৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো বন্ধুত্ব: চার বন্ধুর টর্কুয়ে পুনর্মিলন

১৯৭২ সালের গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের ইয়র্কশায়ারের ওয়েস্ট রিডিং এলাকার চার কিশোরী একসঙ্গে প্রথমবারের মতো স্কুলের ছুটির আনন্দ উদযাপনের পরিকল্পনা করে। মা–বাবাকে না জানিয়ে তাঁরা পাড়ি জমায় ইংল্যান্ডের নৈসর্গিক এলাকা ইংলিশ রিভেরায়। ছুটি কাটানোর সেই দিনগুলোতে তোলা কিছু ছবিতে তাঁদের দেখা যায় হাত ধরে, রঙিন পোশাকে হাসিমুখে টর্কুয়ের সাগরতীরের রাস্তায় হাঁটতে।
সময় গড়ায়। একে একে পেরিয়ে যায় ৫২ বছর। তবে তাঁদের বন্ধুত্ব থেকে যায় আগের মতোই মজবুত। গত অক্টোবরে, প্রায় পাঁচ দশক পর, তাঁরা আবারও সেই টর্কুয়েতে ঘুরতে যান। এবারও তাঁদের দেখা যায় হাতে হাত ধরে, রঙিন পোশাকে, হাসিমুখে।
চার বন্ধু ম্যারিয়ন ব্যানফোর্থ, সুশান মরিস, মেরি হেলিওয়েল এবং ক্যারল অ্যাসব্রো তখন ছিলেন ১৭ বছরের কিশোরী। সেই সময়ের স্মৃতি নিয়ে ম্যারিয়ন (৬৯) বলেন, “ওটা ছিল অসাধারণ সময়। কেউ আমাদের ওপর খবরদারি করত না। যা খুশি করতাম। এটা ছিল এক অনন্য স্বাধীনতার অনুভূতি।”
ম্যারিয়ন আরও জানান, টর্কুয়ের সৈকতে প্রতিদিন তাঁরা সময় কাটাতেন। এক ফটোগ্রাফার তাঁদের ‘হাতে হাত বাঁধতে’ বলে ছবি তুলতেন। সেই ছবিগুলো হয়ে ওঠে তাঁদের কৈশোরের আনন্দঘন মুহূর্তের স্মারক।

এ চার বন্ধু সেসময় সৈকতের একটি ক্যাম্পে থাকতেন। সেখানেও বিনোদনের নানা আয়োজন ছিল। মেরি হেলিওয়েল, যিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত কাউন্সিল কর্মী, স্মৃতিচারণায় বলেন, “সাঁতার কাটার কথা মনে হলে এখনও আনন্দ লাগে। এটা ছিল এক খোলামেলা, স্বাধীন সময়।”
সুশানের উদ্যোগে তাঁরা টর্কুয়েতে আবারও দেখা করার পরিকল্পনা করেন। পুরোনো ছবির মতো নতুন করে ছবি তুলতে তাঁরা খুঁজে বের করেন ৭০-এর দশকের আদলে পোশাক। যদিও সেই পোশাক কেনা এবং মানানসই করা ছিল চ্যালেঞ্জিং।
স্কুলজীবনের সেই সাদা রঙের হোটেল যেখানে তাঁদের ছবির পটভূমি ছিল, সেটি এখন আর নেই। কিন্তু সবকিছুর পরেও পাঁচ দশক পেরিয়ে এসে তাঁদের বন্ধুত্ব এবং স্মৃতির টানে একসঙ্গে ছবি তোলার সেই অভিজ্ঞতা অমূল্য হয়ে ওঠে।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও তাঁদের বন্ধুত্বের এই গল্প প্রমাণ করে, প্রকৃত বন্ধুত্ব কখনো পুরোনো হয় না।



