Skip to content

৪ঠা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ১৯শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

যৌন শিক্ষার গোড়াপত্তন হোক বাড়িতেই

 

'যৌন শিক্ষা ' বিষয়টি আসলে কি? 

যৌনশিক্ষায় মূলত মানব যৌনতা, যার মাধ্যমে মানসিক সম্পর্ক এবং দায়িত্ববোধ, মানব যৌন শারীরস্থান, যৌনাচার, যৌন প্রজনন, সম্মতির বয়স, প্রজনন স্বাস্থ্য, প্রজনন অধিকার, নিরাপদ যৌনতা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং যৌন নিবিড়তা সহ মানব যৌনতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নির্দেশ করা হয়। যৌনশিক্ষা সংক্রান্ত এই সমস্ত ব্যাপক দিকগুলি বিস্তীর্ণ যৌন শিক্ষা হিসেবে পরিচিত।

 

একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর  ছেলে-মেয়ে সবারই যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে জানা দরকার৷ বিভিন্ন দেশে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এ বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করা হলেও আমাদের দেশে এখনও তা ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমাদের দেশে বরং বইয়ের যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক অধ্যায়টা এড়িয়ে যান শিক্ষকরা। পরিবারের থেকেও এড়িয়ে যাওয়া হয় যৌন শিক্ষার ব্যাপারটি।  

এগারো-বারো বছর বয়সের পর থেকেই শরীর এবং মনে ঘটতে থাকে নানা পরিবর্তন৷ এ বয়স কিশোর-কিশোরী থেকে নারী ও পুরুষ হয়ে ওঠার সময়৷ এসময় বিভিন্ন পরিবর্তনের কারণে নিজেদের অনেকটা গুটিয়ে নিতে হয় সর্বস্তর থেকে। এই বয়স থেকে সাধারণত মেয়েদের ‘পিরিয়ড' বা ‘মাসিক' শুরু হয়৷ অধিকাংশক্ষেত্রে এ সম্পর্কে স্কুল বা পরিবার কারো কাছ থেকে  পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় না৷ যার কারণে শারীরিক সমস্যায়ও ভুগেন কিশোরীরা।

 

শুরুটা হোক পরিবার থেকেই

আমাদের দেশে বিশেষ করে মেয়েলি ব্যাপারগুলোকে একধরনের গোপন বিষয় হিসেবেই দেখা হয়।  বাড়িতে সন্ধ্যায় চায়ের আড্ডায় অনেক বিষয় নিয়ে গল্প হলেও ভুলেও এসংক্রান্ত কোনো আলোচনা তোলা হয় না। যৌনতা নিয়ে কথা বলাকে একধরনের অন্যায়ই মনে হয়। হয়তোবা আপনি ভাবছেন, সন্তানের সাথে যৌন শিক্ষা নিয়ে কথা বলা উচিত নয়।  এটি একটি অত্যন্ত গোপন বিষয়।  আপনি আচার-আচরণেও এমনি ভাব প্রকাশ করছেন। এতে করে আপনার সন্তান বরং আতঙ্কিত হচ্ছে। কোনো কোনো  সময় অপরাধ বোধ কাজ করছে এবং ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে,  ভুল দিকে পা বাড়াচ্ছে। 

তাই শুরুটা হওয়া উচিত পরিবার থেকেই। খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত যৌন শিক্ষা নিয়ে। যৌন সম্পর্ক কী?, কম বয়সে যৌনতার ক্ষতিকর দিক, জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, গর্ভধারণ, গর্ভপাত এবং অবশ্যই যৌনরোগ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিয়ে কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করা উচিত।  

এসব বিষয়ে অজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ধর্ষণের মতো অপরাধের।  নিজের শরীর সম্পর্কেও সচেতন করে দেয়া উচিত পরিবার থেকেই।  যাতে করে তারা বুঝতে পারে কোনটি ভালো স্পর্শ, কোনটি খারাপ স্পর্শ।  এছাড়াও যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের সংজ্ঞা আসলে কি? সে বিষয়েও তাদের শিক্ষা দেয়া উচিত।  প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যদি যৌন শিক্ষার ব্যাপারটি নিশ্চিত করা যায় তবে কিশোর-কিশোরীদের অনেক অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব।  

বাড়িতেই যৌন শিক্ষার গোড়াপত্তন করতে হলে সবথেকে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে মা – বাবার।  আর সেজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সন্তানের সাথে সহজ সম্পর্ক তৈরি করা৷ যাতে সন্তান নিঃসংকোচে যে কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারে৷ অবশ্যই  তাদের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে। 

 

যৌনতা নিয়ে, যৌন শিক্ষা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া উচিত৷ এতে করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে৷ শুধু  শিক্ষা, আধুনিকতা, ফ্যাশন আর পোশাকের দিক দিয়ে এগিয়ে গেলে হবে না তার সাথে তাল মিলিয়ে  যৌন শিক্ষার দিক দিয়েও এগিয়ে যেতে হবে। তাই যৌনশিক্ষার গোড়াপত্তন করতে হবে বাড়িতেই।