তুমি কুয়াশা হলে

আকাশ ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়
মাটি করছে বৃষ্টির জল আহার,
পাহাড় পথে হাটছি স্বচ্ছ দিগন্তের খোঁজে
বাঁশের ঘর থেকে আসে আনন্দের সুবাস
মোমের আলোয় জেগে থাকে চারপাশ,
মেঘাচ্ছন্ন সন্ধ্যায় বৃষ্টির ছায়ায় পাহাড়ি রাস্তা
নিশ্বাসের চারিপাশে শীতল স্পর্শের আস্থা,
জোনাকির ডাকে গভীর হয় রাত
আকাশের দিকে বাড়িয়ে আকুতির দু’হাত,
মেঘ ঢেকে রেখে চাঁদের গায়ের কালো দাগ
অবাক আলোয় ভাসিয়ে প্রিয়তমার প্রতি সব রাগ,
জেগে থেকে কি হারিয়ে কি খোঁজার তালাশ
দেয়ালের গায়ে রেখে এসেছি নিহত ছায়ায় হতাশ,
সত্তা কঠিন হিসেবে সংকুচিত হয় শিরদাঁড়ায়
দূর থেকে প্রিয়জনদের হাসি এসে পাঁজর কাপায়,
নিঃশব্দে ঝরে পড়ে গাছের পাতার ভেতরকার কথা
একাকীত্বের পাহাড় পায় আমার কাদামাখা জুতোর দেখা,
তুমি কি শুনতে পাও বাতাসের ফাঁকে রয়ে যাওয়া ডাক?
তুমি কি জানতে চাও রেডিও তে কত নং বিপদ সংকেতের ডাক?
আমার রেখে যাওয়া নিরুপায় সুর
শব্দের খোঁজে ঝড়ো মেঘে আকাশে বহুদূর,
কোনো কোনো রাত আসে, বুকের কাছে বসে
অভিমানী গল্প শোনায়, তারারা জানালায় ঘিরে আসে,
আর আমি শুনি কান পেতে থাকা স্মৃতির নড়াচড়া
অতীতের আমি আয়নায় ফিরে পাই নিজেকে মরা,
দূরের হেডলাইট ভিজে থাকে অপ্রকাশ্য আলোয় যতো
তুমি ভোরের ঘাসে থেকো একবিন্দু কুয়াশার মতো,
না যায় ধরা, না যায় ফেলা
না হয় থেকো মুঠোবন্দি অন্ধকারে একা।



