বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
নারী

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র: বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা উদ্বিগ্ন

WhatsApp Image 2025-10-04 at 7.28.47 PM (1)

কর্মজীবী তানজিলা মোস্তাফিজের ১ বছর ১১ মাস বয়সী সন্তান রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার ভবনের সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে শিক্ষালাভ করছে। মা–বাবার প্রায় ৫৫০টি আবেদন অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে।

এই কেন্দ্রটি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ‘২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে সন্তানের যত্ন নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছেন না।

তানজিলা বললেন, কেন্দ্রটি নিরাপদ, খরচও কম, তাই বন্ধ হলে তিনি সন্তানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে সমস্যায় পড়বেন।

প্রকল্পভিত্তিক কর্মীদের দুশ্চিন্তা

শুধু শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র নয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য প্রকল্পের কর্মীরা বছরের পর বছর বেতন এবং চাকরির নিশ্চয়তা না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন।

‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’

‘তথ্য আপা: তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন’

জয়িতা ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘জয়িতা বিপণনকেন্দ্র ও জয়িতা ফুডকোর্ট’

এই প্রকল্পগুলিতে আড়াই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০ জন নারী। চাকরি হারানো বা বেতন না পাওয়ার কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ীত্ব এবং জনবল নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তা করা হয় না। নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়, পুরোনো প্রকল্পের কর্মীদের প্রশিক্ষণ থাকলেও চাকরির নিশ্চয়তা থাকে না। অনেক প্রকল্প ত্রুটিপূর্ণভাবে প্রস্তাবিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের মূল ডিপিপিতে চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়ার উল্লেখ ছিল না, কিন্তু প্রথম সংশোধনীতে যোগ করা হয়েছিল, পরে দ্বিতীয় সংশোধনীতে বাতিল করা হয়।

শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র: বেতন বন্ধ ও নতুন প্রকল্প

‘২০টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্প শুরু হয় ২০১৬ সালে। পরবর্তীতে কেন্দ্র সংখ্যা ২০টি করা হয়। ঢাকায় ১১টি, ঢাকার বাইরে ৯টি কেন্দ্র। এই কেন্দ্রগুলোতে ১ হাজার ১০০টির বেশি শিশু রয়েছে, জনবল ২৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ১৭০ জন।

মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্র কার্যক্রম চালু আছে, কিন্তু কর্মকর্তারা বেতন পাচ্ছেন না। নতুন করে ৬০টি কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও পুরোনো কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা নেই।

প্রকল্প পরিচালক অতিরিক্ত সচিব শবনম মোস্তারী আশা প্রকাশ করেছেন, কার্যক্রম অব্যাহত রাখার বিষয়ে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম: আউটসোর্সিংয়ে অসন্তোষ

২৫ বছর ধরে চলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধমূলক ‘মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’-এর মোট জনবল ৩৮১, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ২৬২ জন, নারী ১০২ জন।

২০২২ সালের জুনে ডানিডা প্রকল্প থেকে সরে যায়

ব্যয় কমিয়ে সরকার প্রকল্প চালু রাখে

বর্তমানে ৫৫৪ জনের নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সমন্বিত সেবা জোরদারকরণ এবং কুইক রেসপন্স টিম কার্যক্রম’ শিরোনামে

পুরোনো জনবলদের জন্য নতুন প্রকল্পে আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া

প্রকল্প পরিচালক যুগ্ম সচিব প্রকাশ কান্তি চৌধুরী বলেন, নতুন প্রকল্পের জনবল আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে।

তথ্য আপা প্রকল্প: ৭২ দিনের আন্দোলন

‘তথ্য আপা: ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে মহিলাদের ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পে ১ হাজার ৪৮৩ পদ রয়েছে, নারী ১ হাজার ১৭২।

৩১১ জন চাকরি ছেড়েছেন

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪৯৭ পদে কর্মী নিয়োগ

প্রকল্পের আওতায় তথ্যকেন্দ্র স্থাপন, প্রশিক্ষণ, সেবা ও সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে তথ্য আপা কর্মীরা রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় ৭২ দিন আন্দোলন করেন। ৭ আগস্ট শেষ পর্যন্ত আশ্বাস পেয়ে কাজে যোগ দেন।

তাদের নেতা সংগীতা সরকার জানালেন, জাতীয় মহিলা সংস্থাকে প্রস্তাব পাঠানোর আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, কোনো প্রস্তাব তৈরি হয়নি।