বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনশনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

শরতের রঙিন দিনে নিক্কোতে

cover mamun (21)

জাপানে তখন শরৎকাল। গরমের উত্তাপ ধীরে ধীরে হালকা হয়ে এসেছে। হিমেল ঠান্ডা বাতাস শরতের সঙ্গে যেন মধুর সুরে মিশে গেছে। পুরো জাপান তখন মমিজি মাতসুরি রঙিন পাতার উৎসবে ডুবে আছে।

অনেক দিন ধরেই কোথাও দূরে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল। কি এই কর্মব্যস্ত জাপানি জীবনে সেটা যেন দুঃস্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হাউজওয়াইফ হওয়ায় আমার সময়ের কোনো অভাব নেই। কি অটল যেন দিন-রাত কাজের ঘূর্ণিতে হারিয়ে গেছে। তাছাড়া ঘুরতে যাওয়ার মজাটা তখনই যখন বন্ধুদের সঙ্গে যাওয়া যায়। আমাদের বন্ধুদের একটা বড়ো গ্রুপ থাকলেও কারো সঙ্গে কারোর ছুটি মিলছিল না। এইসব অনিশ্চয়তার মাঝেই একদিন হঠাৎ করেই নিক্কো যাওয়ার পরিকল্পনা হয়ে গেল। আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে অটলের দুই বন্ধু শরীফ ভাইয়া আর নাহিদ ভাই।

২০২৩ সালের ১৭ নভেম্বর। নিক্কো যাওয়ার দিন ঠিক হলো। আগের রাতেই পরের দিনের সকালের জন্য কিছু হালকা নাস্তা তৈরি করে রাখলাম। দুপুরের খাবারটা বাইরে, কোনো রেস্তোরাঁয় খাওয়ার প্ল্যান। ভোর পাঁচটার অ্যালার্ম বাজার আগেই ঘুম ভেঙে গেল। বারান্দায় গিয়ে দেখি আকাশটা গোমড়া মুখ করে আছে। ধোঁয়াশা মেশানো শীতল বাতাসে মনটা হঠাৎ একটু বেদনায় ভরে উঠল। এমন দিনে ভ্রমণ কি জমবে? কি নিজেকে সাহস দিলাম শরতের দিন আকাশে এমন মেঘের কুয়াশা দেখাই যায়। খানিক বাদেই হয়তো সরে যাবে।

সব গুছিয়ে সাতটার মধ্যে আমি আর অটল রওনা হলাম। আমাদের গাড়ি নিয়ে প্রথমে গেলাম নাহিদ ভাই আর শরীফ ভাইয়াকে তুলতে। এরপর শুরু হলো যাত্রা নিক্কোর পথে। ১৪৪ কিলোমিটারের পথ। সময় লাগবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে আমরা ধীরে ধীরে মিশে যেতে লাগলাম শরতের রঙে রাঙা সেই দূরের শহরের দিকে।

কিছুদূর যেতেই শুরু হলো ঝুমবৃষ্টি। যেনতেন বৃষ্টি নয় একেবারে পথভোলানো ধোঁয়াটে বৃষ্টি। গাড়ির জানালায় বড়ো বড়ো ফোঁটা আছড়ে পড়ছিল ছন্দহীন এক সংগীতের মতো। হাইওয়ের দিকচিহ্নগুলো ঘোলাটে হয়ে এলো। সামনে-পেছনের গাড়িগুলো শুধু আলোর রেখা হয়ে ঝাপসা হয়ে থাকল। তবুও অটল স্থিরভাবে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় দুই-আড়াই ঘণ্টার মতো চলার পর আমরা থামলাম। একটি সেভেন ইলেভেন কনভিনিয়েন্স স্টোরে। ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাত আর ক্লান্ত চোখ কিছুটা আরাম পেল, সেখানকার গরম লাতে আর আমার বানানো চিকেন স্যান্ডউইচ ও মিক্সড পাস্তায়। সকালের নাস্তা তখন সত্যিই একটু আনন্দের বিরতি হয়ে এলো। নাস্তা শেষে আবার পথচলা। এবার শুরু হলো প্রকৃত নিক্কো যাত্রা। পাহাড়ি পথের ঘূর্ণি আর সবুজের অফুরন্ত বিস্তার।

রাস্তা ধীরে ধীরে সরু হতে লাগল। দুই পাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়ের সারি। শীতের ছায়া মেখে গভীর হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার শব্দ ভেসে আসে গাড়ির ভেতরেও। সেই শব্দ যেন পুরনো কোনো গল্পের মতো। পথের বাঁকে বাঁকে লাল, হলুদ, কমলা রঙে রাঙা মমিজি পাতাগুলো বাতাসে কাঁপছে। কখনো আবার ছায়া ফেলে দিয়ে যাচ্ছে জানালায়।

উঁচু-নিচু রাস্তার প্রতিটি বাঁক একেকটা চমক। কুয়াশার চাদর গায়ে জড়ানো কিছু কিছু অংশে মনে হচ্ছিল আমরা কোনো জাদুকরী ছবির ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দূরে কোনো টেম্পল বা পুরনো কাঠের ঘরের ছায়া দেখা যাচ্ছে। একেক জায়গায় রাস্তার পাশে ছোটো ছোটো দোকান। যেখানে বিক্রি হচ্ছে গরম ওডেন, কাসতেরা কেক আর হাতে তৈরি কাঠের কারুকাজ। গাড়ির জানালায় মাথা হেলিয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকলাম সেইসব দৃশ্যের দিকে। প্রতিটি বাঁকেই প্রকৃতি একটা করে নতুন কবিতা লিখে রেখেছে আমাদের জন্য। কিš‘ মনে কোথাও একটু চিন্তার ভাঁজ এই বৃষ্টিতে ভ্রমণ জমবে তো?

গাড়ি এবার নিক্কোর হোদেন রোড ধরে এগোতে শুরু করল। এদিকে বৃষ্টি নেই। ছেড়ে গেছে। চারপাশটা এক রহস্যময় শান্তিতে মোড়া। হঠাৎ চোখ আটকে গেল সামনের দৃশ্যে। দূরে, ঘন সাদা কুয়াশার চাদরের ভেতর থেকে একের পর এক পাহাড় মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের চারপাশে কুয়াশাগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেঘের মতো হালকা, স্বপ্নের মতো ধোঁয়াটে। দেখে মনে হচ্ছিল পাহাড়গুলো খুব কাছেই। একটু হাত বাড়ালেই ছুঁয়ে ফেলা যাবে। কাচের ওপারে রাখা কোনো মায়াবী দৃশ্য। কিš‘ যতই গাড়ি সামনে এগোচ্ছে, সেই পাহাড়গুলো ঠিক ততটাই দূরে সরে যাচ্ছে।

দূরত্ব আর কাছাকাছির মাঝখানে এক ধোঁয়াশা। যা কিছুতেই গুছিয়ে উঠল না। প্রকৃতি যেন নিজেই আমাদের সঙ্গে এক লুকোচুরি খেলায় মেতে উঠেছে।

দীর্ঘ চারঘণ্টা যাত্রা করে আমরা পৌঁছাই শিনকিও ব্রিজের সামনে। নিক্কোর পাহাড়ি শহরে প্রবেশের মুখেই চোখে পড়ে এক নিঃশব্দ অথচ হৃদয়গ্রাহী দৃশ্যÑশিনকিও ব্রিজ অর্থাৎ ‘পবিত্র সেতু’। সাদা কুয়াশা আর রঙিন পাতার ছায়ায় ঘেরা নদীর ওপর স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই লাল রঙা কাঠের সেতুটি শতাব্দী পেরিয়ে আসা কোনো প্রাচীন আত্মার মতো। শিনকিও ব্রিজের পেছনে এক দীর্ঘ ইতিহাস বয়ে বেড়ায়। এটি নিক্কোতে অবস্থিত ফুতারাসান শ্রাইন-এর প্রবেশদ্বাররূপে বিবেচিত। এবং একে জাপানের তিনটি সুন্দরতম সেতুর একটি বলা হয়। দু পাশে সবুজ পাহাড়, নিচে হালকা গতি প্রবাহে বয়ে চলা ‘দাইয়া রিভার’ সব মিলিয়ে এক ছবির মতো দৃশ্য।

সেতুর রেলিংয়ের উজ্জ্বল লাল রং শরতের মমিজি পাতার সঙ্গে মিশে গিয়ে চোখে এনে দেয় শান্ত এক উচ্ছাস। চারদিক টুরিস্টে ঘেরা। বিভিন্ন দেশের মানুষজন। কেউ ছবি তুলছে, কেউ মোবাইলে ভিডিও করছে, আবার কেউ শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য মেখে নিচ্ছে চোখে। শিনকিও ব্রিজের সামনেই রয়েছে ছোট্ট টিকিট কাউন্টার। সেখান থেকে টিকিট নিয়ে সেতুর ওপর ওঠা যায়।

আমরাও টিকিট নিলাম। তারপর লাল কাঠের তৈরি প্রাচীন প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ধীরে ধীরে সেতুর ওপর পা রাখলাম। চারপাশে মানুষ, কিš‘ তবুও এক নিঃশব্দ অনুভব। সবাই নিজের মতো করে এই মুহূর্তটুকু ক্যামেরাবন্দি করছে। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ প্রিয়জনের পাশে, আবার কেউ শুধু প্রকৃতিকে সঙ্গী করে।

সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে নিচে তাকাতেই চোখে পড়ে ঝরনার মতো ছুটে চলা দাইয়া রিভারে। সেই পানির স্রোতের কলকল শব্দ সেতুর নীরবতাকেও স্পর্শ করছে। আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে শুধু চোখ বন্ধ করে শুনলাম সেই শব্দ। মনে হলো, কেবল নদীরই নয় নিজের মনের গভীরতাকেও যেন শুনতে পারছি। এই সেতুর পাশে দাঁড়িয়ে শুধু প্রকৃতিকে নয়, অনুভব করা যায় নিজের নিঃশব্দ সত্তাকে যা হয়তো ব্যস্ত জীবনে কখনোই শোনা হয়ে ওঠে না। সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে কিছু স্মৃতি আমরা ক্যামেরাবন্দি করে নিলাম। এরপর ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেলাম।

সামনের পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ চোখ পড়ে রাস্তার পাশে হাঁটার ছোট্ট পাথুরে পথটায়। সেখানে বৃষ্টিতে ভেজা লাল, কমলা, হলুদ রঙিন মমিজি পাতাগুলো ঝরে পড়ে আছে এলোমেলোভাবে। দৃশ্যটা দেখে মনে হচ্ছিল কেউ নিখুঁত হাতে একটি রঙিন কার্পেট বিছিয়ে রেখেছে। শুধু আমাদের জন্য। প্রতিটি পাতার ওপর জলকণা, আর সেই কাচের মতো চিকচিক করা ভেজা রংগুলো যেন প্রকৃতির নিজের আঁকা কোনো নিঃশব্দ শিল্পকর্ম। তারপর আমরা চলে গেলাম সাননাই সোউকৌদো এলাকার দিকে। এই দিকটার সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক ¯স্থাপনার নিখুঁত ভারসাম্য। এই এলাকাটা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র ¯স্থান রিননো-জি, ফুতারাসান শ্রাইন, নিক্কো তোশো-গু ঘিরে গড়ে উঠেছে। এখানকার প্রতিটি মন্দিরের কারুকাজ, পাথরের টোরি গেট, ঘন সবুজে ঢাকা পাহাড়িপথ সবকিছুই মনে করিয়ে দেয় আধুনিক জাপানের পেছনে রয়েছে এক অতল ঐতিহ্য। যা এখনো নিঃশব্দে বেঁচে আছে। এখানকার মন্দির ও বিভিন্ন ¯স্থাপনা এত নিখুঁতভাবে সংরক্ষিত যে, মনে হয় সময় যেন এখানে থেমে আছে। প্রতিটি কাঠের খোদাই, পাথরের পথ আর ছায়াঘেরা দরজাগুলো সবকিছুই ইতিহাসের এক জীবন্ত প্রমাণ। হাতে সময় কম। দিন ফুরিয়ে আসছে। তাই সেখানে কিছুক্ষণ ঘুরে তারপর আমরা রওনা হলাম আমাদের শেষ গন্তব্য কিরিফুরি কোগেনের উদ্দেশ্যে।

সাননাই সোউকৌদো থেকে পঁচিশ-ত্রিশ মিনিটের দূরত্ব। গাড়ি ধীরে ধীরে পাহাড় বেয়ে উঠছিল। নিক্কোর শহর পেছনে রেখে আমরা এগিয়ে যাচ্ছিলাম কিরিফুরি কোগেনের পথে। জানালার কাচের ওপারে পালটে যা”িছল দৃশ্যপট। কখনো ঘন বন, কখনো খোলা ঢালু, আবার কখনো হঠাৎ দেখা দেওয়া পাহাড়ি ঝরনা। বাতাসে তখন হালকা ঠান্ডা। আর পাহাড়ের গায়ে গায়ে কুয়াশার আস্ত চাদর।

একটা সময় মনে হলো আমরা মেঘের রাজ্যে প্রবেশ করেছি। সাদা ধোঁয়ার মতো কুয়াশা চারপাশ ঢেকে ফেলেছে। গাছপালার ফাঁকে ফাঁকে আলো এসে পড়ছিল। আর সেই আলোর রেখা মেঘের পর্দায় ছায়া ফেলেছে। যেন কেউ স্বর্গ থেকে নরম তুলোর কুয়াশা ছড়িয়ে দিয়েছে।

সিঁড়ির কিনারে গাড়ি থামল। পাশে একটি রেস্ট হাউজ। কাঠের তৈরি ছিমছাম রেস্ট হাউজটি এখানকার পরিবেশের সঙ্গেই মিশে আছে। সামনের বারান্দা থেকে নিচে তাকালে দেখা যায় মেঘের নিচে বিস্তৃত উপত্যকা। দূরে কিছু ছায়াময় টিলা, আর মাঝে মাঝে উঁকি দেওয়া সূর্যের আলো। মনে হ”েছ এটা প্রকৃতির আঁকা কোনো এক জীবন্ত পেইন্টিং।

চোখে ভেসে আসছিল শুধু সবুজ, সাদা আর হলুদের মৃদু সংঘর্ষ। সময় এখানে থেমে গেছে। চোখের সামনে তখন এক দিগন্তজোড়া নৈঃশব্দ্য। পাহাড়ের মাথা ছুঁয়ে কুয়াশা নেমে এসেছে নিচে। আমাদের ঘিরে রেখেছে সবদিক থেকে। মনে হচ্ছিল আমরা মেঘের ভেতরেই হাঁটছি। মাথার ওপর নীলাভ ধূসর আকাশ। আর তার নিচে চারদিক দিয়ে হালকা ঠান্ডা বাতাস এসে মুখে লেগে যাচ্ছিল মুগ্ধতা শুধু মুগ্ধতা…। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হ”িছল, আমরা আর পৃথিবীতে নেই। কোনো জাদুকরী ভিন্ন গ্রহে এসে পড়েছি। কোনো শব্দ নেই, শুধু দূরে কোথাও একটানা বয়ে চলা বাতাসের সুর। এখান থেকে পুরো নিক্কো শহরটা একনজরে ধরা যায়। নিচে তাকালে বাড়িঘর আর স্থাপনাগুলো এত ছোট্ট দেখায় যেন অসংখ্য পিঁপড়ের দল তাদের নিজের ঘর গুছিয়ে নি”েছ। এটা একটা নিখুঁত, নিঃশব্দ ব্যস্ততায় ভরা রাজ্য।

ধীরে ধীরে দিনের আলো ফুরিয়ে আসছিল। পাহাড়ের কোলে ছড়িয়ে থাকা নিক্কো শহরের বুক জুড়ে একে একে জ্বলে উঠছিল আলো। পর্যটকেরা নিচের দিকে সিঁড়ি বেয়ে নামছিল। আমরা তখন উলটো দিকেই চলছিলাম। কিছুটা ওপরের দিকে উঠেছিলাম। তবে অন্ধকার গাঢ় হতে দেখে বেশি দূর আগালাম না আর। ফিরে এলাম কাঠের তৈরি সেই শান্ত রেস্ট হাউজে।

রেস্ট হাউজের ভেতরে কিরিফুরি কোগেনের ঐতিহ্য, প্রকৃতি, মানচিত্র আর বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও প্রাণীর ছবি দেয়ালে ঝোলানো ছিল। ছবি আর বর্ণনার মাধ্যমে জাপানের এক অনন্য প্রকৃতির গল্প বলা হচ্ছিল। আমি নিঃশব্দে সেসব ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম।

অটল তখন আমার জন্য কফি বানাচ্ছিল। পাশাপাশি রেস্ট হাউসের এক কর্মীর সঙ্গে কথা বলছিল সে। সেই স্টাফ জানাল, এখানে এক বিশেষ হরিণের প্রজাতি আছে। যা দিনে দিনে বিলুপ্তির পথে। মাঝেমধ্যে তারা রাস্তায় বেরিয়ে আসে। স্টাফ আমাদের অনুরোধ করল, যদি নামার পথে কোথাও সেই হরিণ দেখা যায়, আমরা যেন রেস্ট হাউজকে জানাই।

আমি তখন জানালার ধারে বসেছিলাম। জানালার ওপারে দেখা যাচ্ছিল স্নিগ্ধ পাহাড়ি দৃশ্য। বাইরে নিস্তব্ধতা, ভেতরে উষ্ণ কফির সুবাস, আর প্রিয় মানুষের উপস্থিতি মুহূর্তটা এতটাই নিখুঁত ছিল যে মনে হচ্ছিল যদি সময়টাকে এখানেই থামিয়ে রাখা যায়। অন্ধকার গাঢ় হয়ে আসতেই আমরা গাড়িতে উঠলাম। যদিও সময়ের সীমাবদ্ধতায় সিঁড়ি বেয়ে আর উপরে ওঠা হলো না, দেখা হলো না প্রকৃতির সেই গহিন সৌন্দর্য, তবু মনে রইল এক অজানা টান।

মনে মনে ঠিক করলাম, আরেক দিন। সময় নিয়ে, হৃদয় জুড়াতে নিরালাভাবে ফিরে আসব এখানে। তখন আর কিছু ফেলে যাব না। সবটুকু চোখে, মনেও ধরে নিয়ে যাব।

সাহিত্য-সংস্কৃতি