“সামাজিক যোগাযোগে নারীর বি/রুদ্ধে হু/মকি, বিশ্ববিদ্যালয় কি দেখছে না?”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এখন উত্তাল। ডাকসু নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া ‘গণধর্ষণের’ হুমকি পুরো ক্যাম্পাসকে শোক ও উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে। হুমকিপ্রাপ্তী ও হুমকিদাতা উভয়ই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী।
নারীর নিরাপত্তা এবং শাসন কাঠামোর অভাব
হুমকিতে বলা হয়, “হাইকোর্টের বিপক্ষে এখন আন্দোলন না করে আগে একে গণধর্ষণের পদযাত্রা করা উচিত।” এই ভয়ঙ্কর বার্তা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী প্রার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার প্রতিচ্ছবি। হুমকিপ্রাপ্ত নারী শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হুমকির পেছনের প্রেক্ষাপট
কয়েকদিন আগে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট মামলা করেন। তিনি জানান, “ফরহাদের অবস্থান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং ফরহাদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা টিএসসিতে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শন করেছে, যা জাতীয় বীর হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।”
রিটের পর হাইকোর্ট নির্বাচন ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেন। তবে কিছুক্ষণ পর চেম্বার আদালত জানান, নির্বাচনে কোনো বাধা নেই। এরপরই ওই নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়ঙ্কর হুমকি দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগে নারীর বিরুদ্ধে চলমান আক্রমণ
রিট করার পর থেকেই নারী প্রার্থী ফেসবুকে ‘বট অ্যাটাক’ ও অবিরাম বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ডাকসু নির্বাচনের নারী প্রার্থীরা নির্বাচন শুরুর আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিজনক মন্তব্য, গুজব ও ব্যক্তিগত আক্রমণের সম্মুখীন। মানসিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক তীব্রতা তাদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বহীনতা
যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আচরণ বিধি তৈরি করেছে, তবে তা মানা হচ্ছে না। প্রশাসন নারীর বিরুদ্ধে হুমকি ও বুলিং প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এ কারণেই একধরনের ভয় ও প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা নারী প্রার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে সীমিত করছে।
তদন্ত কমিটি গঠন, কিন্তু কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ
হুমকির বিচার চেয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সত্যতা উদঘাটন কতটা কার্যকর হবে তা অনিশ্চিত।
নারী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথম থেকেই নারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হুমকি, আক্রমণ এবং নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিত, তাহলে এ ধরনের ভয়ঙ্কর হুমকি কমে যেত। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে, একে একে আরও নারী শিক্ষার্থী এই ধরনের হুমকির শিকার হবেন।



