Skip to content

৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সময়-অসময় শাড়ি সবসময়

নারীর কাছে শাড়ি এক অন্যরকম অনুভূতি। নারীর কাছে শাড়ি হচ্ছে একটা ভালোবাসার জায়গা। পছন্দের অন্যতম পোশাকের শাড়িতে নারীর শাড়ি থাকবেই থাকবে। 

বর্তমানে একটা কথা খুব প্রচলিত নারী কিসে আটকায় নারী কিসে আটকায় এর কোন সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া কোন ভাবেই সম্ভব না তবে নারী শাড়ি দেখলে একবার হলেও আটকায় থমকে যায় এবং সে শাড়িটি উপভোগ করে অনুভব করে। 

নারীর কাছে শাড়ি শুধু গায়ে জড়ানোর বারো হাত কাপড় নয়। নারীর কাছে শাড়ি একটা আবেগ। আলমারির প্রতিটা শাড়ি পেছনেই থাকে ছোট বড় এক একটা গল্প। শাড়ি পরার জন্য না কোন উৎসব প্রয়োজন হয় না কারণ শাড়ি নিজেই একটা উৎসব। আমাদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ধারক বলা চলে শাড়িকে। ফ্যাশন পরিবর্তন তবে ফ্যাশনে শাড়ি কখনোই পরিবর্তনশীল নয়। বরং নানান শাড়ির সমাহার নিয়ে বর্তমানে শাড়ি জগত আরো মেতে উঠে।

কয়েকটা শাড়ি সম্পর্ক বিস্তারিত বলা যাক

আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি জামদানি শাড়ি মনিপুরী শাড়ি বর্তমান সময়ে জামদানি এবং মনিপুরী শাড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এই শাড়িগুলো আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিকে বহন করে জামদানি ও মণিপুরী শাড়ির জন্য বাংলাদেশ সব সময় বিখ্যাত। 

জামদানি শাড়ির কথা উঠলে যেমন বাংলাদেশের রূপগঞ্জ অঞ্চলের কথা মনে পড়ে যায়। তেমনি মণিপুরী শাড়ির কথা শুনলেও ঠিক সিলেটের কথা মনে পড়ে যায়।

জামদানী শাড়ি মূলত মুঘল-পারসীয় মিশ্র সংস্কৃতির একটি শিল্প। এর নকশাগুলো লক্ষ্য করলে মুঘল-পারসীয় শিল্পরীতির ব্যবহার দেখা যায়। রেশমি গুটি থেকে প্রস্তুত সুতা রঙ করে বোনার জন্য প্রস্তুত করা হয়। সুতাকে শক্ত করার জন্য কয়েক ধাপে  মাড় দিয়ে শুকানো হয়। তারপর শাড়িতে নকশা তোলা শুরু হয়। 

মণিপুরীদের শাড়ি বুনুনের প্রক্রিয়া অনেকটা বিখ্যাত এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত বাংলাদেশি জামদানি শাড়ির মতোই। কোনো প্রকার মেশিনের ব্যবহার হয় না। 

এখন বলব দুটি আরাম এর শারীর কথা যাদের নাম বাটিক ও ব্লক। এই দুটো শাড়িকে আরামের শাড়ির নাম বলার কারণ হলো যে কোন ঋতুতে, যে কোন সময়,যে কোন পরিবেশেই এই ধরনের শাড়ি পড়ে যথেষ্ট আরাম অনুভব হয়। সাধারণত এই ধরনের কাপড় শাড়ি গুলো সুতি কাপড়ই তৈরি হয়ে থাকে। যা আরাম অনুভব হওয়ার অন্যতম কারণ। 

হ্যান্ড বাটিক, টাই–ডাই কিংবা ব্লক বাটিকের বেশ জনপ্রিয়। বাটিকের শাড়ি প্রস্তুত করা, বেশ সময়ের বিষয় হলেও এর চাহিদা ব্যাপক। যথেষ্ট গুণগত মান সম্পন্ন হয় বাটিকের শাড়িগুলো।

ব্লক বিষয়টার সাথে আমরা অনেক আগে থেকেই পরিচিত। তবে মাঝখানে ব্লকের চল একদমই বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে ছিল বলা যায়। তবে এখন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ আসলে সবকিছু নিয়েই নতুন ভাবে নতুন ধরনের কাজ করছে। ব্লকের ছাপা কাপড় বিভিন্ন রকমের ভিন্নধর্মী নকশায় তৈরি করছে যা অন্যান্য শাড়ি থেকে বেশ অন্যরকম এবং আরামদায়ক। 
শাড়ির জগত টা বেশ বড়। একদিনে কেন!  কয়েকদিনেও শাড়ির ধরন নিয়ে শাড়ির প্রকারভেদ নিয়ে কথা বলে শেষ করা যাবে না। তবে যে কোন সময়ে যেকোনো জায়গায় জামদানি, মণিপুরী, ব্লক ও বাটিকের শাড়িগুলো যেমন স্বাচ্ছন্দ বয়ে আনে ফ্যাশনে, তেমনি অসাধারণ সৌন্দর্য্য সৃষ্টি করে। এছাড়াও এই ধরনের শাড়িগুলোকে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির বাহক বলা যায়।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ