Skip to content

২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১০ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

টিকায় আর সুই থাকবেনা

টিকা দেয়া একটি খুবই স্বাভাবিক বিষয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিবারণে বা সুস্থতা বজায় রাখতে বিভিন্ন বয়সের মানুষকেই টিকা নিতে হতে পারে। তবে টিকা নিতে থাকে অনেকেরই বেশ ভয় থাকে সিরিঞ্জে থাকা সুই নিয়ে। এই সুইয়ের মাধ্যমেই তরল ঔষধ শরীরে পুষ করা হয়। তাই টিকা দেয়ার সময় একটু ব্যথা লাগে। আর এই ব্যথা নিয়েই থাকে অনেকের মাথাব্যথা। তবে এ ব্যাপারে আশার আলো দেখিয়েছেন এক দল গবেষক। সুই ফুটিয়ে পুষ করার বিকল্প নিয়ে হাজির হয়েছেন তারা।

গবেষকরা বলছেন, ওষুধ দেওয়া ছোট ব্যান্ডেডের মতো একটি জিনিস (প্যাচেস) ত্বকে লাগিয়ে দেওয়া হবে। এটিই শরীরে টিকার মতো কার্যকর হবে। এই প্যাচেস আবিষ্কার টিকা ফোবিয়ায় ভোগা মানুষদের জন্য খুবই সুফল বয়ে আনবে।

এই প্যাচেস আবিষ্কার করেছে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের এক বিজ্ঞানী দল। প্রতিটি প্যাচেসের আকার এক বর্গসেন্টিমিটার। এতে পাঁচ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র স্পাইক ছিদ্র করে দেওয়া থাকবে। গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক ও কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডেভিড মুলার বলেন, ‘এগুলো এতটাই ক্ষুদ্র যে সত্যিকার অর্থে আপনারা তা দেখতেই পাবেন না।’

এই প্যাচেস লাগালে আর সুই ফোটার যন্ত্রণা ভোগ করতে হবেনা। তবে প্যাচেস লাগানোর সময় ত্বকে ঝাঁকুনি হতে পারে। টিকা মূলত আমাদের পেশিতে প্রয়োগ করা হয়, তবে ওষুধের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন কোষ পেশিতে থাকে না। অন্যদিকে প্যাচেসের মাধ্যমে ক্ষুদ্র স্পাইক ত্বকের যেখানে বসানো হবে সে এলাকার ত্বক মরে যাবে। আর তা শরীরকে সমস্যার ব্যাপারে সতর্ক করে দেবে। আর এতে অনেক বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হবে।

অস্ট্রেলীয় কোম্পানি ভাক্সাস ও দুটি মার্কিন কোম্পানি মাইক্রোন বায়োমেডিকেল এবং ভাক্সেস এই প্যাচেস তৈরি শুরু করে দিয়েছে। আগামী এপ্রিল থেকে মানবদেহে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গবেষকেরা প্যাচেস নিয়ে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। কিছু ইঁদুরের শরীরের ওষুধযুক্ত প্যাচেস দুই মিনিট করে লাগিয়ে রাখা হয়। আর কিছু ইঁদুরের শরীরে সিরিঞ্জের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হয়। দেখা গেছে, যে ইঁদুরগুলোকে প্যাচেস ব্যবহার করে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের শরীরে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

মানবদেহে সফলভাবে পরীক্ষা সফল হলে এই আবিষ্কার চিকিৎসা জগতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।