বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

মা লে ক মু স্তা কি ম’র এক গুচ্ছ কবিতা

মা লে ক মু স্তা কি ম’র এক গুচ্ছ কবিতা

ফেরা

নিজের ফিরে আসার দিকে তাকিয়ে আছি
একটা আকাশ
একটা পথ
আর একটা পা
পরষ্পরকে জড়িয়ে ধরে পড়ে আছে গুহায়

ধূলি ওড়া একটা মানুষ পাখি হয়ে উড়ে যাচ্ছে

গন্তব্য খেয়ে গেছে পথের দুই ধার
একটা মানুষ
একটা নক্ষত্র
আর একজোড়া চটি
পায়ের তলায় লিখে যাচ্ছে না-ফেরার সংলাপ।
নিজের ফিরে আসার দিকেই তাকিয়ে আছি।

তৃষ্ণার ভেতর থেকে

তৃষ্ণার ভেতর থেকে নদী উঠে আসে
প্রতিটি ঝর্ণার শব্দকে
ভাঙতে ভাঙতে তুমি ডুবে যাও কথায়
অক্ষরের নাম ধরে ডাকো- প্রতিধ্বনি ফিরে আসে-
পিপাসা থেকে খসে পড়ে তেষ্টা-
জলের নামে;
তৃষ্ণার ভেতর থেকে পাখি উড়ে যায়
কয়েকটি চরণে মেখে
বৃষ্টির রেণূ
কুয়াশায় ভিজে যাওয়া ভোরে একদিন
তৃষ্ণার ভেতরে খুঁজে নেব
তোমার আদ্যাক্ষর।

হুইসেল

হরিণ ফুলের ভাঁজে মুখ লুকিয়ে বৃক্ষেরা
গেয়ে যায় জারুল পাখির গান
সন্দেহের ডানায় ঝরাপাতার নাম লিখে
উড়ে যায় মানুষ; কোনদিন
ফিরে আসার ডাক পেলে ভীড়ের ভেতরে
কেঁপে ওঠে শরীর-
এই ঘরেই মানুষ আর পাখির সঙ্গম।
সংসারের নামে কুড়িয়ে যাই ক্ষুদ ও খোসা-
দৃশ্যের ভেতরে ডুব দিয়ে
ঘুমিয়ে পড়েছে জখমের মৌসুম-
ফুল আর পাতার আড়ালে বেড়ে ওঠা
কাঁটার জংশনে মানুষ এক
ছন্নছাড়া হুইসেল।

শিকড়


নিজের শিকড় খুঁজতে গিয়ে জেনে গেছি
সব গাছের শিকড় থাকে না
হাওয়াই টবে জন্ম নেয়া কিছু বৃক্ষের দানা
মিউ মিউ করে ডেকে ওঠে
মুলত নত হতে হতে বৃক্ষেরা মাটিতে ঢুকে পড়ে
একথা জানার পর থেকেই
গাছেদের উড়াল স্বভাব- পাখিরা শয্যামুখী-
আর মানুষ শিকড়ের সন্ধানে
খননপিয়াসী
জন্মের শিকড় পুতে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে কবর।

মাড়িয়ে যাওয়া নিশ্বাস

কিছু কথা জমে আছে ঠোটের কার্নিশে-
আঙুলের গ্যালারিতে
কিছু মানুষ আটকে আছে
পাথুরে হৃদয়
বীজের খোসার ভেতর কিছু
মুহুর্ত ভিজে বৃষ্টি
আমরা দূর থেকে দেখছি
উড়ে যাচ্ছে
আমাদের ছায়া
পরষ্পরের বিপরীতে
অনবরত বৃষ্টিতে কান্না মিশে যাচ্ছে-
আর তুমি কুয়াশার কথা বলে
মাড়িয়ে যাচ্ছো নিশ্বাস!

পতনের ভাষা


কিছু দৃশ্য থেকে এমনভাবে নামো
যেন সিড়ি ভেঙে নিচে নেমে যাচ্ছে জল
হাত থেকে খসে পড়ছে আঙুল
পাতারা কুড়িয়ে রাখে এইসব পতনকাল।
এই ভ্রমণ শেষ হলে দৃশ্যের পৃষ্ঠা
উল্টিয়ে পরের পেজে চলে যাই
নামার শব্দেরা নিচু হয়ে বসে থাকে
তোমার পায়ের ছাপ
আমার কাছে হয়ে ওঠে প্যাচানো অক্ষর।