এবার নারী উদ্যোক্তাদের কী হবে?

করোনাকালীন নারী উদ্যোক্তারা এবার কি থেমে যাবেন?
ছবি: সংগৃহীত
সংশয় এখন অন্য কোথাও। লকডাউন  শেষে সব দোকানপাট খুলে গিয়েছে। খুলে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। ক্রেতারা যেমন ভিড় করছেন শপিংমলে। ঠিক তেমনি শারমিন ব্যস্ত হয়ে যাবেন পড়াশোনায়। তাহলে, ক্রেতারা কি তবে অনলাইনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? কিন্তু এরমধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে লকডাউন শেষ হবার পরও বিক্রি। বিক্রির ধারা আছে অব্যাহত। কিছুটা কমছে, তবে শঙ্কাটা দ্বিগুণ। 

শিল্পী আক্তার। বয়স ২৮। করোনাকালে নিজেকে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করতে শুরু করেছিলেন অনলাইন ব্যবসা। লাভবানও হয়েছেন বেশ। পরিচিতি পেয়েছেন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। কঠোর লকডাউনে সব যখন বন্ধ তখন তিনি নিরলসভাবে ঘরে থেকেই পরিশ্রম করে গেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন আচার। হরেক পদের আচার। হাতে বানানো আচার পেয়ে ক্রেতারাও ছিলেন বেশ খুশি। আর তাই ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছিল প্রতিনিয়তই।


জান্নাত শারমিন। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। দীর্ঘসময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তিনিও শুরু করেন অনলাইন ব্যবসা। বিভিন্ন কসমেটিকস সামগ্রী বিক্রি করে বেশ ভালোই সাড়া পাচ্ছিলেন। শপিংমল বন্ধ থাকায় ক্রেতারা অনলাইনের দিকে বেশি ঝুঁকছিলেন৷ সবদিক মিলিয়ে ভালোই চলছিল করোনা মহামারির ঘরবন্দী সময়টা।


আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, সুযোগ-সুবিধা ও পরিবারের প্রয়োজনেই প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করেই উদ্যোক্তা হচ্ছেন নারীরা। তবে কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতি নারীদের জন্য নতুনভাবে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বাড়িতে বানানো আটার রুটি, চালের আটার রুটি, কিংবা বিকেলের নাস্তার নানা আইটেম সরবারহ করছেন অনেকেই। অনেকেই আবার নকশিকাঁথা, পাটের ব্যাগ, চামড়ার ব্যাগ ইত্যাদির মাধ্যমে সংস্কৃতিকে ধরে রাখছেন। করোনার এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে বেড়েছে ব্যবসায়িক নানা পেজ আর গ্রুপ। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমের একটি গ্রুপেই নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা ১২ লাখের বেশি। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা অনেক বাড়বে।


ঠিক তেমনই শিল্পী এবং শারমিন দুজনই করোনা-কালীন নারী উদ্যোক্তা। নিজেদের শ্রম ও সময়কে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন সামনে। নিজেরাই হয়েছেন নিজেদের ভরসার জায়গা। সঙ্গে ক্রেতাদের উৎসাহ তো আছেই। লকডাউনের সময়ে এভাবে অনেক শিল্পী ও শারমিনরা হয়েছেন পরিবারেরও সম্বল। দাঁড়িয়েছেন পরিবারের পাশে। 


কিন্তু সংশয় এখন অন্য কোথাও। লকডাউন  শেষে সব দোকানপাট খুলে গিয়েছে। খুলে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। ক্রেতারা যেমন ভিড় করছেন শপিংমলে। ঠিক তেমনি শারমিন ব্যস্ত হয়ে যাবেন পড়াশোনায়। তাহলে, ক্রেতারা কি তবে অনলাইনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? কিন্তু এরমধ্যেও আশার আলো দেখাচ্ছে লকডাউন শেষ হবার পরও বিক্রি। বিক্রির ধারা আছে অব্যাহত। কিছুটা কমছে, তবে শঙ্কাটা দ্বিগুণ। 


করোনাকালে অনেকেই হয়েছেন উদ্যোক্তা। স্বাভাবিক হয়েছে সব। খুলছে শিক্ষার দ্বারও। ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন সকলে। তবে কি এখানেই শেষ হবে শিল্পী, শারমিনদের করোনাকালীন উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প? নাকি তারা এগিয়ে যাবেন আরো বহুদূর?  সরকারের কাছে আবেদন, হারিয়ে যেতে দেবেন না তাদের। যদিও নারী উদ্যোক্তাদের নানা সুবিধা দেয়া হয়েছে চলতি বাজেটে। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়নি মোটা দাগে কিছুই। নিজ মেধায় আয়ের পথ করে নিয়েছেন তারা। হয়েছেন স্বাবলম্বী।  তাদের এগিয়ে নিতে চাই সহযোগিতা। তাদের পণ্য প্রসারে শুধু উদ্যোক্তারা না আদতে লাভবান হবে দেশ। পোক্ত হবে অর্থনৈতিক কাঠামো।