বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন করে দায়িত্ব থেকে মুক্তি চাই: সুশীলা কার্কি

susila akj

ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন করে দায়িত্ব থেকে মুক্তি চান বলে জানিয়েছেন, নেপালের অন্তর্বতীকালীন প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি। আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন। 

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ছয় মাসের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন, জেন জি-র আন্দোলন চলাকালীন হত্যা ও সহিংসতার তদন্ত এবং আগের সরকারের ব্যাপক দুর্নীতির তদন্তসহ নানা বিষয়ে সুশীলা কার্কি কথা বলেছেন বিবিসির নেপালি বিভাগের বিনিতা দাহালের সঙ্গে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কি দায়িত্ব নেওয়ার পর গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিবিসি তার কাছে জানতে চেয়েছিল সময়মতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে কী কী চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে?

সুশীলা কার্কি এর জবাবে বলেন, আমি দিনে ১৮ ঘণ্টা কাজ করবো। সাধারণ মানুষের চাপের মুখে এই সরকার গঠিত হয়েছে। আমি আমার দায়িত্ব ছয় মাসের মধ্যে শেষ করে পদ থেকে সরে যেতে চাই। আগামী কয়েক দিনে নির্বাচন কমিশনকে সক্রিয় করে তুলবো আমরা। প্রথমত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। পুরোনো ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। যদি দিনরাত কাজ করতে পারি তাহলে ছয় মাসে সেটা করা সম্ভব। যেদিন আমি ক্ষমতা হস্তান্তর করে দেব, সেদিন থেকে আমি মুক্ত।

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত
দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত করার জন্য কোনো কমিশন গঠনের পরিকল্পনা আছে কি না সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সুশীলা কার্কি বলেন, প্রথমে ১০-১১ জন সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। কয়েক দিনের মধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে। কেমন দুর্নীতি হয়েছে, সেটা আগে জানা প্রয়োজন। আমরা যদি তদন্ত শুরু করতে পারি, পরবর্তী সরকারও সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যতদিন না তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ততদিন পর্যন্ত এই জাতি শান্তি পাবে না। তাই আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি।

সম্পত্তি ও প্রাণহানির ঘটনা তদন্ত
জেন জি-র আন্দোলন চলাকালীন নেপালে যেসব সম্পত্তি ও প্রাণহানির ঘটনা হয়েছে, তা তদন্তের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন করা হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিবিসি জানতে চেয়েছিল এটা কী ধরনের কমিশন হবে? তাদের কতদিন সময় দেওয়া হবে?

নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভায় আমরা মাত্র চারজন সদস্য আছি। আমাদের হাতে সময় রয়েছে ছয় মাস। এই ছয় মাসকে আমরা যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চাই। আমাদের পরিকল্পনা হলো ওই তদন্ত এক মাসের মধ্যে শেষ করার বা বড়জোর দেড় মাস। বিভিন্ন ক্ষেত্রের তিনজন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে এই তদন্ত চালানো হবে।

মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ
বিবিসির নেপালি বিভাগ মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিল সুশীলা কার্কির কাছে? কতজন মন্ত্রী থাকবেন? কাদের মন্ত্রী করার কথা ভাবছেন আপনি? মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি কি নিতে শুরু করেছেন?

এর জবাবে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌড়েল বলেছিলেন যে প্রতিটা রাজনৈতিক দল থেকে একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করতে। কিন্তু এটা অনুচিত হবে। মন্ত্রিসভা অরাজনৈতিক হওয়া উচিত এবং স্বতন্ত্র ব্যক্তিদেরই রাখা উচিত। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর সদস্য, নারী ও অনগ্রসর শ্রেণীর সদস্যদের যাতে যতটা সম্ভব রাখা যায়, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। অনেক নাম এসেছে। কিন্তু আমরা এটা যাচাই করে দেখছি যে তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কি না। যদি তা হয়, তাহলে আমরা তাদের বদলে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের আনার চেষ্টা করবো অথবা প্রাক্তন সচিব, আদিবাসী গোষ্ঠী, দলিত, নারী ও অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষদের নিয়ে আসা যেতে পারে।

মন্ত্রীসভায় শুধুই অ-রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কেন?
প্রেসিডেন্ট পরামর্শ দিয়েছিলেন যে যাদের অভিজ্ঞতা আছে রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যদের নেওয়া হোক, সেই পরামর্শ মানতে আপনি অস্বীকার করলেন কেন? এর জবাবে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি রাজনৈতিক সদস্যদের বেছে নেই তবে নির্বাচনের সময় তার অপব্যবহার হতে পারে। কারণ নির্বাচনের সময়েও মন্ত্রিসভার হাতে তো কিছু ক্ষমতা থাকবে।

মন্ত্রীদের কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে?
নেপালের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলছে এখন। এ বিষয়ে বিবিসি সুশীলা কার্কির কাছে জানতে চেয়েছিল যে, রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধা আছে যে তারা পরামর্শ নিতে পারে, যেটা আপনার নেই। তাহলে বাছাই প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে?

এর জবাবে সুশীলা কার্কি বলেন, আমাদের কিছু বন্ধু আছেন, যারা আমাদের সঙ্গে কাজ করছেন। আমরা তাদের পরামর্শ নিচ্ছি আর মাঠ পর্যায়েও কাজ করছি আমরা। আবার ওই ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে যে মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে তার সদিচ্ছা আছে কি না। তিনজন সদস্যকে আমরা এরই মধ্যে নিযুক্ত করেছি। বাকিদের আমরা মঙ্গলবারের মধ্যে চূড়ান্ত করে ফেলব। এটা একটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া। ভারতে টিএন শেষন (ভারতের সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার) যেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতেন, সেভাবেই ভোট হওয়া উচিত। প্রতিটা বিষয় আইন আর নিয়ম অনুযায়ী হবে। কোনো ত্রুটি যাতে না থাকে। একটা সুষ্ঠু সরকার গঠিত হোক। আমরা সবাই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি যেন ভোটের পরে একটা সুষ্ঠু সংসদ গঠন করা যায়।

এরই মধ্যে বিরোধিতা
যে জেন জি আন্দোলনকারীরা নতুন একটি সরকারের, প্রশাসনের দাবি তুলেছিল, তাদের একাংশের মধ্যে থেকেই সুশীলা কার্কির বিরোধিতা করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে বিবিসি তার কাছে জানতে চেয়েছিল। একটা নতুন সরকারের দাবি যে গোষ্ঠী তুলেছিল, তারাই আবার প্রতিবাদ করছে। এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করার পরিকল্পনা করছেন আপনি?

তিনি বলেন, তাঁরাই সরকার গঠনের জন্য আমাদের নাম প্রস্তাব করেছিল। আমরা তো পদ চাইনি। এটা আমাদের সিদ্ধান্তও ছিল না। যখন ৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদের হত্যা করা হলো আমরা এতটাই মন:ক্ষুণ্ণ হয়েছিলাম যে ব্যাপক দুর্নীতি, অর্থনৈতিক বেনিয়ম আর সুশাসনের অভাব নিয়ে ওরা যে দাবিগুলো তুলছিল, তা পূরণ করতে চেয়েছিলাম আমরা। হয়তো সবগুলো দাবি পূরণ করা সম্ভব না হলেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আমরা সব দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো কিন্তু যদি কিছু অপূর্ণ থেকে যায় তাহলে পরবর্তীতে নির্বাচনের পরে সরকার সেগুলোর দায়িত্ব নেবে।