Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দুই ট্রান্সজেন্ডার নারী বুন্দেসতাগে জয় পেয়েছেন

বর্তমানে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে সবক্ষেত্রে। তবে নারীর পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডার অর্থাৎ রূপান্তরিত নারীরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে। জার্মানের পার্লামেন্ট সদস্যও হয়েছেন প্রথম বারের মতো ট্রান্সজেন্ডার নারী।

জার্মানে পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন প্রথম বারের মতো দুজন ট্রান্সজেন্ডার নারী। রবিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন গ্রিন পার্টি থেকে। জার্মান ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য তাদের এই জয়কে ঐতিহাসিক বিষয় বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

বুন্দেসতাগের জার্মানের পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে নির্বাচিত দুই ট্রান্সজেন্ডার নারী হলেন, টেজা গেনজেরা (৪৪) ও নাইকি স্লাভেক (২৭)। গেনজেরা ২০১৩ সালে দেশটির বাভারিয়া আঞ্চলিক পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। সেখানকার নুরেমবার্গ এলাকা থেকে তিনি বুন্দেসতাগের সদস্য হলেন। এবারের নির্বাচনে গ্রিন পার্টি রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। ২০১৭ সালের নির্বাচনে দলটির প্রাপ্ত ভোট ৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশে।

গেনজেরা তাদের জয়কে ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, 'এটি গ্রিনদের জন্য যেমন একটি ঐতিহাসিক বিজয়, তেমনই ঐতিহাসিক বিজয় ট্রান্স মুক্তি আন্দোলন ও অন্যান্য যৌন পরিচয়ের মানুষদের জন্যও।' তাদের মতো ট্রান্সজেন্ডারদের এই জয় জার্মান সমাজের সহনশীল মনোভাবের প্রমাণ বহন করে বলে তিনি মনে করেন। লেসবিয়ান মায়েদের সন্তান দত্তক নেওয়ার পক্ষে আইনি পরিবর্তন চান গেনজেরা এবং তার নিজেরও দুটি ছেলে রয়েছে।

নির্বাচনের এই ফলাফলকে অবিশ্বাস্য বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্লাভেক। তিনি নির্বাচিত হন জার্মানের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য নর্থ রিনে-ভেস্টফালিয়া থেকে। স্লাভেক ইন্সট্রাগ্রামে লিখেন, 'আমি এখন পর্যন্ত জয়ের বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছি না। ঐতিহাসিক এই ফলাফলের কারণে আমি বুন্দেসতাগের একজন সদস্য হতে যাচ্ছি। '

দেশজুড়ে ভিন্ন যৌন পরিচয়ধারীদের পরিচয় নির্মাণের পক্ষে আইনি পরিবর্তনের দাবি স্লাভেকও করেন। জার্মানে ১৯৬৯ সালে সমকামিতা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর ২০১৭ সালে সমলিঙ্গের বিয়ের বৈধতা আসলেও জার্মান জুড়ে এলজিভিটি লোকদের ওপর সহিংসতা কমেনি উল্টো বেড়েছে। দেশটির পুলিশের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত বছর জার্মান জুড়ে এ ধরনের ওপর মানুষদের সহিংসতা বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।