বাংলাদেশের অন্যতম নারী বিষয়ক ম্যাগাজিনবুধবার, ২০ মে, ২০২৬
নারী

বড় বোন পালিয়ে বিয়ের শা/স্তি ছোট বোন লিজার গৃহব/ন্দিত্বে

WhatsApp Image 2025-07-28 at 6.03.12 PM

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে বড় মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় ছোট মেয়ে লিজাকে চার বছর ধরে একটি ঘরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে বাবা এনামুল হকের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ওই মেয়েটিকে উদ্ধার করে।

আক্কেলপুর পৌর এলাকার হাসপাতালের পেছনে অবসরপ্রাপ্ত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এনামুল হকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া লিজা বর্তমানে মানসিকভাবে অসুস্থ। স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে এনামুলের বড় মেয়ে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করলে তা পরিবারে ‘অপমান’ হিসেবে নেওয়া হয়। এরপর ২০২১ সালে এসএসসি পাস করা ছোট মেয়ে লিজাকে যেন একই পথে না যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় তাকে বাড়ির একটি ঘরে আবদ্ধ করে রাখা হয়।

প্রতিবেশীরা অভিযোগ করেন, মেয়েটিকে প্রতিনিয়ত ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হতো এবং সামান্য প্রতিবাদ করলেই এনামুল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী মিলে চালাতেন নির্যাতন। এমনকি তার মাথার চুল পর্যন্ত কেটে দেওয়া হয়। দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির গেটে তালা ঝুলিয়ে রাখা হতো, যাতে কেউ ভেতরে প্রবেশ না করতে পারে। তবে মাঝেমধ্যে মেয়েটির কান্নার আওয়াজ ভেসে আসত বাইরে।

এক পর্যায়ে মেয়েটি মানসিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। সাহস করে পুলিশে খবর দেন একাধিক প্রতিবেশী। পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার নির্দেশ দেয়।

প্রতিবেশী তুহিন ও জনি জানান, লিজা একসময় সুস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তাকে গৃহবন্দী রেখে ধীরে ধীরে তাকে মানসিক রোগীতে পরিণত করা হয়েছে। এখনো সময়মতো চিকিৎসা পেলে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে বলে মনে করেন তারা।

লিজার সৎ মা ফিতি জানান, তিনি স্বামীর নির্দেশ ছাড়া কিছু করতেন না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় গেটে তালা লাগিয়ে যেতেন এনামুল, ফিরে এসে খুলতেনও তিনি নিজেই। ফলে বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।

অভিযোগ অস্বীকার করে লিজার বাবা এনামুল হক বলেন, “আমার বড় মেয়ে পালিয়ে বিয়ে করায় সামাজিকভাবে অপমানিত হয়েছিলাম। ছোট মেয়ের ক্ষেত্রেও যেন এমন কিছু না হয়, সে কারণে তাকে বাড়ির বাইরে যেতে দেইনি।” তবে তিনি দাবি করেন, মেয়েটিকে নির্যাতন করা হয়নি।

আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক গণেশ চন্দ্র জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের ভেতর থেকে মেয়েটিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পাওয়া যায় এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।