Skip to content

২১শে ফেব্রুয়ারী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | বুধবার | ৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গর্ভাবস্থায় শিশুর যেসব খাবার দরকার

সন্তানের ভবিষ্যত নির্ভর করছে মায়ের সুস্থতার ওপর। আর মায়ের সুস্থতা নির্ভর করছে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার এর ওপর। তাই মায়ের সঠিক খাদ্যাভাস নিশ্চিত করতে হবে। তবে চলুন দেখে নেওয়া যাক সন্তানধারণের আগে ও পরে মায়ের খাওয়া উচিত এমন কিছু খাদ্যের তালিকা:

আমিষ: গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পরিমান প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা খুবই প্রয়োজনীয়। তাই খাদ্যতালিকায় যোগ করুন মুরগীর মাংস, গরুর মাংস, ডিম, ডাল, দুধ,দই, পনির ইত্যাদি। তবে মাথায় রাখবেন কাঁচা বা কম রান্না হওয়া খাবার মায়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ফলিক এসিড: ফলিক এসিড শুধু মায়ের জন্য নয়, সন্তানের জন্যও উপকারী । ফোলিক এসিড প্লাসেন্টার দ্রুত কোষ বৃদ্ধিতেই সহায়তা করে ,শিশুকে গর্ভে থাকাকালীন জন্মগত ত্রুটির থেকে রক্ষা করে, এটিই হলো গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি নির্ধারিন করার প্রধানকারণগুলির একটি কারণ।প্রাকৃতিকভাবে, ফোলিক অ্যাসিড ফোলেটের আকারে পাওয়া যায় যা গাঢ় রঙের পাতাযুক্ত সবজি, গোটা শস্য, ডাল এবং কমলালেবুর মতো কিছু খাবারের মধ্যে উপস্থিত। বরবটি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, গাজর, শিম, মটরশুঁটি, লেবু, পাটশাক, পুঁইশাক, সরিষা, সূর্যমুখীর বীজ, লাল চাল ও লাল আটায়ও ফলিক এসিড আছে। তাই গর্ভধারনের আগে ও পরে এসব খাবারগুলো খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।

ক্যালসিয়াম: সাধারণত, মহিলাদের গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় ও পরে শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা তৈরি হয়। প্রথম ত্রৈমাসিকে ক্যালসিয়াম গ্রহণ ভ্রূণের বৃদ্ধি এবং স্নায়ুর গঠনের বিকাশে সাহায্য করে। গর্ভাবস্থায় ক্যালসিয়াম গ্রহণের ফলে মায়ের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায় । ফলমূল সহ অনেক ধরণের খাবারের মধ্যেই ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। দুধ, দই, সবুজ সাকসবজি, বেগুন, শালগম, ঢেড়স, সয়াবিন, মটরশুঁটি ইত্যাদি খাবার যথেষ্ট ক্যালসিয়ামের চাহিদা পুরন করে।

আয়রন: গর্ভাবস্থায় রক্তাল্পতা অনুভব করা খুব স্বাভাবিক। যখন আপনার আয়রনের মাত্রা হ্রাস পায়, তখন লোহিত রক্তকণিকা আপনার দেহের টিস্যুগুলিতে অক্সিজেন বহন করতে অক্ষম হয়। এটি গুরুতর হলে শিশুকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। আপনার গর্ভাবস্থায় যখন আপনি আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতা অনুভব করেন তখন রক্ত আপনার সমস্ত শরীরের টিস্যুগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অক্সিজেন বহন করতে পারে না। আর এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য গর্ভধারনের আগে থেকেই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে পারেন। যেমনঃ সামুদ্রিক মাছ, ডিম, কলিজা, শিম ও মটরশুঁটি জাতীয় খাবার, পালং শাক ও শাক জাতীয় খাবার, ডার্ক চকোলেট, ফিলকপি ইত্যাদি।

ভিটামিন-ডি: গবেষণায় জানা গেছে ভিটামিন-ডি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপদান। যেসব মায়েদের ভিটামিন মাত্রা প্রয়োজনের চেয়ে কম থাকে তাদের বাচ্চার মস্তিষ্ক দুর্বল হয়। এছাড়াও শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-ডি থাকলে এটি গুরুতর প্রিক্যালম্পসিয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম করতে পারে। ডিম, চীজ, বিফ, লিভার ইত্যাদি ভিটামিন ডি যোগায়। এছাড়াও প্রাকৃতিকভাবে সূর্যের আলো অনেক বড় ভিটামিন ডি এর উৎস হতে পারে।

এসব ধরনের খাবারের পাশাপাশি মাথায় রাখতে হবে যে, কোনো খাবারের কারনে যেনো অত্যাধিক ওজন বৃদ্ধি না পায়। গর্ভধারনের আগে ও পরে অত্যাধিক ওজন উভয়ের জন্য ক্ষতির কারন হতে পারে।

সন্তান ধারণের পর্যায়টি প্রত্যেকটি মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ের জন্য কোনো ঝুঁকির সম্মুখীন না হওয়াই ভালো। আর তাই গর্ভধারনের আগে ও পরে আপনার খাদ্যতালিকায় উপরোক্ত খাবারগুলো যোগ করে মা ও শিশুর সুস্ততা নিশ্চিত করুন।

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ