Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এশিয়ার গর্ব চীনা নারী নির্মাতা ক্লোয়ি জাও!

পুরো এশিয়াবাসীর গর্ব এখন চীনা নারী নির্মাতা ক্লোয়ি জাও। কারণ?  গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের ৭৮তম আসরে সেরা পরিচালকের সম্মাননা ঝুলিতে যোগ হল তার। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই চীনা নারী নির্মাতা এশিয়ার প্রথম নারী ও অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে এই স্বীকৃতি পেলেন।  যার মাধ্যমেই তৈরি হল নতুন ইতিহাস।    

 

গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের এবারের ৭৮তম আসরে মনোনয়ন থেকেই শুরু হয়েছিল বরাবরের তুলনায় ভিন্নতা।  মনোনয়ন তালিকায় প্রথমবারের মতো একজনের বেশি নারী পরিচালক জায়গা করে নেন। মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্য দুই নারী নির্মাতা হলেন এমারাল্ড ফেনেল (প্রমিজিং ইয়াং উইম্যান) এবং রেজিনা কিং (ওয়ান নাইট ইন মায়ামি)। এ বিভাগের বাকি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ডেভিড ফিঞ্চার (মাঙ্ক) এবং অ্যারন সরকিন (দ্য ট্রায়াল অব দ্য শিকাগো সেভেন)। গোল্ডেন গ্লোবসের আগের ৭৭ বছরের ইতিহাসে মাত্র পাঁচজন নারী নির্মাতা মনোনয়ন পান। আর এবছর ৭৮ তম আসরেই পাওয়া যায় একসঙ্গে ৩ জন নারী। 

 

সবাইকে হারিয়ে সেরার সেরা খেতাবটি পান ক্লোয়ি জাও। ক্লোয়ি জাও সেরা পরিচালকের খেতাব পেয়েই শুধু ইতিহাস গড়েননি। এর আগে মনোনয়ন পেয়েই ইতিহাস গড়েন এই নারী । গোল্ডেন গ্লোবসের সেরা পরিচালক শাখায় তার মাধ্যমেই প্রথমবার এশিয়ান বংশোদ্ভূত কোন নারী মনোনয়ন পেলেন। 

 

‘নোম্যাডল্যান্ড’ ছবিটির জন্য নির্মাতা হিসেবে তিনি এই পুরষ্কার পেয়েছেন। এর গল্প ষাটোর্ধ্ব বিধবা ফার্নকে ঘিরে। ২০০৮ সালে আমেরিকায় অর্থনৈতিক মন্দার সময় ভবঘুরে জীবন কাটান তিনি। নিজের ভ্যানকে ভ্রাম্যমাণ বাড়িতে রূপ দিয়ে ঘুরে বেড়ান। চলতে চলতে মৌসুমি চাকরি জুটিয়ে নেন। 

 

গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডসের আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণসিংহ (গোল্ডেন লায়ন) সম্মাননা  জিতে ‘নোম্যাডল্যান্ড’। এর  সুবাদে ১০ বছর পর ভেনিস উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান ওঠে কোন নারী নির্মাতার হাতে। এর আগেও বহু উৎসবে বহু পুরষ্কার জিতে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি।  

 

২০১৫ সালে সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে তার প্রথম ছবি ‘সংস মাই ব্রাদার টট মি’র উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। এরপর কান উৎসবের প্যারালাল বিভাগ ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে এটি স্থান পায়।
ক্লোয়ি জাও পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি ‘দ্য রাইডার’ ২০১৭ সালে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইটে নির্বাচিত হয়ে আর্ট সিনেমা অ্যাওয়ার্ড জেতে। এরপর তার পরিচালিত তৃতীয় ছবি  ‘নোম্যাডল্যান্ড’ গোল্ডেন গ্লোবসের সর্বোচ্চ সম্মান সেরা চলচ্চিত্র (ড্রামা) পুরস্কার জিতেছে। 

 

ক্লোয়ি জাও বলেন, ‘আমার যা ভালো লাগে  তা সম্ভব করে দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। আমি সিনেমা বানানো ও গল্প বলার প্রেমে পড়েছিলাম। সিনেমা আমাদের হাসি-কান্না ভাগাভাগি, একে অপরের কাছ থেকে শেখা এবং একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগ এনে দেয়।’

 

৩৮ বছর বয়সী ক্লোয়ি জাওয়ের এই অর্জনে তাকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সবাই। তার এই বিজয়কে সর্বত্র নারীদের জয় মনে করছেন সকলে। তাকে এশিয়ার গর্ব বলে আখ্যায়িত করছেন নেটিজেনরা।