বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ

nur jahan

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম বলেন, মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার প্রতি বছরই কমছে, যা বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই প্রবণতা রোধ করে শিশুকে দুই বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হলে পরিবার ও কর্মক্ষেত্র উভয় জায়গায় সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা অপরিহার্য।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, শিশুকে যেন দুই বছর বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো যায়, সে জন্য সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে। এতে মায়েরা কর্মক্ষেত্রে থেকেও সন্তানের কাছে থাকতে পারবেন, শিশুও পাবে নিয়মিত মাতৃদুগ্ধ।

তিনি আরও বলেন, একটি মেধাসম্পন্ন ও সুস্থ জাতি গড়ে তোলার জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে অবশ্যই শালদুধ খাওয়াতে হবে। কারণ শালদুধে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধের বিকল্প নেই। দুই বছর পর্যন্ত অন্যান্য খাওয়ারের পাশাপাশি মাতৃদুগ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, শহর ও গ্রামে বাস্তবতা ভিন্ন। শহরে কর্মজীবী মায়েরা সময়ের অভাব ও কর্মক্ষেত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে সন্তানের পাশে থাকতে পারেন না। আবার গ্রামাঞ্চলে দারিদ্র্য ও সচেতনতার অভাবে শিশুকে ঠিকভাবে মায়ের দুধ খাওয়ানো হয় না। 

তিনি আরও বলেন, শুধু মায়েদের সচেতনতা নয়, পরিবার ও সমাজকেও সচেতন হতে হবে। গ্রামে-শহরে সর্বত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে প্রচারণা জোরদার করতে হবে। মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি করতে হবে যে, মায়ের দুধই শিশুর প্রথম ভ্যাকসিন।এজন্য প্রচারণা চালাতে হবে। কর্মক্ষেত্রগুলোতে যদি ডে-কেয়ার বা ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকে, তাহলে কর্মজীবী মায়েদের জন্য এটি হবে বড় সহায়ক পদক্ষেপ।

বাংলাদেশে এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু জন্মের পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে শালদুধ পায় না। আবার কর্মজীবী মায়েদের প্রায় ৬০ শতাংশ ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়াতে ব্যর্থ হন। এর বড় কারণ হলো কর্মক্ষেত্রে সহায়ক পরিবেশের অভাব। তবে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হলে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তাই প্রতিটি শিশুকে সঠিক সময় ও সঠিক মাত্রায় মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।