Skip to content

১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | শনিবার | ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

কৃষিতে অবদান থাকা সত্ত্বেও মজুরি পান মাত্র ১৫ ভাগ নারী!

কৃষিতে নারীর অবদান পুরুষের তুলনায় নেহাত কম নয়। কিন্তু গবেষণায় উঠে এসেছে, কৃষিকাজে যুক্ত আছেন এমন নারীদের মধ্যে মাত্র ১৫ ভাগের কাছাকাছি নারীই মজুরি পান।

গত ৩ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার  মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত এক ওয়েববিনারে ‘কৃষিতে নারীর কাজের মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করা হয়। 
গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং জেন্ডার বিশেষজ্ঞ ড. ইসমত আরা বেগম। তাকে গবেষণার কাজে সহায়তা করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ড. মাহবুব হোসেন।

এ গবেষণার কাজ ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে শুরু হয়েছিল।  এ গবেষণায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বাংলাদেশে কৃষিকাজে  নারীর অবদান কতটা?  পরিবারের কতটুকু খাবারের যোগান দেন নারী। গ্রামীণ শ্রমবাজারে নারী কতটা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এমন কি কোনও প্রমাণ আছে যে, গ্রামীণ পুরুষরা লাভের আশায় কৃষিকাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন এবং নারীরা কৃষি-ব্যবস্থাপনায় মূল চালিকাশক্তি হতে চলেছেন? ধান উৎপাদন, গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন এবং মাছ চাষে নারীর অংশগ্রহণ কতটা? কৃষিখাতে নারী শ্রমিক তাদের কাজের পাওনা পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে কতটা বৈষম্যের শিকার হন। শ্রম বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে নারীর বড় বাধাগুলো কি কি?

অবশেষে গবেষণাপত্রে তুলে ধরা  হয়েছে, ‘কৃষিতে মজুরি যুক্ত কাজে নারীর সংখ্যা মাত্র ১৫ ভাগের কাছাকাছি। গবাদিপশুর লালন পালন ও খাদ্যশস্য উৎপাদনে নারীর অনেক বেশি অংশগ্রহণ থাকার পরও এত অল্প সংখ্যা দেখে এটাই প্রমাণিত হয় যে, গ্রামীণ জীবনে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাতে নারীর কাজের পরিধি এখনও খুবই সামান্য।'

এতে আরো বলা হয়, গ্রামীণ নারীদের অনেকেই মনে করেন, তারা আগের চাইতে অধিক হারে অর্থনৈতিক কাজে অংশ নিতে পারলেও, নিজেদের অর্জিত টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও তাদের সুযোগ খুব কম, নারীকে কাজ করতে হয় মূলত পারিবারিক শ্রমিক হিসেবে, কাজেই তাদের আয়ের পরিমাণ খুবই সামান্যই রয়ে গেছে।

গবেষণাপত্র থেকে আরও জানা যায়, দেশে মোট ৫ কোটি ৬৭ লাখ কর্মজীবী মানুষের মধ্যে শতকরা ৪৭.৬ জন কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত। আবার এদের মধ্যে শতকরা ৬৪.৮ জন নারী। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরা জমির মালিক নন। তাই তদারকির দায়িত্বে নয়, বরং তাদের কাজ করতে দেখা যায় জমিতে।