বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬
স্পটলাইট

শিশু-কিশোরদের বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে ইন্টারনেটে প/র্নোর সহজলভ্যতা

WhatsApp Image 2025-10-02 at 12.28.41_3c697cd5

‘কমিউনিটি বেইজড চাইল্ড প্রোটেকশন মেকানিজম ফর দ্য চিলড্রেন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কাস ইন বাংলাদশ’ শীর্ষক সেমিনারের তথ্য অনুযায়ী, শিশুরা তাঁদের অভিভাবক, শিক্ষক বা রক্ষক হিসেবে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেন তাঁদের দ্বারাই নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।

উন্নয়ন সংস্থা ‘টেরে ডেস হোমস্ নেদারল্যান্ডস’ (টিডিএইচ-এনএল), ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস) ও ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক) এই সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে আরও বলা হয়, এক থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জন শিশু শারীরিক শাস্তি বা মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।

সেমিনারে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন টিডিএইচ-এনএলের প্রোগ্রাম কো-অডিনেটর নূরুল কবির। তিনি বলেন, অনেক শিশুই তাদের পরিচয়ের অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশে ১০২টি শিশু আদালত রয়েছে। সেখানে কিশোর বিচারব্যবস্থায় শিশুদের জড়িত ২৩ হাজারের বেশি মামলা এখনো বিচারাধীন। ৭৫ ভাগ মেয়েশিশুর নির্যাতন বেড়েছে গত বছরের তুলনায়। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছে ৩০৬টি।

তিনি আরও বলেন, ইন্টারনেট যেমন আমাদের তথ্য ও শিক্ষালাভের সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্টের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট এখন সহজলভ্য হয়েছে। আর এই সহজলভ্যতা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইন্টারনেটের জগৎ নানা প্রলোভন ও হয়রানির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য। যা তাদের অনেক সময় বিপদগ্রস্ত করে আবার এর নানামুখী অপব্যবহার শিশুদের বিপজ্জনক পরিণতি বয়ে আনে। যা তাদের ব্যক্তিত্ব বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যা দীর্ঘমেয়াদি।

নূরুল কবির বলেন, তবে তাঁদের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের সন্তানেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে। তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের শিশুরা অধিকাংশই নিজস্ব বা সমাজভিত্তিক কোনো শিশু সুরক্ষাব্যবস্থার আওতায় নেই। ফলে তারা নানাভাবে নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয়। তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় ফলে তাঁরা কম মজুরির ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ে। এমনকি নানা অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ে যেমন- চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবহার ও যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধে। এসব শিশুদের জন্য সরকারি সেবা যথেষ্ট নয়। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয় না। ফলে এসব শিশু মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

সেমিনারে বেশ কিছু সুপারিশ উত্থাপিত করা হয়। সুপারিশে বলা হয়, পোশাকশ্রমিকদের শিশুরা যেহেতু নির্যাতন ও শোষণের শিকার হয় তাই এসব প্রতিরোধে গার্মেন্টস শ্রমিকদের শিশুদের জন্য একটি শিশুবান্ধব সুরক্ষাকাঠামোর ধারণা তৈরি করতে হবে। পাইলট ভিত্তিতে কমিউনিটিভিত্তিক শিশু সুরক্ষাকাঠামো গঠন করতে হবে গার্মেন্টস এলাকায়।

এছাড়াও আইনপ্রযোগকারী সংস্থার মধ্যে একটি শিশুবান্ধব অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও একটি বিশেষায়িত শিশু সুরক্ষা ইউনিট প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্ষণ মামলার বিচার ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। একটি সমন্বিত জাতীয় শিশু সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এসময় সেমিনারে বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) নাঈমা হোসেন, পদ্মা অ্যাপারেলস ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জাবেদ হোসেন ভূঁইয়া, সহকারী কমিশনার ফারিয়া তাসনিম, জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা বেগম প্রমুখ।