বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

জুলাই আন্দোলনের পর নিখোঁজ নারীরা, নিরাপত্তা ও সম্মান এখনো অনিশ্চিত

july

নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা এখনো পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হয়নি- এমন মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “ জুলাইয়ের আন্দোলনের পর একাধিক তরুণীর নিখোঁজ হওয়া প্রমাণ করে, আমরা এখনো নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কাঠামো নারীদের পেছনে ঠেলে রাখে।”

গত শুক্রবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘ জুলাই কন্যা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ১০০ নারী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

ফরিদা আখতার বলেন, ‘ নারীকে তার অধিকার নিজেরাই সংগ্রাম করে আদায় করতে হয়। সমাজ ও পরিবারে সমান মর্যাদা পাওয়ার জন্য নারীদের আজও লড়তে হয়। আমরা বহুদিন ধরে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের বক্তব্য ও আন্দোলন যেন ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত না করে, সেই বিষয়ে আমরা সবসময় সচেতন।’ যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে চলমান বিতর্ক নিয়েও কথা বলেন তিনি। “ এ বিষয়ে কিছু ভুল বোঝাবুঝি আছে,” বলে মন্তব্য করে বলেন, “ মানবিক মর্যাদা প্রতিটি মানুষের প্রাপ্য, তা তার পেশা যাই হোক না কেন।”

নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ কমিশন কোথাও পবিত্র কোরআনের বিরোধিতা করেনি। বরং বলা হয়েছে কেউ যদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন করতে চান, তাদের সে অধিকার থাকবে। একইসঙ্গে যারা সিভিল ল অনুযায়ী সমান বণ্টন চান, তাদের জন্যও বিকল্প পথ থাকা উচিত।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই কন্যা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জান্নাতুন নাঈম প্রমী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান এবং বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুন, যাঁরা নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়ের দাবিতে সরব হন। শহীদ পরিবারের সদস্যরা নারীর অধিকারে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

‘ জুলাই কন্যা অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’- এ ১০০ নারীকে সম্মাননা জানানো হয়, যাঁরা কেউ আন্দোলনের মিছিলে ছিলেন, কেউ ঘরে থেকেই সাহসিকতা দেখিয়েছেন।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নাফসিন মেহেনাজ বলেন, “ এই স্বীকৃতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি চলমান সংগ্রামের প্রতীক।”