বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
স্পটলাইট

জুলাই আন্দোলনে বড় ছেলে শহীদ, ছোট ছেলের ক্যান্সার, স্বামীর প্রাণহানি- স্বপ্ন হারানো এক মায়ের গল্প

sohid

ফাতেমা তুজ জোহরা স্বপ্ন হারানো একজন মা, একজন স্ত্রী। ২০২৪ সালের এই দিনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয় তার বড় ছেলে আবদুল্লাহ বিন জাহিদ (১৬)। বড় ছেলের মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ পর জানতে পারে ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসান (১৪) ক্যানসারে আক্রান্ত। আর সাত মাসের ব্যবধানে হারাতে হয় স্বামীকেও।

৫ আগস্ট দুপুর তিনটা। সন্তানদের নিয়ে মায়ের বাসায় ছিলেন ফাতেমা। ভাই (আবদুল্লাহর মামা) আবদুল্লাহকে ১০০ টাকা দিয়ে আলু আনতে পাঠান। বাজার শেষে ৩৫ টাকা ফেরত দেয় সে। সেদিন বাসায় রান্না হয়েছিল ইলিশ মাছ। কাঁটা বাছতে কষ্ট হবে এই ভেবে ফাতেমা নিজ হাতে খাইয়ে দেন ছেলেকে। তখনই বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে শেখ হাসিনার পতনের খবর।

আবদুল্লাহ তার মামার কাছে মিষ্টি খাওয়ার বায়না ধরেছিল। মামা হেসে বলেছিলেন, “ মিষ্টিও খাওয়াব, বিরিয়ানিও খাওয়াব।” বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে মাকে জানায়, আনন্দমিছিলে যাব। বলে, “আম্মু, ৩৫ টাকা যে আছে, ওইটা কি নিয়ে যাব?” ফাতেমা অনুমতি দেন, তবে শর্ত দেন সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসতে হবে।

সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিট ফাতেমার সঙ্গে ফোনে শেষবারের মতো কথা হয় ছেলের। সেটাই শেষ কথা। এরপর রাত ৮টা ১০ মিনিটে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপাশ থেকে জানান, আবদুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে উত্তরা মা ও শিশু হাসপাতালে।

রাত ৯টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছান ফাতেমা। কিন্তু তখন সব শেষ। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে আবদুল্লাহ নিজের নাম ও মায়ের ফোন নম্বর বলে গিয়েছিল। বারবার বলছিল, “ আমি আর বাঁচব না। আমার আম্মু আসলেই ঠিক হয়ে যাব।” উত্তরার এপিবিএন সদরদপ্তরের উল্টোদিকে প্রথম গুলিটা আব্দুল্লাহর গলায় লাগে। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু ভয়ে দৌড়ে পালায়। সে জানায়, ঘটনাস্থলেই আবদুল্লাহ মারা গেছে। হাসপাতালে কে নিয়ে গিয়েছিল, সেটা সে জানে না।

ছেলের জানাজা শেষে ঘরে ফিরেই মায়ের জীবনে আসে আরও বড় দুঃসংবাদ। ছোট ছেলে ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসা শুরু হয় কিন্তু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন স্বামী। অবশেষে সাত মাসের মাথায় স্বামীকেও হারাতে হয়।

স্পটলাইট