লকডাউনে সঙ্গী হতে পারে ভারতীয় বাংলা সিনেমা

প্রাক্তন ও মুখার্জীদার বউ ছবির পোস্টার।
চলছে লকডাউন। এই কঠিন সময়ে মন ভাল রাখাটা খুবই জরুরি। বাইরে বেরিয়ে বন্ধুবান্ধব-প্রিয়জনদের সঙ্গে যখন দেখা করতে পারছেন না, সিনেমা হলগুলি যখন বন্ধ, তখন বাড়িতে বসে টেলিভিশন আর ইন্টারনেট-বিনোদন ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই আজ আপনাদের কয়েকটি ভারতীয় বাংলা সিনেমার কথা তুলে ধরছি যেগুলো দেখে, নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিতে পারবেন লকডাউনের দিনগুলো।

 

 

ভূতের ভবিষ্যৎ

 

যাঁরা অনেকদিন দেখেননি আর একবার দেখে ফেলুন। এটা এমন একটা ছবি যার সংলাপ দৃশ্য মুখস্থ হয়ে যাওয়ার পরেও বার বার দেখতে ইচ্ছে করে। কদলীবালার ঠাটঠমক, আত্মারামের কাঁদো কাঁদো মুখ, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, সুমিত সমাদ্দার, জর্জ বেকার, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর কমিক টাইমিং- সব মিলিয়ে একটি অনবদ্য ককটেল।

 

কণ্ঠ

 

গোটা বিশ্বে দিন দিন বাড়ছে ক্যানসার রোগীর হার যার মধ্যে গলায় বা মুখের ক্যানসার রোগীর হার অনেকটাই বেশি এই ভাবনা থেকেই হয়তোকণ্ঠছবি তৈরির তাগিদটা বেড়েছিল নন্দিতা শিবপ্রসাদের একজন জনপ্রিয় রেডিও জকি, যার মূল সম্পদটাই তার গলার স্বর আর বাচনভঙ্গি, সে একদিন হঠাৎ করেই জানতে পারলো তার গলায় ক্যানসার, আর বাঁচতে হলে তাকে হারাতে হবে তার কণ্ঠ। এখান থেকেই তার জীবনের সঙ্গে লড়াই আর উঠে দাঁড়ানোর গল্প এই সিনেমা। আসলে, এই দুই পরিচালকের প্রত্যেকটি ছবিতেই কোনো না কোনো সামাজিক বার্তা থাকে আর সেদিক থেকেকণ্ঠ ব্যতিক্রম নয়। আর তাই তো কণ্ঠ লড়াইয়ের ছবি, অনুপ্রেরণার ছবি৷

 

সোয়েটার

 

সমাজ যদিও বহু শিক্ষিত হয়েছে, কিছু কিছু অন্ধকার ভাবনা এখনো রয়ে গেছে। যা একেবারে রক্তের সঙ্গে মিশে বংশানুক্রমিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। মুক্তি ঘটছে না কিছুতেই।নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দিবে অধিকারভাবনা এখনো সমাজে বিস্তার লাভ করছে না পুরোপুরিভাবে। আর তাই একটি মেয়েকে বিয়ের আগে পাত্র পক্ষের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নেওয়ার বা মেয়েকে বিয়ের উপযোগী করে তোলা হয়। ঠিক মাধ্যমিকের আগে টেস্ট পেপার সমাধান করার মতোই একটি ব্যাপার। পরিচালকের মতে এটি একটিট্রেণ্ডচলে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। মেয়েদের যোগ্যতা নারী স্বাধীনতার যুগেও নিরুপণ করা হয় রান্না করা, ঘরের কাজ, গান করার ওপর। কিন্তু বিয়ের পর কে কাকে গান গাইতে দেবে? জুন মাল্য, তিনি জানেন এইসব করলে হবে না। সংসার যেহেতু একটা চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জের জন্য মেয়ে প্রস্তুত আছে কিনা, সেটিই তিনি দেখতে চান। সেখানেই উঠে আসেসোয়েটারপ্রসঙ্গ।

 

হামি

 

হামি, এক নিষ্পাপ সরল অনুভূতি। অথবা ততটা নয়? শিশুকালের নিষ্পাপ অনুভূতি ক্রিয়াগুলো এখন হঠাৎ করেই কিছু ঘটনার সাপেক্ষে পাপের চোখে দেখা হচ্ছে। মজা আর মজা থাকছে না। কিন্তু সত্যিই কি বিষয়গুলো এতই জটিল? সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিতে এরকম কিছু প্রশ্নেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় নন্দিতা রায়। ছবির চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে স্কুলের কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে। ভুটু চিনির সরল বন্ধুত্ব দিয়ে শুরু হওয়া গল্প ক্রমে জটিল হয়ে যায়। ছবিতে ভুটুর চরিত্রে অভিনয় করেছে ব্রত এবং চিনির ভূমিকায় তিয়াসা।

 

প্রাক্তন

 

একই ট্রেন-জার্নিতে উজানের স্ত্রী মালিনি তার মেয়ে পুতুলের সঙ্গে দেখা হয় সুদীপার। ফ্ল্যাশব্যাকে দেখা যায় অতীতে সুদীপা এবং উজান ভালবেসে বিয়ে করেছিল। কিন্তু সেটা টিকেনি। কলকাতা থেকে মুম্বাইগামী এই ট্রেনের বিভিন্ন কামরায় ওঠে একাধিক পরিবার। তাদের মধ্যে সদ্য বিবাহিত দম্পতি, বৃদ্ধ দম্পতি, একই ব্যান্ডের কয়েক সদস্য। সকলেই চলেছেন একসাথে। গল্পের প্রথম থেকে শেষ উজান-সুদীপার সম্পর্কের টানাপোড়ন ভাঙ্গনের গল্প, যা ট্রেন সফরের সঙ্গে সঙ্গেই এগুতে থাকে।

 

 

মুখার্জীদার বৌ

 

কথায় বলে শাশুড়ি কোনো দিনই মা হন না কথাটা কতটা ঠিক? এই বিতর্ক যে কোনও সংসারে ছুঁড়ে দিলে নির্ঘাত একটা যুদ্ধ বেঁধে যাবে প্রতিটি বাড়িতে৷ আবার শাশুড়িরাও মুখ বেঁকিয়ে উত্তর দেবেন, ‘ঘরের বউয়ের আবার অত কথায় কাজ কী?’ ঘরোয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের বিবাহিত মহিলাদের জীবন, তাদের খুনসুটি এবং শেষে শাশুড়ি-বউয়ের মা-মেয়ে হয়ে ওঠা, এই নিয়েই সিনেমা 'মুখার্জীদার বৌ' অনেক খারাপের পরেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে শাশুড়ি-বৌমার গল্প৷ ছবিতে বৌমা অদিতির ভূমিকায় দেখা যাবে কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায় শাশুড়ি শোভারানির ভূমিকায় দেখা যাবে অনুসূয়া মজুমদারকে। এছাড়াও এই ছবিতে দেখা যাবে বাদশা মৈত্র, বিশ্বনাথ বসু অপরাজিতা আঢ্যর মতো অভিনেতা অভিনেত্রীকে।