Skip to content

৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | রবিবার | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

হাইপারসোমনিয়া কী

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহে রোগেরও পরিবর্তন এসেছে। একের পর এক রোগ আসছে। প্রযুক্তির উন্নয়নের কারণে আমরা নিত্যনতুন নানান রোগ সম্পর্কে জানতে পারছি। রোগের বৈশিষ্ট্যে রয়েছে ভিন্নতা। ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোও রয়েছে নানা রোগে আক্রান্ত।

নানা রোগের একটি হলো হাইপারসোমনিয়া। হাইপারসোমনিয়া কি তাই ভাবছেন তো? হাইপারসোমনিয়া হল দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধি, যেখানে একজন হয়তো দীর্ঘক্ষণ ধরে রাতের ঘুম অথবা দিনের বেলা অত্যধিক ঘুম-ভাব উপলব্ধি করতে পারেন। যারা অপর্যাপ্ত অথবা অশান্ত ঘুমের কারণে ক্লান্ত বোধ করেন তাদের তুলনায় যারা হাইপারসোমনিয়ায় ভোগেন তারা সারারাত ঠিক করে ঘুমানো সত্ত্বেও দিনের বেলা লম্বা ঘুম দিতে বাধ্য বোধ করেন। হাইপারসোমনিয়া প্রায়শই অন্য রোগের সঙ্গে জড়িত আর তা রোগীর দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে।

প্রতিদিন দিনের বেলা অত্যধিক ঘুমানো বা ঘুম ভাবের অভিযোগ। কাজকর্ম, খাওয়া অথবা কথোপকথনের মধ্যেও অসময়ে একজন বারবার হালকা ঘুমিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। দিনের বেলা অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নিলেও অত্যধিক ঘুম-ভাব কমে না, আর লম্বা ঘুমের পর কারোরই বিভ্রান্তি-বোধ এবং অস্বস্তি লাগতে পারে।

রোগটির বিভিন্ন লক্ষণ দেখা গিয়েছে এগুলো হলও, উদ্বেগ, বিরক্তি বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, উদ্যম কমে যাওয়া, মন্থর চিন্তাভাবনার প্রক্রিয়া এবং কথাবার্তা, যা সারাদিন ধরে থাকে ক্ষুধামন্দা, কোনো পারিবারিক অথবা সামাজিক সমাবেশ এবং পেশাদারী পরিবেশে কাজ করতে অসুবিধা দেয়।

অন্যান্য স্নায়বিক ব্যাধির মতো হাইপারসোমনিয়ার কারণগুলোও ভালো করে জানা নেই। তবে, শরীরে একটি নির্দিষ্ট অণুর বেশিমাত্রায় উৎপাদন হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, যা মস্তিষ্কের একটি হরমোনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তন্দ্রাভাব বাড়িয়ে দেয়।

সাধারণ কিছু কারণ বিঘ্ন হওয়ার কারণে এই রোগটি হতে পারে, ঘুমের ব্যাধি, যেমন ন্যারকোলেপ্সি এবং স্লিপ অ্যাপনিয়া,অটোনমিক স্নায়ু তন্ত্রের অকার্যকারিতা,মাদক অথবা মদ্যপানের অপব্যবহার।

বিশেষ কিছু রোগ থেকেও ঘুমের এই বিপদটি সৃষ্টি হতে পারে,কেন্দ্রীয় স্নায়ু তন্ত্রে অথবা মস্তিষ্কে আঘাত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ খাওয়া বা কিছু ওষুধ বন্ধ হওয়া হাইপারসোমনিয়ায় পরিণত হতে পারে, যেমন অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, উদ্বেগ কমানোর এজেন্ট, অ্যান্টিহিস্ট্যামিনিক প্রভৃতি ব্যাধি যেমন একাধিক স্কেলেরোসিস, ডিপ্রেশন, এনসেফালাইটিস, মৃগী অথবা ওবেসিটি’র মতো অসুখও হাইপারসোমনিয়ার কারণ হতে পারে জেনেটিক কারণেও হাইপারসোমনিয়ার হতে পারে, এরও প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। হাইপারসোমনিয়া সাধারণত কৈশোরাবস্থার আগেই ধরা পড়ে যায়।

অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং সচেতনতা-বর্ধক এজেন্টের মতো ওষুধ কগ্নিটিভ বিহেভরিয়াল থেরাপি (সিবিটি) সহায়ক হিসেবে প্রমাণিত হয় যে রোগীর হাইপারসোমনিয়া রয়েছে।

ঘুমানোর ধরণে প্রভাব ফেলে এমন কারণ এড়িয়ে চলা, যেমন রাত অবধি জেগে কাজ করা বা রাতে সামাজিক কাজকর্মে অংশ নেওয়া। মদ এবং ক্যাফিন খাওয়া এড়িয়ে চলা। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো উচিত। কম ঘুম যেমন ক্ষতিকর একিভাবে অতিরিক্ত ঘুমও ক্ষতিকর।

অনন্যা/এসএএস

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ