মনোকষ্ট হচ্ছে, স্নান কর
মনে কষ্ট হচ্ছে?বেদনার সাবান গুলে স্নান করো,অবশ্য তার আগে বাথটাবে জল জমাও,দু চোখের নান্দনিক কল ছেড়ে ভরে নাও পুরোটা।আস্তে ধীরে ডুবে যেতে থাকো, নদী মন্দা...

মনে কষ্ট হচ্ছে?
বেদনার সাবান গুলে স্নান করো,
অবশ্য তার আগে বাথটাবে জল জমাও,
দু চোখের নান্দনিক কল ছেড়ে ভরে নাও পুরোটা।
আস্তে ধীরে ডুবে যেতে থাকো, নদী মন্দাকিনী ভেবে,
জলের শীতল মেখে নাও চম্পক আঙুলে
দেখবে চারপাশে সিন্ধু-সারসেরা খুঁটে খাচ্ছে
কবিতার অমৃত চরণ
বিষন্নতার গোড়ালি থেকে তুলে নাও
মরা-চামড়ার ফসিল,
শরীরের ক্লেদ যায়নি তো এখনো?
এক কাজ কর, সুপারশপ থেকে কেনা
বাথ-বোম্ব মেশাও ঐ গরম জলের সঙ্গে
শুভ্র ফেনায় ফেনায় জড়িয়ে নাও নিজেকে
ভেবে নাও, শরীরটা তোমার নয় আজ
দুঃখ-কষ্টগুলোও অন্য কারু…
এবার আলতো করে নিজেকে ছেড়ে দাও,
যেভাবে প্রথম প্রেমের কাছে সমর্পণ করেছিলে
বৃষ্টি-জল-প্রদায়ী শাওয়ারের তলদেশে
একটুবা হেলে দাঁড়াও নতমুখে
দু চোখ বন্ধ করে অন্ধের মতো
জলের কাঁপন স্পর্শ কর ত্বকে
ইচ্ছে করলে একটি গান ধর…চেতনাবিলাসী;
শিরা-উপশিরাজুড়ে ছড়িয়ে দাও লেবু-মঞ্জরী
মাথাটি যতদূর সম্ভব আরো নত করে দাও
অজান্তা ইলোরার নিভৃতে যেমন!
শ্যাম্পুর সুগন্ধি ঢেলে নাও করতলে,
সঙ্গে কন্ডিশনার নিতে ভুলো না
চুলের গোড়া থেকে কষ্টের খুশকিগুলো
তর্জনীতে ঘষে ঘষে তুলে ফেলো, দেখবে ভীষণ আরাম,
চুলগুলো রেশমি সুতোর মতো হালকা-নরমে উড়বে বাতাসে…
দীর্ঘদিন উকুনের উৎপাত সহ্য করে আছ,
মা-উকুন ছাড়া চলে যাবে তার ছানাপোনা,
ভ্রণাধিক নিক, চাম, পুঞ্জালসহ দৌড়ে পলাবে সবÑ
চিন্তা কোরো না, সপরিবারে বিদেয় হবে দুঃখমন্ত!
জলঢেউ উজিয়ে সর্ব শে^তপদ্মের মতো
সরোবর ছেড়ে এবার উঠে এস ডাঙায়,
দেখবে, সকল কষ্টেরা আজ নুনের ফুল
তুমিও পাপড়ি যথা সজল অনঙ্গে
স্নান-উৎসব শেষে সুরে সুরে গাও তবে,
‘আহা, কী আনন্দ আকাশে-বাতাসে’।
সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই যে!


