১ অক্টোবর, ২০২৬ | বৃহস্পতিবারবাংলা: ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
নারী

জন্মই যেন তার আজন্ম পাপ!

জন্মই যেন তার আজন্ম পাপ!

একটি শিশু জন্মানোর পর স্বভাবতই আনন্দের হিঁড়িক পড়ে পরিবারজুড়ে। তবে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে যখন একটি পরিবারে মেয়েসন্তানের জন্ম হয়, তখন যেন সবার চোখে-মুখে দেখা দেয় কালো মেঘের ছায়া।

সাধারণত, ছেলেসন্তান জন্মানোর পর মিষ্টি বিতরণ চললেও মেয়েসন্তান জন্মের পর অনেককেই ঘরের কোণে মুখ লুকোতে দেখা যায়। দেখা যায়, একগাদা আক্ষেপও। যেমন অনেকেই বলেন, ‘কপাল খারাপ মেয়ে হয়েছে’ কিংবা ‘অপয়া মেয়ে, একটা ছেলেশিশুর জন্ম দিতে পারল না!’ আঙুল তোলা হয় মায়ের দিকে, ‘কেন একটি ছেলেসন্তান জন্ম দিতে পারলো না!’

আর এ-ভাবেই জন্মমাত্রই শুরু হয় নারী-পুরুষ বৈষম্য। এরপর ধীরে-ধীরে যত বড় হয়, মেয়েশিশুকে বোঝানো হয়, ‘তুমি মেয়ে, তোমার সামনে রয়েছে পাহাড়-সমান বাধা।’ আর এই বাধা ডিঙতে নারীদের যে কতটা হিমশিম খেতে হয়, তা আমরা রোজকার জীবনে দেখতেই পাচ্ছি।

নারীরাও ধীরে-ধীরে ভেবে নিতে শুরু করে, ছেলেসন্তান জন্ম দিতে পারলেই সে ‘লক্ষ্মী’ আর মেয়েসন্তান জন্ম দিলে ‘অপয়া’। আর এই ‘লক্ষ্মী’ সাজার ঘোরে নিজের মেয়েসন্তানের প্রতি অনেক সময় মায়েদেরও বিরক্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।

মেয়েভ্রূণ হত্যার সংখ্যা নেহাত কম নয়। যদিও ভ্রূণের লিঙ্গ-পরীক্ষা নিষিদ্ধ, তবু অবৈধভাবে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের লিঙ্গ-পরীক্ষা করে মেয়েভ্রূণ হত্যার মতো ঘটনাগুলো অহরহ ঘটছে আমাদের চারপাশে। আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় যখন জানা যায়, গর্ভস্ত সন্তান ছেলে না মেয়ে, তখন বহু পরিবারের লোকজন মেয়েভ্রূণ নষ্ট করার সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক মিনিটও সময় নেয় না।

মেয়েশিশু গর্ভে আছে, জানার পর পৃথিবীর আলো দেখার আগেই কেড়ে নেওয়া হয় তার জন্মের অধিকার৷ অনেক সময় কোনোভাবে শিশুটি জন্ম নিলেও, কখনো-কখনো মেয়েশিশুটিকে জন্মের পরপরই হত্যা করে ফেলা রাখা হয় রাস্তার পাশে কিংবা ডাস্টবিনে। এ-সব খবর রোজ গণমাধ্যমে উঠে আসছে।

Advertisements

আর এ-সবের পেছনে কারণ একটাই, আমাদের সমাজে মেয়েসন্তানের তুলনায় ছেলেসন্তানের চাহিদা। তাই মেয়েসন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ামাত্রই চরম অবহেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হয় তাকে। সমাজ প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে, ‘জন্মই যেন তার আজন্ম পাপ!’

Advertisements