একটি ফোনকল ফাঁস, রাজনৈতিক বিপর্যয়ে থাই প্রধানমন্ত্রী

গত জুনে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ওই ফোনকলে নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছিলেন তিনি- এমনটাই অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত।
হুন সেনের সঙ্গে ওই ফোনকলে পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের সামরিক কমান্ডারদের সমালোচনা করেছিলেন। পরে যদিও আত্মপক্ষ সমর্থন করে পেতংতার্ন বলেছিলেন, ওই ফোনকলের মাধ্যমে কূটনৈতিক সাফল্য পেতে চাইছিলেন তিনি।
পেতংতার্নের ফোনকল ফাঁস করেছিলেন হুন সেন নিজেই। পেতংতার্নের একটি মন্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন হুন সেন। তিনি বলেছিলেন, পেতংতার্নের ওই মন্তব্য ‘নজিরবিহীন এক অপমান’। এ কারণেই ‘সত্যটা ফাঁস করে’ দিয়েছেন তিনি। তাঁর ওই সিদ্ধান্তে থাইল্যান্ডে বড় রাজনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সীমান্তে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাও দেখা দিয়েছিল।
ফোনের আলাপ–আলোচনা ফাঁস হওয়ার জেরে পেতংতার্নের পদত্যাগের দাবি ওঠে। ফোনের আলোচনা ফাঁসের ঘটনার পর গত জুলাইয়ে আদালতের নয়জন বিচারকের সাতজনই পেতংতার্নের প্রধানমন্ত্রিত্ব স্থগিত রাখার পক্ষে ভোট দেন।
২০০৮ সালের পর থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালতের রায়ে বহিষ্কার হওয়া দেশটির পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন। ফলে থাইল্যান্ডে একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে দেশটির আদালত প্রায় সব সময়ই এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রায় দেন, যাঁরা রক্ষণশীল ও রাজতন্ত্রপন্থী শক্তির চোখে হুমকি হিসেবে বিবেচিত।



