Skip to content

২১শে মে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অর্থনৈতিক সমতায় ১৫ ধাপ অবনতি দেশের নারীদের! 

নারী-পুরুষের মধ্যকার বৈষম্য চলে আসে জন্মলগ্ন থেকেই। আমাদের দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে এ বৈষম্য বেশ অনেকটাই প্রকট। যদিও চলছে এ বৈষম্য দূর করার প্রচেষ্টা। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে এর পরেও গত এক বছরে দেশে এই বৈষম্য বেড়েছে। বিশ্ব লিঙ্গ সমতা সূচকে ১৫ ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের।  

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ এক বছরের ব্যবধানে ১৫ ধাপ পিছিয়েছে। সমতা অর্জনের বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৫০।  ১৫ ধাপ পিছিয়ে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান  ৬৫ তম। 

 

 এ বছর মোট ১৫৬টি দেশের তথ্য নিয়ে এই সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে এ লিঙ্গ সমতা সূচক প্রকাশ করে আসছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, মোটা দাগে এই চার মাপকাঠিতে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিবেচনা করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়ে থাকে।

সূচকে একটি দেশের অবস্থান নির্ধারণ করা হয় ১ ভিত্তিক স্কেলে, যেখানে ১ মানে হল পুরো সম-অধিকার, আর শূন্য মানে পুরোপুরি অধিকার বঞ্চিত। এ হিসাবে বাংলাদেশের এবারের মোট স্কোর ০.৭১৯, যা গত বছর ছিল ০.৭২৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সূচকে অবনতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মূলত শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত হওয়ায় অর্থনৈতিক সমতা সূচকে অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ নারী, ভারতের ২২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ নারী রয়েছে শ্রমবাজারে। এই অঞ্চলে নেপালের অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ৮৫ শতাংশের বেশি।

মূলত বাংলাদেশে নারীদের অর্থনৈতিক সুযোগ ও সমতার সূচকে অবনতি, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে নারী-পুরুষের ব্যবধান বেড়ে যাওয়াসহ অন্যান্য দেশ এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। তবে এরপরও এশিয়ার মধ্যে এ সূচকে বেশ  এগিয়ে  বাংলাদেশ।  দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে  রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে নারীর অবস্থান, শিক্ষায় সমান সুযোগ এবং কর্মসংস্থানে নারীর এগিয়ে যাওয়ায় অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, করোনা মহামারি শুরুর পর স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সংকুচিত হয়ে আসায় সারা বিশ্বেরই নারীরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বিশ্বে নারী-পুরুষের সমতার ব্যবধান শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। যে গতিতে বিশ্ব এগোচ্ছে তাতে করে সারা বিশ্বে নারী-পুরুষ বৈষম্য বিলোপ করতে ১৩৫ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে।

উল্লেখ্য, প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে নারী-পুরুষ বৈষম্য তুলনামূলক মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি। এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী এবারো নারী-পুরুষে সমতার শীর্ষ দেশ আইসল্যান্ড।

 

ডাউনলোড করুন অনন্যা অ্যাপ