বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

পুজোর স্মৃতি-শরতের আগমনী

পুজোর স্মৃতি-শরতের আগমনী

শরতের আগমনী শুভ্র মেঘের ভেলা, কাশের দোলা 

ভোরের শিউলি আর দুর্বাঘাসের বুকে কুয়াশার হালকা প্রলেপ জানান দেয় মা আসছেন–

এখন বড় বেলায় তো পুজোর তেমন আনন্দই পাই না ছেলেবেলার মতো!!স্মৃতির ভাঁরার থেকে কতো স্মৃতি মনে উঁকি দেয় -টেনে নিয়ে যায় শৈশব কৈশোরে – সবাই একসাথে পিঠাপিঠি ভাই বোন বন্ধু মহল ওফ্ জম্পেশ আড্ডা গল্প নাচ গান কে কাকে ছাড়িয়ে যায়! পুজো এলেই বন্ধুরা মিলে ঠিক করতাম কে কি পোশাক নিবে, বন্ধু তালিকায় ছিলো অকৃত্রিম কিছু নাম যাদের ঘিরে সময় কাটতো মধুর — জয়া ঝুমুর লক্ষ্মী রীতা এদের ঘিরেই এক ভুবন ভালোবাসার অমোঘ টানে যেনো সারাদিন কেমন এদের ঘিরেই-ঘুরেফিরে সকলে কারো না কারো বাড়িতে একসাথে হওয়া, একসঙ্গে মানে হাসি ঠাট্টা 

বার বার মনে হয় যদি আবার ফিরে পেতাম তাহলে কতো মজাই না হতো!পুজোর উঠোন আমাদের উঠোন লাগোয়া কালি মায়ের মন্দিরের উঠোনে পুজোর আয়োজন সেই দেড় দুই মাস আগে থেকে মূর্তির কারিগর এনে মুর্তি গড়া -তিল তিল উপভোগ করতাম কারিগরের হাতের যাদুকর কি সুন্দর অপূর্ব মায়ের মুখ খানি ফুঁটিয়ে তুলতো!

আজ মায়ের মূর্তির পাশে কার্তিক গণেশ তো কাল লক্ষ্মী সরস্বতী তারপর তাদের বাহন গুলো একে একে তৈরি হতো, সবচেয়ে মজার যে বিষয় মায়ের পায়ের নীচে অসুরের ভয়ংকর মূর্তি -দুপাশের উপর নীচের পাটির দু’টো করে দাঁত আর বিবৎস অট্টহাসির চিত্রপট — আজ ফিনিশিং তারপর রোদে শুকানো রঙ করা,, এবার মায়ের অলংকরণ জড়ি পাড় শাড়ি বিচিত্র ডিজাইনের গহনা দিয়ে মাকে সাজিয়ে তোলা –পাড়ার ছেলে মেয়ে বুড়ো বৃদ্ধ দল বেঁধে দেখতে আসা!

একসারি প্রস্থান তো আরেকদলের আগমন;সকলেরই মায়ের প্রতীক্ষাকাজ কতদূর এগিয়েছে আর কত বাকি এগুলো তো তদারকির বিষয় আছে – আর মাত্র এক সপ্তাহ দুসপ্তাহ করে করে একদিন দুদিনে এসে আনন্দটা দারুণ চমকের হয়!ঢাকির ঢাকে কাঠি পড়তেই পুরো পাড়ার খোকা খুকি ঝলমলে পোশাক আর মুখভর্তি অমলিন হাসি – এ আনন্দের যেনো শেষ নেই -দেখতে দেখতে কালই মহাষ্টমী পুজো!

আমরা বন্ধুরা আগেই ঠিক করে রাখতাম কে কোন দিন কি কালারের ড্রেস পরবো গয়না দুল চুড়ি সব ম্যাচিং ম্যাচিং ড্রেস সাঝ-সজ্জার বিষয়টি! অঞ্জলি পর পর তিন দিনই দিতাম উপোস করে কখনো বা শুধুই অষ্টমী পুজোয়! বন্ধুরা মিলে শাড়ী পরার সেকি ধুম! আমাদের ঘর থেকেই সকলে জানালা অথবা দরজার চেয়ার পেতে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে পুজো দেখতাম কচিকাঁচার তারপর ইয়াং মধ্যম থেকে বুড়োর নাচ! কচিকাঁচা গুলোর সাঁজও আমাদের ঘরেই হতো ছোট বোন এদের মেকআপ থেকে শুরু করে শাড়ি পরানো সব করে দিতো!আমরা বান্ধবীদের সঙ্গে রাত ন’টা দশটা থেকে বড়জোর ১টা থেকে ২টো পর্যন্তই দেখতে পেতাম তারপর যার যার বাড়ি যাওয়ার ব্যস্ততা গার্ডিয়ানের তাড়া — তবে কখনো কখনো এই ছক উল্টো করে দিতাম রিকুয়েষ্ট করে মা মাসিদের থেকে সময়টা বাড়িয়ে নিতাম নবমী দশমী পুজোতে, আমাদের বান্ধবী জয়ন্তী (জয়া) নাচে দুই দুই বার জয়ী হয়েছে, পুরস্কারও জিতেছে।

আমাদের কি মহা খুশির বান, সবাই তো নাচতাম না লজ্জা জড়তা কাটিয়ে উঠতে পারতাম না!যাক জয়া আমাদের বন্ধু মহলে মান রেখেছে!দশমীর দিনে সকলের মন খারাপ মায়ের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে। মায়ের বিসর্জন ভোর বেলায় হতো বিষাদগ্রস্থ থমথমে পরিবেশ কান্না কাটি! আমাদের পুকুরেই বিসর্জন হয় ;বিসর্জন শেষে সকলে কাঁদা মাখা রং খেলা নারকেল মুড়ি খাওয়া দুপুরে খিচুড়ি প্রসাদ এভাবেই ছোটবেলার পুজোর আনন্দ সবাই একসাথে ভাগ করে নিতাম।