Skip to content

ঈদের ঘোরাঘুরি হোক একটু ভিন্ন

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পরে আসে ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর আমাদের জন্য শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় এটি এমন এক আনন্দের উপলক্ষ যা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হয়। সারা বছরের ব্যস্ততা ভুলে ঈদের দিনে আমরা সবাই চাই আনন্দে মেতে উঠতে। তবে সেই আনন্দ উদযাপনের ধরন যদি একটু ভিন্ন হয় তাহলে ঈদের দিনটি হয়ে উঠতে পারে আরও অর্থবহ ও স্মরণীয়।

প্রতিবারের মতো রেস্তোরাঁয় খাওয়া, শপিং মলে ঘোরাঘুরি কিংবা আত্মীয়দের বাড়ি সফর করাই যদি ঈদের আনন্দের মূল কেন্দ্র হয়, তবে এবার কেন না একটু নতুন কিছু করার চেষ্টা করা যায়? ঈদের আনন্দ যেন শুধুমাত্র ভোজন-বিলাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং প্রকৃতি, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং সামাজিকতার সঙ্গে মিশে আরও গভীর হয়। এবারের ঈদ উদযাপন হতে পারে একটু ব্যতিক্রমী।

প্রকৃতির মাঝে ঈদের প্রশান্তি
শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে যদি ঈদের আনন্দ প্রকৃতির মাঝে খুঁজে নেওয়া যায় তাহলে সেটি হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। ব্যস্ত শহুরে জীবনের মধ্যে প্রকৃতির শীতল পরশ আমাদের দেহ ও মনের প্রশান্তি এনে দেয়। কাছের কোনো নদীর ধারে, পাহাড়ি এলাকায় বা গ্রামের সবুজ প্রান্তরে ঈদের দিন কাটানো হতে পারে এক অন্যরকম আনন্দ। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক আয়োজন করা যেতে পারে যেখানে সবাই একসঙ্গে খেলাধুলা, গানবাজনা ও খোলামেলা আড্ডায় মেতে উঠতে পারেন। প্রকৃতির মাঝে ঈদ উদযাপন করলে কেবল আনন্দই পাওয়া যায় না। বরং কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর হয়ে নতুনভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণাও মেলে।

গ্রামের ঐতিহ্যে ঈদ উদযাপন
শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ঘোরাঘুরি, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় খাওয়ার বদলে গ্রামে ঈদ উদযাপন করার মধ্যেও রয়েছে এক বিশেষ আনন্দ। শহরের ইট-কাঠের ভিড়ে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই গ্রামের সহজ-সরল জীবনের সৌন্দর্য। গ্রামে ঈদ কাটালে আমরা ফিরে যেতে পারি শৈশবের দিনগুলো। সেই দিনগুলোতে সকালের ঈদগাহের নামাজের পর সবাই মিলে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বেড়াতে যেতাম, পুকুরের ধারে বসে গল্প করতাম কিংবা বিকেলে মাঠে খেলা করতাম। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার, নিজ হাতে রান্না করা পিঠা-পায়েসের স্বাদও এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে ঈদের আনন্দে। শহরের কৃত্রিম জীবনের বাইরে গিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে এক দিন কাটালে নতুন এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়।

ঈদের আনন্দ নতুন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর মাধ্যমে
ঈদ মানেই নতুন জামা, ভালো খাবার আর আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো এই প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে যদি ঈদের দিন কোনো নতুন জায়গা ঘুরতে যাওয়া যায় তাহলে সেটি হতে পারে এক দারুণ অভিজ্ঞতা। দেশের যে কোনো পর্যটন এলাকা, সমুদ্র সৈকত, পাহাড় বা ঐতিহাসিক স্থান ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এতে শুধু আনন্দই নয়। বরং নতুন সংস্কৃতি, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হওয়া, নতুন ধরনের খাবারের স্বাদ নেওয়ার সুযোগও পাওয়া যায়। নতুন জায়গায় ঈদ উদযাপন করতে গেলে সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়াও হতে পারে এক বিশেষ স্মৃতি।

ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিন সমাজের সর্বস্তরে
ঈদ মানে শুধু নিজের আনন্দ উদযাপন নয়, বরং আশেপাশের মানুষদের মুখেও হাসি ফোটানো। ঈদের দিনে সুবিধাবঞ্চিত শিশু, বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা বা পথশিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া যেতে পারে। নিজের সাধ্যমতো কিছু উপহার, খাবার বা নতুন জামা বিতরণ করলে তাদের ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। অনেক সময় বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষগুলো পরিবারের সঙ্গ পায় না, তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটালে তাদের হৃদয় ভরে ওঠে ভালোবাসায়। ঈদের আসল অর্থ হলো পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও উদারতা প্রকাশ করা। তাই এবারের ঈদে চেষ্টা করুন কাউকে সাহায্য করে তার মুখে হাসি ফোটানোর।

সৃষ্টিশীলতায় ভরা এক নতুন ঈদ
ঈদ উপলক্ষে নতুন কিছু সৃষ্টিশীল কাজ করলে সেটিও হতে পারে এক ব্যতিক্রমী উদযাপন। লেখালেখি, ছবি আঁকা, নাটক আয়োজন, গান রেকর্ডিং কিংবা কোনো বিশেষ পারফরম্যান্স তৈরি করে ঈদের আনন্দ উপভোগ করা যেতে পারে।

ঈদের দিন যদি পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মিলে ছোট্ট কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে সেটি সবার জন্য এক চমৎকার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়াল ঈদ উৎসব
বর্তমান যুগ ডিজিটাল কানেকশনের যুগ। অনেক সময় কাজ বা বিদেশে থাকার কারণে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ কাটানোর সুযোগ হয় না। এমন অবস্থায় ভার্চুয়াল ঈদ উদযাপন হতে পারে এক সুন্দর বিকল্প। ভিডিও কলের মাধ্যমে দূরবর্তী আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করা, অনলাইনে ঈদ পার্টির আয়োজন করা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঈদ সম্পর্কিত সৃষ্টিশীল কনটেন্ট শেয়ার করা যেতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের দূরত্ব কমিয়ে আনে এবং সম্পর্কগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

খাবারে নতুনত্ব এনে ঈদ উদযাপন
ঈদের দিন বিশেষ খাবার ছাড়া অসম্পূর্ণ। সাধারণত ঈদ মানেই বিরিয়ানি, কোরমা, রোস্ট ও মিষ্টি জাতীয় খাবার। তবে এবারের ঈদে যদি নতুন ধরনের খাবার চেষ্টা করা হয় তাহলে সেটিও হতে পারে এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। দেশীয় খাবারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কিছু পদ রান্না করে দেখতে পারেন। স্বাস্থ্যকর ও নতুন স্বাদের খাবার তৈরি করে পরিবারের সবাইকে চমকে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

ঈদ আমাদের জীবনে এক বিশেষ সময় যা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। বরং নতুন কিছু অভিজ্ঞতা যুক্ত করে ঈদ উদযাপনকে আরও অর্থবহ করা সম্ভব।

এবারের ঈদে চেষ্টা করুন কিছু নতুন করার। হতে পারে তা প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো, গ্রামের ঐতিহ্যে ফিরে যাওয়া, নতুন জায়গায় ভ্রমণ, সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানো, সৃষ্টিশীল কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখা বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।

ঈদ আনন্দের, ঈদ ভালোবাসার, ঈদ নতুনত্বের। তাই আসুন, এবারের ঈদ উদযাপন হোক একটু অন্যরকম, একটু ভিন্ন।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ