মেনোপজ সম্পর্কে জেনে নিন

মেনোপজ সম্পর্কে জেনে নিন
ছবি: সংগৃহীত
জন্মের সময় মেয়েদের ওভারিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম্বাণু থাকে আর পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর প্রতি মাসে ডিম্বাণু নিঃসৃত হয়। বয়স ৫০ পার হলে ওভারিতে ডিম্বাণু শেষ হয়ে যায়, ফলে মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়। আর এটিই হলো মেনোপজ।

একজন নারীর শরীরের একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া মেনোপজ। কৈশোর থেকে সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর পর্যন্ত নারীদের পিরিয়ড হয়ে থাকে। এরপর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়। এই অবস্থায় কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। আমাদের অনেকেই এই বিষয়ে সচেতন নয়। তবে মেনোপজ সম্পর্কে সবারই একটু সচেতন থাকা প্রয়োজন।

 

মেনোপজ আসলে কি ? 

 

নারীদের মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বলে। জন্মের সময় মেয়েদের ওভারিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিম্বাণু থাকে আর পিরিয়ড শুরু হওয়ার পর প্রতি মাসে ডিম্বাণু নিঃসৃত হয়। বয়স ৫০ পার হলে ওভারিতে ডিম্বাণু শেষ হয়ে যায়, ফলে মেনস্ট্রুয়েশন বন্ধ হয়ে যায়। আর এটিই হলো মেনোপজ।

 

মেনোপজের লক্ষণ:

 

মেনোপজের শুরু হলে এর কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। তা সবার ক্ষেত্রে এক রকম হবে এমন নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা বুঝতে পারে মাসিকের পরিমাণ কমে এসেছে। ব্লিডিংয়ের পরিমাণ কমে আশার পাশাপাশি মাসিকের স্থায়িত্বও কমে যায়। সাধারণত টানা ১২ মাস যদি পিরিয়ড না হয়, তা হলে বুঝতে হবে মেনোপজ হয়ে গেছে। এ সময় শারীরিক নানান ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন নারীরা। খিটখিটে মেজাজ, অবসাদ ও  ক্লান্তি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে ‘মেনোপজ’ বা রজঃনিবৃত্তি শুরু হয়ে গেছে। এ ছাড়া রাতে ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, কাজে স্বতঃস্ফূর্ত না থাকা, অবসাদ। এসব শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে গিয়ে হিমশিম খান নারীরা।

 

মেনোপজের ক্ষতিকর প্রভাবঃ  

 

নারীর হাড়ে মেনোপজ সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। একে বলে অস্টিওপোরেসিস। কারণ মেনোপজের কারণে হাড়ের ক্যালসিয়াম কমতে শুরু করে। তাই হাড় দুর্বল হয়ে যায়। আর খুব সামান্য আঘাত বা হোঁচটেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে কোমর ও কোমরের নিচের দিকের হাড় খুবই দুর্বল হয়ে যায়। তাই বেশিরভাগ নারীই কোমরের ব্যথায় ভুগে থাকেন। মেনোপজের ফলে যে শারীরিক পরিবর্তন হয় তা নারীরা সহজে নিতে পারে না। ফলে মানসিক সমস্যাও হতে পারে। 


মেনোপজে করণীয়: 
 
এ সময় ব্যালেন্সড ডায়েট বা ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খেতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার না খেয়ে হৃৎপিণ্ড ও হাড়কে সুরক্ষা দিতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। দুশ্চিন্তা, চাপ ও হৃদরোগ রোধে নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত। হার্টের অসুখ রোধে ধূমপান ও অ্যালকোহল পান বন্ধ করা ও মানসিকভাবে ভালো থাকতে নিজের মতো করে সময় কাটানো উচিত।