শারদের ফ্যাশন ফিউশন

এই বছর আশ্বিনের মাঝামাঝি পুজোর ঢাক বেজে যাচ্ছে। দেবী এবার আসছেন আশ্বিনের প্রিলিউড নিয়ে। তাই ফ্যাশন নিয়ে কিঞ্চিৎ এক্সপেরিমেন্ট করাই যায়। এখন আর চার বা পাঁচ দিন নয়, মহালয়া থেকেই মোটামুটি পুজোর আমেজে ঢুকে পড়ে বাঙালির মনে। আর সে আমেজ যে বেশ জোরালো, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এই পাঁচ দিনে আপনার জন্য রইল ট্রেন্ডি ফ্যাশন ফিউশন ফাইল-
ফিউশন ফ্লেয়ার
অ্যাসিমেট্রিক্যাল কাটের স্যাটিন ফ্যাব্রিকের লং স্কার্টের সঙ্গে বেছে নিন গাঢ় রঙের ক্রপ টপ। স্কার্টের রঙ হোক প্যাস্টেল বা স্নিগ্ধ মিন্ট গ্রিন, ল্যাভেন্ডার কিংবা পিচ। টপে থাকতে পারে সিকুইনের বা এমব্রয়ডারির ছোঁয়া। এর সঙ্গে টিম আপ করুন অক্সিডাইজড বা জাঙ্ক জুয়েলারি চোকার, স্টেটমেন্ট ইয়াররিং, আর ব্যাগের জায়গায় একটা মিনিমাল পটলি ব্যাগ।
এই মুহূর্তে ট্রেন্ডিং ফ্লোয়ি শ্রাগ, যেটি আপনার সাধারণ সাজকে মুহূর্তেই করে তুলবে ড্রামাটিক। এর সঙ্গে ট্রাই করুন ফ্রিল দেওয়া ড্রেপড শাড়ি বা সিকুইন ওয়ার্কের কর্সেট টপ। চাইলে বেছে নিতে পারেন স্যাটিন বা জর্জেট ফ্যাব্রিকের প্লিটেড লং স্কার্ট, সঙ্গে ম্যাচিং বা কনট্রাস্ট বুস্তিয়ার।
ধুতি প্যান্ট ও কোর্ট স্টাইল ব্লাউজ: একটা ওভারল্যাপ কোট বা জ্যাকেট ব্লাউজ ধুতি প্যান্টের সঙ্গে দারুণ মানাবে। তার উপর হালকা ওয়ার্কের একটি ওড়না নিলেই লুক সম্পূর্ণ।

ট্র্যাডিশনাল ফ্যাশন
আনারকলি কুর্তিগুলোতে যেমন থাকে রাজকীয় ঘের আর মসৃণ ফ্লো, তেমনি এতে ফুটে ওঠে নারীর কোমলতা ও আত্মবিশ্বাস। দীর্ঘ ও ঘেরওয়ালা এই পোশাক আজকালকার ফিউশন ফ্যাশনের সঙ্গেও অসাধারণভাবে মানিয়ে যায়।
লেহেঙ্গা এখন আর শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। নানা কাট ও কাজের লেহেঙ্গা এখন ককটেল পার্টি, রিসেপশন এমনকি উৎসব আয়োজনেও স্টাইল স্টেটমেন্ট হয়ে উঠেছে। চনকচনে রঙ, সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি ও আধুনিক টাচ লেহেঙ্গাকে করে তুলেছে আন্তর্জাতিক র্যাম্পেরও পরিচিত মুখ।
রাজস্থানি ঘাগরার স্টাইল থেকে অনুপ্রাণিত তা এখনকার তরুণীরা ক্যাজুয়াল থেকে শুরু করে ফরমাল যেকোনো লুকে পরছেন। হালকা ফ্যাব্রিক ও প্রিন্টে তৈরি এই জামাগুলো যেমন আরামদায়ক, তেমনি নান্দনিক।

ওয়েস্টার্ন এক্সপেরিমেন্ট
এক্সপেরিমেন্টাল প্যাটার্নের ওয়েস্টার্ন কালেকশন পুজোয় সবসময়ই বেশ ট্রেন্ডি। যেমন হল্টার নেক জাম্পসুট। কোনওটার কোমরে কাট আউট প্যাটার্ন, কোনওটা বা ওয়ান শোল্ডারড কাট আউট স্টাইলে। কুন্দনের গয়নার সঙ্গে ইন্দো ওয়েস্টার্ন লুক তৈরি করতেই পারেন।
ফ্যাশন ট্রেন্ডে এখন ইন টিউল ও ফেদার ড্রেস। রেড কার্পেটও এখন সেই কথাই বলে। ট্রাই করতে পারেন অফ শোল্ডার শর্ট টিউল ড্রেস। সফট কার্ল হেয়ার ও নিউট্রাল মেক আপে ফ্যাশনেবল বার্বি লুক।

অ্যাবস্ট্র্যাক্ট প্রিন্ট
এবার আসা যাক অ্যাবস্ট্র্যাক্ট প্রিন্টের কথায়। আজকের আধুনিকারা গতে বাঁধা ছক ভাঙেন। চোখ বুজে চিরাচরিত নিয়মে চলা তাঁদের এক্কেবারে না পসন্দ। অথচ ডিসিপ্লিন কিন্তু নড়চড় হয় না এতটুকুও। অ্যাবস্ট্র্যাক্ট প্রিন্ট সেই গল্পই বলে। এবারের পুজোর ফ্যাশনে তাই এই প্রিন্ট এখন দারুণ ট্রেন্ডি।
তবে এই পোশাকের সঙ্গে একাপেরিমেন্টাল মেকআপ এবং অন্যান্য অনুষঙ্গ কিন্তু মাস্ট। বেছে নিতে পারেন মাল্টিকালার অ্যাবস্ট্র্যাক্ট প্রিন্টেড এইরকম প্যান্টসুট। কিংবা ব্রাইট পপ আপ কালারের কম্বিনেশনে মিড লেংথ ড্রেস। সঙ্গে রং অনুসারে প্যান্টস। নিয়ন জুতো, জুয়েলারিতে কমপ্লিট লুক।

আরাম আয়েশ
আসলে পুজোর সময় নতুন জামা বাঙালির কাছে পুজোর লাড্ডুর মতোই মিষ্টি ও অবিচ্ছেদ্য বছরের এই বিশেষ সময় আলমারি সেজে উঠবেই কয়েক ধরনের পোশাকে। বিশেষ করে যেটা সে বছরের ট্রেন্ড, সেটাই আসলে হয়ে দাঁড়ায় ‘পুজোর ফ্যাশন’। বছর কয়েক ধরে আমজনতার রুচি যে পথ নিয়েছে, তাতে ছিমছাম সাজেরই আবাহন। একটা সময় ছিল যখন পুজো মানেই জমক। জ়ারদৌসি, জ়রির কাজ, সিন্থেটিকের মতো মেটিরিয়ালের আতিশয্য। সে সব সরিয়ে এখন রাজত্ব করছে খাদি, লিনেনের মতো হ্যান্ডওভেন মেটিরিয়াল এবং এমব্রয়ডারি বা কাঁথা স্টিচের মতো সুতোর কাজ। অনুষ্ঠান মানেই গাঢ় রঙের পোশাক নয়। বদলেছে ভাবনা। তাই পুজোতেও পাউডার ব্লু, পেল পিঙ্ক, বেজ-এর মতো ‘হালকা’ রং পছন্দের তালিকায় এগিয়ে। আসলে যা কিছু আরামদায়ক, মেটিরিয়াল হোক বা রং ক্রেতার চোখে সকলই শোভন।



