ঋতুস্রাব কি? আপনার কন্যাসন্তানকে জানান

প্রতীকী ছবি
অভিভাবকদের উচিৎ তাদের কন্যাসন্তানদের ঋতুস্রাব সম্পর্কে জানানো। তাদের বোঝানো উচিৎ এ নিয়ে লজ্জা কিংবা জড়োসড়ো হয়ে পড়ার কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া।

‘পিরিয়ড’ বা ‘ঋতুস্রাব’ অথবা ‘মাসিক’ আর পাঁচটা স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ার মতোই একটি প্রক্রিয়া। তবুও ঋতুস্রাবের মত স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ঘিরে এখনো এই সমাজে নানা কুসংস্কার রয়ে গেছে। একজন নারীর ‘পিরিয়ড’ বা ‘ঋতুস্রাব’ অথবা ‘মাসিক’ হলেই তাকে এ সমাজ অশুচির তকমা দিয়ে থাকে! এ সমাজে এমন সংস্কৃতি বহুকাল আগের থেকেই চলমান। এই ‘ঋতুস্রাব’ এর প্রচলন না থাকলে পুরুষগুলোই বা কিভাবে এই পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখত?

 

একজন মেয়ের জন্য ঋতুস্রাব আনন্দ কিংবা উল্লাসের বিষয় নয়। আবার কিন্তু লজ্জার বিষয়ও নয়। তবে এই ‘ঋতুস্রাব’ একজন মেয়েকে কতটা কষ্ট দেয়, কতটা যন্ত্রণা দিয়ে থাকে, তা একজন মেয়েই ভালো বলতে পারবে। তবে সব যন্ত্রণা সে নিজেই মুখ বুঝে সহ্য করে যায়। সবথেকে বেশি কষ্ট পায় এই বিষয় নিয়ে লজ্জা পাওয়া বয়সন্ধিকালে প্রবেশ করা কিশোরীরা। তাদের কাছে এই অভিজ্ঞতা নতুন। তারা কাউকে কিছু বলতে পারে না। হয়তো লজ্জায় কিংবা ভয়ে। চিৎকার করে কাঁদতেও পারে না। বলতেও পারে না তার যন্ত্রণাটা কোথায়?

 

তাই অভিভাবকদের উচিৎ তাদের কন্যাসন্তানদের ঋতুস্রাব সম্পর্কে জানানো। তাদের বোঝানো উচিৎ এ নিয়ে লজ্জা কিংবা জড়োসড়ো হয়ে পড়ার কিছু নেই। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটি শারীরিক প্রক্রিয়া। কেননা ‘ঋতুস্রাব’র দিনগুলিতে একজন নারীর মন-মেজাজ এতটাই খারাপ থাকে যে, অনেক সময় সেই রাগ গিয়ে পড়ে সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন অথবা কাছে থাকা কোন মানুষের উপর।

 

অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে যে, এখনও বহু নারী বাজারে গিয়ে স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে লজ্জা পান! দোকানের লোকও ন্যাপকিন এমনভাবে কাগজে মুড়ে দেন, যেন এগুলো অবৈধ কোন কিছু! যেন, কত গোপন একটা ব্যাপার! কেন? স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রি করার সময় একজন দোকানদার এতোটা রাখঢাক করবেন কেন? আর মেয়েটিই বা কেন এতোটা ইতস্তত করে তা গোপন করে কিনবে? ‘ঋতুস্রাব’ হওয়া কি খারাপ? এখনও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা প্রতি মাসে এক সপ্তাহ করে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয় ‘ঋতুস্রাব’ চালু হলে। কেন না, অন্য কেউ যদি জানে তার ‘ঋতুস্রাব’ চলছে, তাহলে এ নিয়ে তাকে নানা টিটকিরিমূলক কথা শুনতে হবে। যার জন্য সে নিজ থেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় লজ্জার হাত থেকে বাঁচার জন্য। আর এই সংস্কৃতির জেরে অনেক মেয়ের পড়াশোনারও ক্ষতি হয়।

 

কিন্তু না। ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা পরিবর্তন করার সময় এসেছে। যতদিন না ‘ঋতুস্রাব’ নিয়ে এসব কুসংস্কার দূর হয় ততদিন পর্যন্ত এ নিয়ে প্রতিটি মেয়েরই লড়াই করা উচিৎ। এজন্য সবচেয়ে জরুরি কন্যাসন্তানদের এ বিষয়ে জানানো, তাদের অনুপ্রেরণা দেওয়া, তারা যেন ভেঙ্গে না পড়ে। সেই সঙ্গে দরকার, ‘ঋতুস্রাব’ চলাকালীন সময় যাতে কোন মেয়ে লজ্জা না পায়, লজ্জা ভেঙে যাতে সে বাইরে আসতে পারে, সে জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।