~শানারেই দেবী শানুর কবিতা

ড্রাইভিং সীটে প্রেম ও এক গুচ্ছ বেলী
ডান হাতে শক্ত করে স্টিয়ারিং ধরে
বাম হাতে গিয়ার আঁকড়ে
ড্রাইভ করছে প্রেম
এখড়োবেখরো বিশ্বব্রম্মান্ড।
সিগন্যাল থামিয়েছে প্রেমের গাড়ির গতি,
জানালার কাঁচে আচমকা টোকা পড়ল,
“একটা বেলী ফুলের মালা নিয়া যান।”
সচকিতে তাকায় প্রেমিক ফুলের দিকে,
ফুলগুলো সব তার দিকে তাকিয়ে আকুল ফুটে আছে।
বিনীত প্রেমের গন্ধ ছড়িয়ে আহ্বান করছে
সাদরে গ্রহণ করার জন্য।
লাল নীল সবুজ বাতির সিগন্যাল
তাকে ইশারা করছে ফুলকে আঁকড়ে ধরার।
মুগ্ধ নয়নে প্রেম ফুলের দিকে তাকায়,
খিলখিল করে হাসছে,
ফুলের তীব্র আহ্বান উপেক্ষা করতে পারে না সে।
একগুচ্ছ বেলী ফুলের মালা তাকে
ভাসিয়ে নিয়ে যায় দূর বহূদূরে,
কোনো এক প্রেমের ভূ মধ্যসাগরে।
কার জন্য কিনবে সে ফুলের মালা?
বুকের ভিতর জেগে ওঠে
ফেনিল সাগরের উত্তাল ঢেউ খেলা।
প্রেমের উত্তাল সাগরে ভাসবে সে জ্বালা?
নাকি ডুবে গিয়ে ডুবুরির মত
মুক্তো সেচে আনবে প্রেমিক ভোলা!
“এই যে নেন না,একটা ফুলের মালা?”
ফুলওয়ালী মেয়ের ব্যস্ত কন্ঠে ঘোর ভাঙে তার,
মুচকি হেসে জানালা নামিয়ে
একগুচ্ছ বেলীর মালা কিনে নিয়ে
বাম পাশের সীটে মালা ছড়িয়ে রেখে
ফুলের তীব্র ঘ্রাণে দিশেহারা হয়ে
মূহূর্তে সে ভুলে যায়,
জন্ম জন্মান্তরে প্রেমিক হয়ে প্রেমিকার হাতে বেলী ফুলের
গুচ্ছ মালা কিনে দেবার শপথ ছিল তার,
এখন শুধু বুক জুড়ে তার তীব্র হাহাকার!
প্রেমের গাড়ি তবু ছুটছে জোরে,
নাগরিক কোলাহলেও করছে মৌ মৌ
বিস্মৃত স্মৃতির তুমুল জয়জয়কার।
পাশের সীটে ঝুলছে ফুল
দুলে দুলে চলছে যেন
ভালোবাসার অমৃত ভান্ডার।
মানুষ নামের কীটপতঙ্গ
——————————
আমরা আদতে মানুষ নামের
একটা বড়সড় কীটপতঙ্গ
নিয়তির ঝড়ে কখন কোথায় উড়ে যাব না জেনেই
হাসিমুখে নির্বাক তাকিয়ে দেখি
শুধু জীবন আকাশের রঙ্গ।
টিনের চশমা
—————-
টিনের চশমা পড়েছে পৃথিবী,
চোখ কান মুখ বন্ধ সমস্ত অনুভূতির।
রাতের রানীর ব্যবচ্ছেদে ক্রুর নগ্নতা প্রকাশিত,
রাতের রাজারা নিভৃতে ব্যস্ত পাপ লুকানোর খেলায়।
পাপের পাল্লা কার ভারী? পৃথিবী সে হিসেব একদমই গুনছে না।
নিষ্ঠুর পৃথিবী শুধু সৌন্দর্য্যের অপব্যবহারের হিসেব গুনছে।প্রেমের অভিনয়ের সাজা খুঁজছে।
তাবৎ মুখোশ পড়া পাপীরা তখন লুকিয়ে আনন্দ আয়োজনে মত্ত।
আর বোকা মানুষগুলো বেঁচে থাকার জন্য পিপীলিকার শীতের খাদ্য সঞ্চয়ের মত ধীর লয়ে পিলপিল হেঁটে চলেছে,
নির্লিপ্ত।
মরীচিকা ভালোবাসা
—————————
সৃষ্টির আদিমতম রহস্য হয়ে জন্মেছে যে ভালোবাসা
তার রহস্য উদ্ধারে তুমি আমি এই যে ছুটে চলেছি ভালোবাসার খোঁজে,
রাত নেই,দিন নেই,পথের কোন ঠিকানা নেই,
ভালোবাসা সে তো পথের সম্মুখে মরীচিকার মত হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিবার…
অভিশপ্ত হৃদয় নিয়ে জন্মেছে যে কাঙাল
ভালোবাসার দেখা কি সে পেয়েছে আদৌ?
নাকি এক ঝলক দেখা পেয়েই হারিয়েছে প্রতিবার!
ভালোবাসার সন্ধানে এই যে তুমি আমাকে আদ্যোপান্ত পাঠ করে চলেছ,
আমি তোমাকে…
ভালোবাসার তীব্র আলোর ঝলক খুঁজে পেয়েছো চোখের তারায়?
নাকি সেটাও মরীচিকা ভেবে চোখ বন্ধ করে স্মৃতি হাতড়ে খুঁজে চলেছ পুরনো পথের রেখা!


