বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬
সাহিত্য-সংস্কৃতি

কিংবদন্তি নয়, আমি গানের মানুষ- ফেরদৌসি রহমান

sahitto

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম। জন্ম থেকেই তিনি সংগীতের পরিমণ্ডলে, বাবা কিংবদন্তি আব্বাসউদ্দীন আহমদের প্রভাবেই শৈশবেই গানে হাতেখড়ি। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছেন তিনি। গানে অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

১৯৬৪ সালে টেলিভিশনে প্রথম গান করেন ফেরদৌসী রহমান। এরপর ‘এসো গান শিখি’ অনুষ্ঠানের ‘ খালামনি’ হয়ে উঠেছেন শিশুদের প্রিয় একজন মানুষ। শুধু গান শেখানো নয়, ভালোবাসা আর মমতায় জড়িয়ে ধরে বহু শিশু-কিশোরকে গানের পথে এনেছেন তিনি। এক জীবনে পেয়েছেন বিপুল মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান।

” মানুষের ভালোবাসা পেলেও নিজেকে ‘কিংবদন্তি’ ভাবেন না। বরং নিজেকে মনে করেন একজন গানের মানুষ, যিনি শুধুই গান করে যেতে ভালোবাসেন,”-এমনই বলছিলেন ফেরদৌসি রহমান। তিনি আরও বলেন, ” কত বড় শিল্পী বা কত বড় মানুষ এসব আমি ভাবি না। আমার বাবা যেভাবে গানের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছাতে চেয়েছেন আমিও সেই চেষ্টাই করেছি।”

তবে দীর্ঘ সংগীতজীবনে কিছু অপূর্ণতা আজও তাড়িয়ে বেড়ায় তাঁকে। বাবাকে(আব্বাসউদ্দীন আহমদ) নিয়ে একটি সংগীত একাডেমি গড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। শুরু করেছিলেনও কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে পিছিয়ে যেতে হয়। একারণে এখনো আফসোস করেন ফেরদৌসী রহমান। তিনি বলেন, “ এটা একার পক্ষে করা কঠিন। অনেকের সহযোগিতা দরকার। যদি জমি পেতাম তাহলে কাজটা সহজ হতো।”

Advertisements

বহু জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন এই গুণী শিল্পী। আজও সেই গানগুলো মানুষের মুখে মুখে। এই ভালোবাসা তাঁকে আনন্দ দেয়। তিনি বলেন, “ ভবিষ্যতেও যদি নতুন শিল্পীরা আমার গান করেন তবে সেটা হবে আমার জন্য আনন্দের। যেমন লতা, সন্ধ্যা বা মান্না দে’র গান আজও মানুষ করে, শুনে তেমন ভাবেই আমার গানগুলোও যদি জীবিত থাকে সেটিই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

শিশুদের কাছে তিনি ‘খালামনি’ নামে পরিচিত যা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় অর্জন বলে মনে করেন। ফেরদৌসী রহমান বলেন, “ বাচ্চারা খুব ভালোবাসে আমাকে, সম্মানও করে। সেই কবে থেকে তাদের গান শেখাচ্ছি। এটা ভেবে ভালো লাগে।” আত্মজীবনী লেখার আগ্রহ থেকে তিনি লিখেও ফেলেছেন নিজের জীবনের কাহিনি। বইটি প্রকাশের অপেক্ষায়।

বর্তমানে সময় কাটে আত্মীয়-স্বজন ও ছাত্রদের সাথে। বাসায় এলে গল্প করেন, স্মৃতিচারণ করেন গানের এই পাখি।

Advertisements
সাহিত্য-সংস্কৃতি