Skip to content

৯ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ২৫শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নারীর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বনাম আত্মবিশ্বাস

 

ভদ্রঘরের মেয়েরা এটা করে না, ভালো মেয়েরা ছেলেদের সাথে মেশে না, মেয়েমানুষের কী দরকার বাইরের কাজ করার, বিয়ে করে তারপর ঘুরতে যেয়ো ।এ-ধরনের কথা শুনতে-শুনতে মেয়েদের কানের পোকাও মরে যায়। কিন্তু এই সব বাণী কি মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে? পারে কি তাদের আত্মনির্ভরশীলতাকে বাড়াতে? নাকি নারী-স্বাধীনতার প্রতিবন্ধকতা হিসেবেই ভূমিকা রেখে যাচ্ছে আবহমান কাল ধরে?

 

ছোটোবেলায় কন্যাসন্তানকে শিক্ষা দেখা হয় কিভাবে ঘর গুছিয়ে রাখতে হয়, কিভাবে রান্না করতে হয়, সংসারের প্রতি দায়িত্বশীল কিভাবে হতে হয়। অথচ একই পরিবারে একটা ছেলেসন্তানকে তার খাওয়ার পরের এঁটো বাসনটাও কিভাবে ধুতে হয়, সেটা শেখানো হয় না, উপরন্তু ছেলেসন্তানটির রয়েছে বাইরে অবাধে ঘোরাঘুরির যতেচ্ছ স্বাধীনতা! ফলে নানা স্তরের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাদের।তাই পুরুষদের কমিউনিকেশন স্কিল হয় নারীদের তুলনায় জোরালো, আত্মবিশ্বাসও থাকে ভালো। কারণ, একজন পুরুষের সুযোগ হয় বিভিন্ন খাতে কাজ করে নিজেকে দক্ষ করে তোলার, ফলে নারীদের তুলনায় অভিজ্ঞতাও লাভের সুযোগও থাকে তাদের ঢের বেশি।

 

নারীদের এই সুযোগটা কম থাকায় তাদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে পড়তে হয় প্রায়ই। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেও অনেক নারী থাকেন অপটু। এর অন্যতম কারণ হলো, পর্যাপ্ত আউটগোয়িংয়ের সুযোগ না থাকা। আত্মবিশ্বাসের সাথে কোনো কাজ করতে গেলেও সেটা নিয়ে পরিবার ও সমাজের বাধা নারীর উদ্যম নষ্টের সহায়ক।

 

নারীর আইডেন্টিটি ক্রাইসিস বনাম আত্মবিশ্বাস

 

এ-ছাড়া, নারী-পুরুষের পেশা তো নির্ধারণ করেই দেওয়া আছে সমাজে। টেকনিক্যাল কাজের সেক্টর হচ্ছে পুরুষের। আর নারীদের কাজ হচ্ছে হিসাব রাখা, ডেস্ক জব আর ডাক্তারি। আর ছেলেদের সব সময় চ্যালেঞ্জিং-সব কাজ করার দায়ভার।

 

এ কারণে যা হয়, প্রতিটি মানুষের আলাদা স্বত্তা নষ্ট হয়ে যায়। নিজের স্বত্তা, নিজের প্যাশনের জায়গা যদি কারো প্র্যাক্টিস করার সুযোগ না থাকে, তাহলে সে মানুষকে মুমূর্ষই বলা যায়। নারীরা এই যাপিত জীবনের চাপে একটা মুমূর্ষ রোগিতেই পরিণত হচ্ছে, সমাজ ও পরিবারের নিষেধাজ্ঞায় । পরিবারের মানসম্মানকে বহাল রাখার দায়িত্ব তো নারীরাই নিয়ে রেখেছেন বলে মনে হয়! এই সব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ভালোলাগা-মন্দলাগাকে কুয়ার জলে ফেলে দিতে বাধ্য হয় নারীরা। একটা সময় অচলায়তন হয়ে নিজের ভেতরে আর প্রাণ খুঁজে পায় সে। আর অচলায়ন হলে আইডেন্টিটি ক্রাইসিসের ভারে সিদ্ধাহীনতা, নিজেকে আত্মবিশ্বাসী না হওয়ার মতো অনেক কিছুই আস্তে-আস্তে তাকে গ্রাস করে ফেলবে।

 

 

 

 

 

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ