Skip to content

৪ঠা মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ২১শে বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঘুরে আসুন মনপুরার দখিনা হাওয়া সৈকতে

সমুদ্রপ্রেমীদের অত্যন্ত প্রিয় একটি গন্তব্য মনপুরা দখিনা হাওয়া সৈকত। অপরূপ সৌন্দর্যের এ লীলাভূমি এখন পর্যটকদের নজর কাড়ছে অল্পদিনেই। বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মনপুরার নিরিবিলি দখিনা হাওয়া সৈকতটি। মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের মিলনস্থলে ঢেউয়ের তোড়ে জেগে ওঠা এক কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্রসৈকত এটি। এর পাশ দিয়ে দীর্ঘ ম্যানগ্রোভ বনে সবুজের সমারোহের পাশাপাশি মায়াবি হরিণের পদচারণা আর অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখর থাকে বছরজুড়ে।

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সর্বদক্ষিণে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামের বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন মেঘনা পাড়ের এক কিলোমিটার জুড়ে এই নতুন সমুদ্র সৈকতের স্থানীয় নাম ‘দখিনা হাওয়া সমুদ্র সৈকত’। এ দ্বীপের আয়তন ৩৭৩ বর্গ কিলোমিটার। অনেকটা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের মত এই বিচে গেলে ডিম্বাকৃতির সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দেখা মিলবে।

তীর ঘেঁষে রয়েছে ঝাউ, কেওড়া এবং নানাগাছের সমারোহে গড়ে ওঠা বনরাজি। পায়ের নিচে চিকচিকে বালি। সমুদ্রতটে দীর্ঘ ম্যানগ্রোভ বনে সবুজের সমারোহ, মাথার ওপরে একটানা নীল আকাশ আর বেলাভূমি জুড়ে মায়াবি চোখের হরিণের পদচারনার সাথে নাম না জানা পাখির কল-কাকলীর শব্দ সব মিলিয়ে এই সমুদ্র সৈকত হতে পারে যে কোন ভ্রমণপিপাসু পর্যটকের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। বিচ জুড়ে পর্যটকদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে অসংখ্য ইজি চেয়ার। সমুদ্রতটে কুঁড়েঘর। ঘরে খরের ছাউনি, চতুর্মুখী জানালা। দুজনে বসার মতো গাছের গুঁড়ির চেয়ার। ঝাউ আর কেওড়াগাছে বাঁধা হ্যামক (জালের দোলনা)। এছাড়া রাত্রি যাপন করতে পারেন নিজস্ব তাঁবু খাঁটিয়ে। সব ব্যবস্থাই আছে ফ্রিতে। বিচ থেকে আরেকটু ভেতরে শহর রক্ষা বাঁধের ভেতরে রয়েছে জেলেপল্লী। সারি সারি মাছ শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি হয় সেখানে। 

ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরা মনপুরা উপজেলাটিতে আছে অনেক দিঘী। ভোলার আগেই এ দ্বীপটি জেগে উঠেছে, যার বয়স প্রায় দেড় হাজার বছর। মনপুরা সমুদ্র সৈকতে এখন শত শত পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে। মাত্র ২ বছর বয়সেই এ সৈকতটি হাজারো পর্যটককে নিজের কাছে টেনেছে।

 

যেভাবে যাবেন

ঢাকার সদরঘাট থেকে লঞ্চে ডেকে ৩৫০ টাকা ও কেবিনে এক হাজার ২০০ টাকায় সরাসরি মনপুরায় যেতে পারেন। এ ছাড়াও বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ভোলার ভেদুরিয়া হয়ে বাসযোগে তজুমুদ্দিন সি ট্রাক ঘাট গিয়ে সেখান থেকে লঞ্চে সন্ধ্যায় মনপুরা পৌঁছাতে পারবেন।

অন্যদিকে ভোলার ভেদুরিয়া থেকে বাসযোগে চরফ্যাশন লঞ্চঘাট। সেখান থেকে লঞ্চ করে সরাসরি মনপুরার জনতাঘাট হয়ে দখিনা হাওয়া সি বিচে যেতে পারেন।

থাকা- খাওয়া

এই দ্বীপে সি বিচসংলগ্ন থাকার ব্যবস্থা নেই। তবে আধুনিক আবাসিক হোটেল রয়েছে একটু দূরেই। মনপুরা সদর থেকে অটোরিকশা ও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল করে বিচে যাওয়া যায়। এখানকার খাবার হোটেলে শীতের হাঁস, তাজা ইলিশ, রুপসি মাছ, দধি পাওয়া যায়। এখানকার খাবারের দাম তুলনামূলক কম।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ