বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনসোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
এডিটরস পিক

বারো মাসের বারো রূপে দেবীদূর্গা

IMG_1831

মা দুর্গার অনেক রূপ রয়েছে। নানান সময় নানান রূপে পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য মা দুর্গা মর্ত্যলোকে আসেন। তবে দশভুজা রূপে মা দুর্গা শরতকালের দুর্গা রূপে মর্ত্যলোকে আসেন। তবে ভক্তের ডাকে দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকের যে-কোনো স্থানে নানারূপে আবির্ভূত হন। মা দুর্গা সবসময় আমাদের মধ্যেই বিরাজ করে। তবে পৃথিবীতে যখন শান্তির ব্যাঘাত ঘটে তখন মা দুর্গা সেই শান্তিকে রক্ষা করতে এবং কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে নানান রূপে নানান সময় আসেন।

দুর্গা মায়ের চিরায়ত দশভুজা রূপ ছাড়াও মায়ের আরও বারো মাসে,  বারোটি রূপ আছে, যখন যেরূপে আবির্ভূত হওয়া দরকার, দেবী দুর্গা সেরূপেই আবির্ভূত হয়ে থাকেন। দেবী দুর্গার বারোটি রূপের সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় নেই। সব রূপেই দেবী মহাশক্তির আধার, প্রতি রূপেই দেবী মাতৃরূপা, কল্যাণময়ী, অশুভ শক্তি বিনাশিনী দেবীর অনেক রূপের মাঝে বারোটি রূপ বিশেষভাবে, বিশেষ লগ্নে পুজিত হয়ে থাকে।

বৈশাখ – দেবী গন্ধেশ্বরী, জৈষ্ঠ্য – দেবী ফলহারিনী, আষাঢ় – দেবী কামাখ্যা, শ্রাবণ – দেবী শাকাম্ভরী, ভাদ্র – দেবী পার্বতী, আশ্বিন – দেবী দুর্গা, কার্তিক – দেবী জগদ্ধাত্রী, অগ্রহায়ণ – দেবী কাত্যায়ানী, পৌষ – দেবী পৌষকালী, মাঘ – দেবী রটন্তীকালী, ফাল্গুন – দেবী সঙ্কটনাশিনী, চৈত্র – দেবী বাসন্তী  রূপে দেবী দুর্গা দেবকুল, সাধককুল, ভক্তকুলে এইভাবেই পুজিত হয়ে থাকেন।

১- বৈশাখ মাসে দেবী দুর্গার গন্ধেশ্বরী রূপ এক বিশেষ এবং পূজার যোগ্য রূপ, যিনি এই মাসে ভক্তদের জন্য আশীর্বাদ প্রদান করেন সুগন্ধ, পবিত্রতা, ও শুভ শক্তির মাধ্যমে। গন্ধেশ্বরী রূপে দেবী মূলত প্রকৃতির সৌন্দর্য, সুবাস ও স্নিগ্ধতার আধার হিসেবে বিবেচিত হন। প্রচলিত লোকবিশ্বাস ও তন্ত্রশাস্ত্রে দেবী গন্ধেশ্বরী মূলত ত্রিপুরাসুন্দরীর বা দুর্গার এক অভিজাত রূপ, যিনি বৈশাখের তাপতপ্ত পরিবেশে শান্তি, শীতলতা এবং সৌন্দর্য নিয়ে আসেন।

গন্ধেশ্বরী রূপে দেবীর কান্তি সোনালি বা কুমকুম রঙের মতো উজ্জ্বল। তাঁর শরীর থেকে অনবরত সুবাস নির্গত হয় – যেমন চন্দন, অগরু, কস্তুরি, ও অন্যান্য পবিত্র গন্ধ।

তিনি চার বা আট বাহু বিশিষ্ট হতে পারেন, এবং তাঁর হাতে থাকতে পারে পদ্ম, চন্দনের পাত্র, মণিময় গন্ধধূপ, এবং অভয়মুদ্রা। তাঁর বাহন সাধারণত সিংহ বা হংস (গভীর অর্থে জ্ঞান ও শক্তির সমন্বয়)।

বৈশাখ মাসকে গ্রীষ্মের প্রারম্ভ ও প্রকৃতির পরিপূর্ণ বিকাশের সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময়ে দেবী গন্ধেশ্বরী রূপে ভক্তদের জীবনকে সৌরভময় ও কল্যাণময় করে তোলেন। শাস্ত্রমতে, এই রূপে দেবী দেহ ও মনের অশুচিতা দূর করে, সুগন্ধ, পবিত্রতা এবং ঈশ্বর-চিন্তাকে জাগ্রত করেন।

২- জ্যৈষ্ঠ মাসে দেবী দুর্গার এক গুরুত্বপূর্ণ রূপ হলেন ফলোহারিণী বা ফলহারিণী দেবী। এই রূপে তিনি ফলের মতো মিষ্টি ও পুষ্টিদায়ক ফলাফল প্রদানকারী, কর্মফলের নিয়ন্ত্রী ও ভক্তদের জীবনে সাফল্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি আনয়নকারী দেবী হিসেবে পূজিতা হন।

অর্থাৎ, ফলোহারিণী হলেন সেই দেবী যিনি ভক্তদের পুণ্যকর্মের ফল প্রদান করেন এবং কু-কর্মের দুঃখ মোচন করেন। তিনি দাতা ও নিয়ন্ত্রিকা জীবনের সমস্ত ফলাফলের।

পটচিত্র বা মৃন্ময়ী প্রতিমায় তাঁকে ফলের গাছের নিচে বসে থাকতে দেখা যায়, আশেপাশে নানা প্রকার ফলমূল থাকে যেমন আম, কাঁঠাল, লিচু, জাম প্রভৃতি, যা জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রচুর ফলে।

জ্যৈষ্ঠ মাসে গ্রীষ্ম তীব্র হলেও ফলের প্রাচুর্যে ভরা—এ সময় প্রকৃতি যেমন ফলদায়ী, তেমনই দেবীও কর্মফল দান করেন।

ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই মাসে দেবী ফলোহারিণী সন্তুষ্ট হলে তাদের পূর্বকৃত সৎকর্মের সুফল পাওয়া যায় এবং কষ্ট লাঘব হয়।

পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা অঞ্চলে “ফলহারিণী কালী ব্রত” প্রচলিত, তবে এটি দেবী কালীকে ফলোহারিণী রূপে পূজার এক রূপভেদ।

দুর্গার ফলোহারিণী রূপে গৃহস্থ নারীরা বিশেষত জ্যৈষ্ঠের শুক্লপক্ষের নির্দিষ্ট তিথিতে (বিশেষ করে আমাবস্যার পর) এই ব্রত পালন করেন। পূজায় ফল, চাল, দুধ, চিনি, ও মিষ্টি বস্তু নিবেদন করা হয়।

 তিনি যেন মহাজাগতিক ন্যায়ের প্রতীক—যিনি পুণ্যকে পুরস্কার দেন, এবং পাপকে বিনাশ করেন, কিন্তু সবই করুণা ও শিক্ষা দিয়ে। তাঁকে আরাধনা মানে নিজের কর্মে শুদ্ধতা আনা, ধৈর্য রাখা, এবং ভালো ফলাফলের আশায় পরিশ্রম করা।

৩- আষাঢ় মাসে দেবী দুর্গার এক অতি গূঢ়, তান্ত্রিক ও মহাশক্তিশালী রূপ হলেন দেবী কামাখ্যা। এই রূপে তিনি সৃষ্টি, রক্ষা ও প্রলয়ের আদিশক্তি, যোনিতত্ত্ব ও কুণ্ডলিনীর উৎস, এবং সকল কামনা ও শক্তির নিয়ন্ত্রী। দেবী কামাখ্যা মূলত তন্ত্রসাধনার কেন্দ্রবিন্দু এবং শাক্ত উপাসনার এক অত্যন্ত পবিত্র ও রহস্যময় রূপ।

 কামাখ্যা হলেন সেই দেবী, যিনি কামনাকে রূপদান করেন, আবার যাঁর প্রকৃত স্বরূপ গূঢ় ও অলৌকিক।

দেবী কামাখ্যা সাধারণত গভীর রক্তবর্ণা (রক্তবর্ণ) বা কালচে লালাভ কান্তি সম্পন্না। তাঁর হাতে অস্ত্র ও পুণ্যচিহ্ন থাকে  যেমন খড়গ, পাত্র, পদ্ম, ত্রিশূল, চক্র, মুণ্ডমালা ইত্যাদি।

তিনি বসে থাকেন পঞ্চমুণ্ড আসনে, যা মহাজ্ঞান ও পঞ্চতত্ত্বের প্রতীক। দেবীর চক্ষু তেজোময়, মুখ গম্ভীর ও মাতৃস্নেহময়, আবার রুদ্ররূপও ধারণ করেন।

কামাখ্যা শুধুই কামনা বা যৌনতার প্রতীক নন, বরং আত্মজাগরণ, সৃজনশক্তি ও জীবনের মূলচক্রকে চিহ্নিত করেন। তন্ত্র মতে, তিনি নিজেই শিবকে সচেতন করেন, অর্থাৎ শক্তি ছাড়া শিব নিষ্ক্রিয়।

৪- দেবী দুর্গার শ্রাবণ মাসে পূজিত এক বিশেষ রূপ হলেন দেবী শাকম্ভরী।  এই রূপে তিনি ভক্তদের আহার, পুষ্টি ও জীবনের ধারক শক্তি হিসেবে প্রকাশিত হন। দেবী শাকম্ভরী মূলত শাক, ফল, মূল ও শস্য দিয়ে জীবজগৎকে রক্ষা করেন। তিনি প্রাচীন ভারতীয় কৃষিভিত্তিক সমাজের দেবী এবং বিশেষত দুর্ভিক্ষ ও খাদ্যসংকট থেকে রক্ষাকারিণী।

দেবী শাকম্ভরী সাধারণত নীলাভ বা সবুজাভ কান্তিযুক্তা। সাধারণত চার বাহু বিশিষ্ট এক হাতে শাকের ঝুড়ি বা শস্যপূর্ণ পাত্র, আর এক হাতে পানি বা অমৃতপাত্র, অপর দুই হাতে অস্ত্র  যেমন খড়গ বা ত্রিশূল (অশুভ শক্তির বিনাশকারী রূপে)। 

এক সময় পৃথিবীতে দীর্ঘকালীন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। অশুভ শক্তি মানুষের সমস্ত খাদ্যসম্পদ ধ্বংস করে ফেলে।

ভুক্তভোগী মানবজাতি যখন পূজায় দেবীর শরণাপন্ন হয়, তখন দেবী দুর্গা রূপান্তরিত হন শাকম্ভরী রূপে।

দেবী শাকম্ভরী হলেন জীবনের ধারক। তিনি শুধু শারীরিক খাদ্য নয়, বরং আধ্যাত্মিক পুষ্টিও প্রদান করেন।

শ্রাবণ মাসে তাঁর পূজা মানে প্রকৃতিকে সম্মান করা, কৃষিজীবনকে গুরুত্ব দেওয়া, এবং সর্বজীবের কল্যাণে অন্ন, জল ও শান্তির প্রার্থনা করা।

৫- ভাদ্র মাসে দেবী পার্বতী রূপে দুর্গা পূজিতা হন এক তপস্বিনী, করুণাময়ী মা, এবং জীবনের সহচরী শক্তি হিসেবে।

তাঁর পূজার মাধ্যমে মানুষ শিক্ষা পায় তপস্যা, ভালোবাসা, আত্মসমর্পণ ও গৃহস্থ ধর্ম পালন করতে।

এই মাসেই অনেক স্থানে উমার তপস্যা, গণেশের জন্ম, এবং বিবাহ প্রস্তুতির আধ্যাত্মিক রূপক ঘটে। এ সময় দেবী মূলত ঘরোয়া, শান্ত, গৃহলক্ষ্মীর মতো পূজিতা হন।

দেবী পার্বতী গৌরবর্ণা বা উজ্জ্বল কান্তিময়ী, শান্ত ও মাতৃময় চেহারা।

সাধারণত তিনি চতুর্ভুজা বা দু’ভুজা রূপে দেখা দেন। হাতে থাকে পদ্ম, জপমালা, অভয়মুদ্রা, ও বরমুদ্রা। কখনও হাতে থাকে গৃহকর্মের প্রতীক – যেমন কলস, অন্নপাত্র ইত্যাদি। তিনি শ্বেত বা লাল বস্ত্র পরিধান করেন। কপালে তিলক, গলায় রত্নহার, ও মুখে স্নেহময় হাসি থাকে।

৬- আশ্বিন মাস হল হিন্দু বর্ষপঞ্জির সবচেয়ে পবিত্র মাসগুলোর একটি, কারণ এই মাসেই অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা—যেটি দেবী দুর্গার সবচেয়ে জনপ্রিয়, সর্বজনীন ও শক্তিশালী রূপের পূজা।

এই সময় দেবী দুর্গা আসেন মহিষাসুরমর্দিনী রূপে—অর্থাৎ সেই রূপে, যেখানে তিনি অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ধর্ম ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আশ্বিন মাসে দেবী দুর্গার রূপ চূড়ান্তভাবে শক্তিশালী, মাতৃসুলভ, রক্ষাকরী ও ধর্মসংস্থাপনকারী।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়।

মূলত কথামতে, রামচন্দ্র শারদীয় সময়ে অকালে দুর্গার পূজা করেন রাবণ বধের পূর্বেএই জন্যই একে “অকাল বোধন” বলা হয়। এই রূপে তিনি অশুভের বিরুদ্ধে শুভ, ভয়ের বিরুদ্ধে সাহস, এবং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলো।

৭- কার্তিক মাসে দেবী দুর্গার এক বিশেষ ও অত্যন্ত শুভ রূপ হলেন দেবী জগদ্ধাত্রী। তিনি মূলত শক্তির, শান্তির, ধৈর্যের এবং আত্মশুদ্ধির দেবী। দেবী জগদ্ধাত্রী হলেন সেই মাতৃরূপা, যিনি জগৎকে ধারণ করেন, সকলকে আশ্রয় দেন, এবং অহংকার বিনাশ করে ভক্তের মধ্যে দয়া, সহানুভূতি ও আত্মবিশ্বাসের শক্তি জাগিয়ে তোলেন।

দেবী জগদ্ধাত্রী পূজা সাধারণত কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে পালন করা হয়—দুর্গাপূজার ঠিক এক মাস পর। জগদ্ধাত্রী মানে “যিনি সমগ্র জগৎকে ধারণ করেন ও পালন করেন”।

কার্তিক মাসে দেবী জগদ্ধাত্রী রূপে দেবী দুর্গা পূজিতা হন এক আধ্যাত্মিক মাতৃরূপে, যিনি অহংকার দমন করেন, বিশ্বকে ধারণ করেন, এবং ভক্তকে আত্মজয়ী করে তোলেন।

৮- অগ্রহায়ণ মাসে দেবী দুর্গার একটি বিশেষ রূপ দেবী কাত্যায়নী হিন্দু ধর্মে বিশেষভাবে পূজিত হন। এই দেবীর আরাধনা প্রধানত নবরাত্রি‑র ষষ্ঠ দিনে হয়ে থাকে, কিন্তু কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস ও স্থানীয় লোকাচারে, বিশেষ করে কৃষ্ণভক্তি এবং রাধা-কৃষ্ণ লীলা‑সম্পর্কিত অঞ্চলে, অগ্রহায়ণ মাসেও দেবী কাত্যায়নীর পূজা হয়।

দেবী কাত্যায়নী হলেন অষ্টম মহাবিদ্যা বা দুর্গার একটি রূপ। তিনি হলেন শক্তির রূপ  যিনি অসুরনাশিনী, বিশেষ করে মহিষাসুরের বিনাশ করেন। তাঁর নাম এসেছে ঋষি কাত্যায়নের নাম থেকে, যাঁর আশ্রমে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

৯- পৌষ কালী”কে সাধারণভাবে কালী দেবীর ওই রূপ হিসেবে ধরা যেতে পারে যেখানে ঋতু ও কৃষি, শীতকালীন আবহ এবং লোকমুখের ভক্তি মিলেমিশে তৈরি হয়েছে একটি উৎসব আচার। 

শীত ও খরা, ফসল কাটার পরের অবস্থা, সংগ্রহ ও ধান‑ধান্যের প্রচুরতা ইত্যাদি সব মিলিয়ে মানুষের কাছে “কৃষির সমৃদ্ধি ও রক্ষাকর্ত্রী” দেবীর ভক্তি বাড়ে। কালীকে নাম দেওয়া হয় শক্তির রূপ হিসেবে, অন্ধকার, শত্রুতা, ভয় ও অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষার প্রতীক। “পৌষ কালী” এই চাহিদা ও ভক্তি পূরণ করে থাকতে পারে।

১০- রটন্তী কালী হল মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কালী পূজা। 

“রটন্তী” শব্দটি এসেছে ‘রটনা’ থেকে, যার অর্থ “প্রচারিত হওয়া”, “রটে যাওয়া” ইত্যাদি। ধারণা আছে, এই পূজার কথা ত্রিলোকজুড়ে “রটে যায়” অর্থাৎ, এর মাহাত্ম্য বহু লোক‑মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।  মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় রতন্তী কালীপূজা।  অমাবস্যার এক দিন আগে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজা রাতভর চলে, অর্থাৎ সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় পণ্ডিত‑আচার পালন হয়। 

১১- মাঘ মাসে দেবী   সঙ্কটনাশিনী হলো সেই মহান মাতৃরূপ, যিনি অভিশপ্ত ও বিপদগ্রস্ত জীবনের সকল দুঃখকষ্ট, ভয়, অভাব ও বিপদ নাশন করেন। তাঁর পূজা মাঘ মাসে বিশেষভাবে হয় এবং ভক্তেরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করেন সঙ্কট মুক্তি, শান্তি, ধর্ম ও দৃষ্টিভঙ্গায় দৃঢ়তার জন্য। যদিও নির্দিষ্ট পুরাণে তাঁর জন্মকথা কম পাওয়া যায়, প্রতিদিনের ভক্তিসাধনায় তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সহানুভূতিশীল রূপে বিশ্বাস করা হয়।

সাধারণত দেবী দুর্গা বা দেবী কালীর একটি রূপ/উপাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কারণ দুর্গা/কালীই সব বিপদ বিনাশিনীরূপে পরিচিত। 

১২- চৈত্র মাস, অর্থাৎ বাংলা বছরের শেষ মাস , তখন নববর্ষ আসন্ন, প্রকৃতি ফোটে ফুলে‑ফসলে। এই সময়েই হয় বাসন্তী পূজা, যেখানে দেবী দুর্গার এক নবীন, কোমল কিন্তু একই সঙ্গে শক্তিশালী রূপে পূজা করা হয়।

রামচন্দ্র রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে শরৎকালের পরিবর্তে চৈত্র মাসে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন, যা “অকাল বোধন” নামে পরিচিত। শরতের আগেই দেবীকে জাগিয়ে তিনি বিজয় অর্জন করেছিলেন।

ঐতিহাসিকভাবে, এই পূজা আগে চৈত্র মাসেই হতো, পরে শরৎকালে দুর্গাপূজা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বাসন্তী পূজা সেই প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা, যা আজও পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও ভারতের নানা অংশে পালিত হয়।

পূজা চলে ৫ দিন ধরে – প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত।

দেবী দুর্গার অকাল বোধন, অধিবাস, আমন্ত্রণ, স্নান, পূজা, অঞ্জলি, অর্চনা, আরতি ও বিসর্জন – সব পূজার্চনার নিয়ম পালন করা হয়। ঘট স্থাপন একটি জলভর্তি কলস, যার ওপরে নারকেল ও আম্রপল্লব থাকে – এই ঘটেই দেবীর অস্থায়ী বাস।

ভোগ নিবেদন বাসন্তী পূজায় ভোগ হিসেবে থাকে ফল, চাল, দুধ, ঘি, সন্দেশ, এবং নিরামিষ খাদ্য