে শুভেচ্ছাবার্তা, যা সবার নজর কেড়েছে। সেখানে আছে ইশতেহার ও কিউআর কোড। চাকসুর নির্বাহী সদস্য প্রার্থী মীর সুমাইয়া আহমেদ প্রচারপত্রটি তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন ভাষাভাষী শিক্ষার্থী আছেন। সব ভাষার শিক্ষার্থীদের কাছে সহজে পৌঁছাতে এ উদ্যোগ নিই। একজন সিনিয়র ভাইয়ের পরামর্শ থেকেই ধারণাটি পাই। পরে সেটি নিজের মতো করে পরিপূর্ণ করি। ছাপাখানায় তিন দিন দৌড়াদৌড়ি করে তৈরি করেছি।’
প্রচারপত্রটি হাতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। মীর সুমাইয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। অনেকেই মজা করে বলেছেন, নোয়াখাইল্যা বা সিলেটি রাখলেন না কেন? আমি হেসে বলেছি, সামনে চাকসু নির্বাচন হলে ওগুলোও রাখব।
পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ঐতিহ্যবাহী ঝুপড়িগুলোসহ সব জায়গায় প্রচারে নেমেছেন ১৩ প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। গতকাল মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের প্রতিটি মোড়ে, ঝুপড়ি, শহীদ মিনার ও হলে হলে প্রচারণা চালিয়েছেন ৯০৭ প্রার্থী। এদিকে ১৩ অক্টোবর রাতে শেষ হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার।
উল্লেখ্য, ৩৬ বছর পর হচ্ছে চাকসু নির্বাচন। আগামী ১৫ অক্টোবর হবে ভোট। শিক্ষার্থীরা জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় হোক শিক্ষার্থীবান্ধব।
‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ প্যানেলের ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক প্রার্থী সুমাইয়া শিকদার বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কাছে যাচ্ছি। তাদের সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করছি। প্রতিশ্রুতিগুলো তাদের জানাচ্ছি। ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, নারী প্রার্থী তুলনামূলক কম। আমরা সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবেশ তৈরি করতে চাই। চাকসু হোক নারীবান্ধব ও নিরাপদ নেতৃত্বের ক্ষেত্র।
ছবি: সমকাল



