বন্ধু চাইলেই ব্যক্তিগত ছবি নয়

প্রতীকী ছবি
নতুন বন্ধু, পুরাতন বন্ধু, কিংবা নতুন পরিচয় হওয়া কোনো মানুষ, সবাইকেই এখন পাওয়া যায় ফেসবুকে। পুরনো বা নতুন, বন্ধুত্ব যেমনই হোক না কেন, বন্ধুত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে না যায়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সর্বদাই। সতর্ক না হলে যে কোনো সময় এই বন্ধুত্ব পরিণত হতে পারে বিশাল কোনো ক্ষতির কারণে।

বন্ধুত্ব, পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র সম্পর্কগুলোর একটি। এই সম্পর্কের কোনো বয়সের কিংবা লিঙ্গের সীমানা নেই। নেই দেশ কিংবা জাতির বা জাতের সীমানা। আর ইন্টারনেটের এই যুগে বন্ধুত্ব এখন একেবারেই বৈশ্বিক একটি সম্পর্ক। সেই সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে ফেসবুক। স্কুল পড়ুয়া ছাত্র থেকে শুরু করে অফিসের বস, সবারই বিচরণ রয়েছে এখানে। এর জন্যই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

 

তার সাথে বর্তমানে যোগ হয়েছে করোনা পরিস্থিতি। ভয়ঙ্কর এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে দীর্ঘ দিন ধরে মাস ঘরবন্দি সারা বিশ্বের মানুষ। এমন লকডাউন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেড়েছে ব্যবহারকারীদের বিচরণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগে যারা নিয়মিত উঁকি মারতেন, তারা তো আছেনই, সেই সাথে আগে যারা খুব প্রয়োজন বা কাজের অংশ হিসেবে ব্যবহার করতেন, তারাও এখন দীর্ঘ সময় দিচ্ছেন এখানে। মোট কথা, বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার এখন তুঙ্গে। নতুন বন্ধু, পুরাতন বন্ধু, কিংবা নতুন পরিচয় হওয়া কোনো মানুষ, সবাইকেই এখন পাওয়া যায় ফেসবুকে। পুরনো বা নতুন, বন্ধুত্ব যেমনই হোক না কেন, বন্ধুত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে না যায়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সর্বদাই। সতর্ক না হলে যে কোনো সময় এই বন্ধুত্ব পরিণত হতে পারে বিশাল কোনো ক্ষতির কারণে। বন্ধুত্বের যে বিষয়গুলো অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে,

 

কারো সঙ্গে ফেসবুকে বন্ধুত্ব হলেই তার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো ছবি শেয়ার করবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হওয়া বন্ধুদের সঙ্গে এ ধরনের আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকুন। শুধু ফেসবুকেই না, যে কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুকে নিজের ব্যক্তিগত ছবি দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বন্ধুকে পাঠানো আপনার ছবিই আপনার জন্য অপমানের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 

কোনো প্রলোভনে (বিয়ে বা প্রেমের) পড়ে কোনোভাবেই বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে জড়ানো ঠিক নয়। আর যদি নিজের ইচ্ছায় কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে যান, তবে সে দায় শুধুমাত্র কোনো একজনের নয়। অন্যকে হেয় করতে অথবা নিজের কোনো উদ্দেশ্য সফল করতে সেই সম্পর্ককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

 

ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সম্পর্কের জায়গায় অনেকেই সিঙেল লিখে থাকেন, বাস্তবে দেখা যায় সে আসলে বিবাহিত। যে কোনো ধরনের ভুল তথ্য দেওয়া কিন্তু প্রতারণা। আপনি যদি বিবাহিত হন, সঠিক তথ্য দিন ও সঙ্গীকে বন্ধুর তালিকায় রাখুন। ফেসবুকে সঙ্গীসহ ছবি দিন, অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন।

 

সবার আগে কিন্তু পরিবার। সে কারণে ফেসবুকে বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রেও হতে হবে সতর্ক। আপনার ফেসবুকের বন্ধু তালিকায় অনাকাঙ্খিত কারো উপস্থিতি আপনার নিজের কিংবা পরিবারের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। তাই দাম্পত্য জীবনে সমস্যা তৈরি হয় এমন কাউকে বন্ধু তালিকায় না রাখাই ভালো।

 

বন্ধুত্বটা পবিত্র একটা সম্পর্ক হয়ে থাক। নিজে নিরাপদে থাকুন, সবার সঙ্গে সুস্থ বন্ধুত্ব রক্ষা করুন।