‘নো ফ্লাই লিস্ট’ বিমান ভ্রমণে অদৃশ্য নিষেধাজ্ঞা

রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ও জ্যাক গ্যালিফিনাকিসের কমেডি সিনেমা ‘ডিউ ডেট’ হয়তো অনেকেরই দেখা। সেখানে মজার ছলেই চরিত্ররা ‘বোমা’ জাতীয় কিছু শব্দ উচ্চারণ করেছিল। আর সে কারণেই তাদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। সিনেমাটি হাস্যকর হলেও এর পেছনের বাস্তবতা কিন্তু একেবারেই সিরিয়াস। বাস্তবে সত্যিই আছে ‘নো ফ্লাই লিস্ট’বা বিমান ভ্রমণ নিষিদ্ধ তালিকা।
নো ফ্লাই লিস্ট কী?
‘নো ফ্লাই লিস্ট’এটি আসলে একটি সরকারি গোপন তালিকা। যেখানে এমন ব্যক্তিদের নাম থাকে যাঁরা বাণিজ্যিক বিমানে ভ্রমণের অধিকার হারান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই তালিকাটি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ও কঠোরভাবে কার্যকর হয়। তালিকাটি তৈরি ও নিয়মিত হালনাগাদ করে এফবিআইয়ের থ্রেট স্ক্রিনিং সেন্টার । এটি মূলত একটি বড় সন্ত্রাসী নজরদারি তালিকার অংশ। যে কেউ মার্কিন নাগরিক বা অন্য দেশের নাগরিক এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
তালিকাভুক্ত কেউ যুক্তরাষ্ট্রগামী বা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো বাণিজ্যিক বিমানে উঠতে পারবেন না। এমনকি অন্য দেশে যাওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। যদিও অনেক ধনী যাত্রী ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করে এ নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পারেন, কারণ এসব ফ্লাইট টিএসএর নিয়মের আওতায় পড়ে না।

কেন নাম ওঠে এ তালিকায়?
নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি কারণে কারও নাম নো ফ্লাই লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। যেমন
– বিমানের যাত্রী, ক্রু বা বেসামরিক বিমান নিরাপত্তার প্রতি হুমকি তৈরি করা।
– সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ।
– যুক্তরাষ্ট্র বা এর সরকারি স্থাপনা (দূতাবাস, সামরিক ঘাঁটি ইত্যাদি) লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা বা হুমকি দেওয়া।
কীভাবে বুঝবেন আপনি তালিকায় আছেন?
এই তালিকা সম্পূর্ণ গোপন। তাই সরাসরি জানা সম্ভব নয়। সাধারণত আপনি টিকিট কেনার পর বোর্ডিং পাস না পেলে তখনই সন্দেহ হতে পারে। মার্কিন নাগরিক হলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে একটি চিঠি পেতে পারেন। যেখানে আপিল করার সুযোগ দেওয়া থাকে। যদিও সব কারণ পরিষ্কারভাবে জানানো হয় না।
বিমান সংস্থার নিজস্ব তালিকাফেডারেল তালিকার পাশাপাশি প্রতিটি বিমান সংস্থারও থাকে তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ‘নো ফ্লাই লিস্ট’। এখানে মূলত ‘উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীদের’ রাখা হয়। যেমন সহিংস আচরণ, হুমকি দেওয়া, ক্রুদের কাজে বাধা দেওয়া বা অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করা।
শুধু ২০২৪ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজারের বেশি উচ্ছৃঙ্খল যাত্রীর রিপোর্ট নথিভুক্ত হয়েছে। গুরুতর ঘটনার ক্ষেত্রে বিমান সংস্থা এফএএর কাছে অভিযোগ করে, যার ফলে বড় অঙ্কের জরিমানা। এমনকি ফৌজদারি মামলা ও কারাদণ্ডও হতে পারে। তবে একটি সংস্থার তালিকায় থাকা মানেই অন্য সব সংস্থার তালিকায় নাম ওঠা নয়।
অতিরিক্ত স্ক্রিনিং মানেই নো ফ্লাই নয়অনেক সময় বোর্ডিং পাসে SSSS (Secondary Security Screening Selection)লেখা থাকে বা অতিরিক্ত চেকিং হয়। কিন্তু তা মানেই নো ফ্লাই লিস্টে নাম আছে এমন নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটি হয় নামের মিলের কারণে।
কী করবেন এক্ষেত্রে?
এমন পরিস্থিতিতে আপনি চাইলে রেড্রেস নম্বরের জন্য আবেদন করতে পারেন। সাত সংখ্যার এই নম্বরটি টিকিট বুকিংয়ের সময় দিলে বোঝা যায় আপনি প্রকৃতপক্ষে তালিকাভুক্ত নন, শুধু নামের মিলের কারণে ভুলবশত অতিরিক্ত চেকিং হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্যমতে, রেড্রেসের জন্য আবেদনকারীদের ৯৮ শতাংশেরই সন্ত্রাসী নজরদারি তালিকার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
এক কথায়, ‘নো ফ্লাই লিস্ট’ হলো বিমানে ওঠার অধিকার হারানোর তালিকা, যা মূলত নিরাপত্তার জন্য তৈরি। তবে সবসময় অতিরিক্ত চেকিং মানেই এই তালিকায় নাম ওঠা নয়।



