Skip to content

২৮শে জুন, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৪ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

নারীর অন্য নাম যখন পণ্য

একসময় গাড়ির বিজ্ঞাপনের সঙ্গে নারীকে মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হতো।  সেখানে নারীকে যতটুকু আবেদনময়ী দেখানো সম্ভব, তারও বেশি আকর্ষণীয় করে দেখানো হতো। কারণ মানুষ সেই বিজ্ঞাপন দেখতেই আসতো, যেখানে নারীকে লাস্যময়ী পণ্য হিসেবে দেখানো হতো।  

এমনকি একুশ শতকেও নারীকে পণ্যরূপে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয় অনেক অনলাইন মাধ্যমে। কারণ তেমন বড় কিছু না। কারণ হচ্ছে সুঠাম দেহী নারীদের দেখলে লোকে আগ্রহ বোধ করে বিজ্ঞাপন দেখতে। পণ্যটা কিনতেও। অনেক জনপ্রিয় অনলাইন শপিং সাইট ও ফেসবুকে কোনো পণ্য প্রমোশনের জন্য নারীকে বাছাই করা হয় আগে।  কারণ মানুষের কাছে নারী মানেই সুন্দরের প্রতিচ্ছবি । 

কিন্তু নারী মানে কি শুধুই সৌন্দর্যের প্রতিছবি? না কি নারীর আরও অনেক রূপ থাকতে পারে। একজন নারীকে কেন শুধু তার শরীরের গঠন, গায়ের চামড়ার রঙ এবং তার রূপ দিয়ে বিবেচনা করা হয় কেনো! কেন নারীকে তার পেশা এবং তার কর্ম দিয়ে জনগণের সামনে তূলে ধরা হয় না? 

কিছু উদাহরণ দিলে আরও স্পষ্ট হতে পারে বিষয়গুলো। যেমন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী কেবল মা, স্ত্রী ও বোনের ভূমিকায় ভূমিকা পালন করেন। মা, বোন, স্ত্রীর জন্য তাদের আচরণ কী হবে, গলার স্বর কেমন হবে, পোশাক কী হবে, সেটা নির্ধারণ করা থাকে। কিন্তু নারীদের উদাহরণ হিসেবে কখনো আমরা কর্মজীবী মাকে দেখি না। আমরা কখনো দেখিনি একজন নারী, আত্মনির্ভরশীলতা কাকে বলে।

এ কারণে , কর্মজীবী মা ও তাদের সন্তানেরা প্রায়ই হতাশায় চলে যান । তাদের কাছে জীবন অনেক দুর্বিষহ মনে হয়। একদিকে সন্তানের মনে হয়, মা তাকে পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছেন না, অন্যদিকে মায়েরও মনে মনে একটা অনুতাপ কাজ করতে থাকে। তিনি হয়তো মা হিসেবে সে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না সন্তানকে। সে যাই হোক, এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ । কিন্তু আসল কথা হছে এই যে, নারীর পরিচয় কী, সেটা নিয়ে একটা প্যারামিটার সেটে দেওয়া এই সমাজকে আরও বেশি উৎসাহ দেয় নারীকে নিয়ে পণ্যভুক্ত করার।  

তবে নারীকে পণ্য বানিয়ে একটা  মার্কেটের দৃষ্টি আকর্ষণটা কিভাবে হয়। এই দায় আসলে না বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর চাপানো যায়, না গ্রাহকের ওপর চাপানো যায়। কারণ উভয়পক্ষই  নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিশ্বাস করে আসছে এত বছর ধরে। এই বিষয়টি স্পষ্ট হয় তখন, যখন কোনো একটা অপ্রাসঙ্গিক বিজ্ঞাপনে নারীকে জোর করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গাড়ি বা বাইকের বিজ্ঞাপনে এপিলিং পোশাকের নারীর উপস্থিতির মতো।

কাপড় কাচাড় সাবানের বিজ্ঞাপনেও নারীকে মডেল বানানো হয়। নারীই সেই বিজ্ঞাপনে কাপড় কাচাড় সাবানের গুণাগুণ নিয়ে কথা বলবে। কিন্তু সেই সাবানের গুণাগুণ, মশলার গুণাগুণ নিয়ে কথা তো একজন পুরুষও বলতে পারে। আমরা বলতে চায়, বিজ্ঞাপন চিত্রে নারীকে পণ্য করে তোলার এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তার মেধা-প্রতিভার মূল্য দিতে হবে।

আর তাই, নারীকে পণ্য বানানোর উদ্দেশ্যে যেসব বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমে দেখানো হয়, সেগুলো বর্জন করতে হবে। পারলে আইনি সহয়তাও নিতে ওইসব বিজ্ঞাপন বন্ধ করার জন্য। কারণ মানুষকে পণ্য হিসেবে দেখানোও এক ধরনের অপররাধ মূলক কাজ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।