নারীর হাতে যখন পরিবারের হাল

নারীর হাতে যখন পরিবারের হাল
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক ২০১৮ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১০০টি পরিবারের মধ্যে অন্তত ১৪টি পরিবারের প্রধান এখন নারী যা ১৪ শতাংশের কিছু বেশি।

পরিবারের প্রধান কথাটি আসলেই প্রথমে পুরুষের কথাই মাথায় আসে। হয়তো দাদা অথবা বাবা নয়তো ভাই হবেন পরিবারটির প্রধান। প্রথাগতভাবে বাংলাদেশে পরিবারের প্রধান সাধারণত পুরুষরাই হয়ে থাকেন। কিন্তু সে যুগ পাল্টেছে। পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় নারীকেই ধরতে হচ্ছে পরিবারের হাল। তাকেই পরিচালনা করতে হচ্ছে পরিবারকে। অনেক ক্ষেত্রেই এখন নারীকে দেখা যাচ্ছে পরিবারের প্রধান হিসেবে। এই সংখ্যা দিন দিন আরো বাড়ছে।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক ২০১৮ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১০০টি পরিবারের মধ্যে অন্তত ১৪টি পরিবারের প্রধান এখন নারী যা ১৪ শতাংশের কিছু বেশি। চট্টগ্রাম ও সিলেটে এমন পরিবারের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেছে। তারপরে রয়েছে ঢাকা। দশ বছর পূর্বে নারী প্রধান পরিবারের হার ছিল ১০ শতাংশের মতো। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসেব মতে, যেসব পরিবারের প্রধান নারী, তাদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ হয় বিধবা, নয়তো স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের কারণে সে পরিবার প্রধান। এছাড়াও অবিবাহিত অল্প বয়সী মেয়েরাও এখন অনেকক্ষেত্রে পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছেন। পিতা হারানোর ফলে তাদের ধরতে হয়েছে পরিবারের হাল। আবার মাইগ্রান্ট পপুলেশন অর্থাৎ যারা বিদেশে কাজ করছেন তাদের পরিবার সামলাচ্ছেন তাদের স্ত্রী অথবা তাদের মা। 

 

তবে একজন নারীর পক্ষে পরিবারের হাল নেয়া মোটেই সহজ কাজ নয়। এমন নারীদের ঘরে বাইরে দুই জায়গাতেই সমান তালে কাজ করতে হচ্ছে। একদিকে সংসারের কাজ করতে হয় অন্যদিকে কর্মস্থলের দিকটিও দেখতে হয় তাকে। সন্তানের লালন-পালন, রান্না-বান্না, অন্যান্য ঘরের কাজ করে অফিসের কাজও সামলাতে হয় তাকে। আবার পরিবারের বড় বড় সিদ্ধান্তগুলোও নিতে হয় তাকে। এই কাজগুলো কিন্তু মোটেও মুখের কথা নয়। 

 

আবার অল্পবয়সী নারী যারা বাধ্য হয়ে পরিবারের হাল ধরেন তাদের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নারী প্রধান পরিবারের ২১ শতাংশ কর্ত্রীর বয়স ১৫ বছর বা তারও কম। এই বয়সের নারীদের সম্মুখীন হতে হয় বিভিন্ন প্রতিকূলতার। অভিজ্ঞতার অভাব ছাড়াও আরো অনেক সমস্যার মোকাবেলা করতে হয় তাকে। আবার পারিবারিক একটা চাপও থাকে এই সময় তাদের ওপর। আবার স্বামী পরিত্যক্তাদেরও এসব পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। পাশাপাশি এ সময় সমাজের খারাপ নজরেরও শিকার হতে হয় তাকে। তারপরও সব বাধা পেরিয়ে তারা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পরিবারকে। হাল ধরছে সংসারের। তারা অনেকেই সফল। অনেকক্ষেত্রে পুরুষের থেকেও তারা সফলতার সাক্ষ্য রেখেছে পরিবার পরিচালনায়।

 

কেবল পরিবার নয়, অনেক রাষ্ট্র পরিচালনারও হাল এখন নারীর হাতেই। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়া শীর্ষ তিন সফল নারী নেতার তালিকায় রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকল নারীর জন্যই এটি একটি বড় প্রাপ্তি। 

বর্তমানে বাংলাদেশে নারী প্রধান পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি। ভবিষ্যতে এমন পরিবার আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের দিকে নারী প্রধান পরিবার ২৫ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নারীরা স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।