Skip to content

২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ | সোমবার | ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ইম্পোস্টার সিনড্রোমে নারীরাই বেশি ভোগেন!

ইমপোস্টার সিনড্রোম মুলত একপ্রকার মানসিক সমস্যা। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি থেকেই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
নিজের প্রাপ্তি বা অর্জনের প্রতি বিশ্বাসী হতে না পারা এই সমস্যার প্রধান লক্ষণ। যেমন :

নিজের সাফল্য মণ্ডিত অবস্থানের জন্য নিজেকে অযোগ্য মনে হওয়া, মনে হয় যা কিছু হতে পেরেছেন তা কোন মিরাকল। দৈব শক্তির ফলে তা আপনি পেয়েছেন। আপনার কাজ বা দক্ষতার বিনিময়ে নয়। আর যেকোনো সময় চারপাশের মানুষ এটি জেনে যাবে যে আপনার যোগ্যতা, দক্ষতা, অর্জন, সাফল্য সবকিছু একপ্রকার প্রতারণা ছিল। এমনটা মনে হওয়া মানে আপনি ইমপোস্টার সিনড্রোমে ভুগছেন। এই ধরণের ধ্যান ধারণা নিজের কাজের দক্ষতা, মেধা, প্রতিভার প্রতি বিশ্বাস না থাকার কারণে তৈরি হয়। গবেষকরা বলেন এই ধরনের সমস্যায় পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন পুরুষরাও নিজেদের যোগ্যতার প্রতি আস্থাহীন হন, নিজের কর্মদক্ষতায় অর্জিত সাফল্যকে নিজের বলে মেনে নিতে পারেন না অনেক সময়। তবে পুরুষদের থেকে নারীদের সমস্যার প্রবণতা বেশি এবং বৈশিষ্ট্যসূচকভাবে আলাদা।

১৯৭৮ সালে সর্বপ্রথম এই রোগটি আলোচনায় আসে। মনোবিজ্ঞানী পলিন রোজ ক্ল্যান্স সুজান ইমস তাদের একটি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে বিষয়টির উপর আলোকপাত করেন।
নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টির প্রভাবে বেশ কিছু কারণ লক্ষনীয় :

অনেকসময় দেখা যায়, তারা কোনো প্রতিযোগিতা বা অনুষ্ঠানে অথবা কোন চাকরির পরীক্ষায় যেসব দক্ষতার প্রয়োজন থাকে তার একটিও কম থাকলে অংশগ্রহণ করেন না।
আবার কোনো মিটিং বা ক্লাসে কোনে বিষয়ে প্রশ্ন করতে ভয় পান। তারা ভাবপন যদি ভুল বলে ফেলি তখন লজ্জায় পড়তে হবে। এইভেবে তারা চুপ করে থাকেন।
আবার উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চলা নারীরা লক্ষ্যের ৯৯ ভাগ সফল হলেও মনের দিক থেকে সন্তুষ্ট হতে পারেন না। এছাড়াও সামান্যতম ভুল হলেও তারা নিজেদের অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন। অথচ যে ভুল কোনোপ্রকার সমস্যারই তৈরি করবে না।
প্রতিটি মানুষের কিছু না কিছু জন্মগত ভাবেই দক্ষতা থাকে। যেটা তাকে অর্জন করতে হয়না।৷ আর যখনই সেই দক্ষতার বাইরে গিয়ে শ্রম দিয়ে নতুন কিছু অর্জন করার চেষ্টা করতে হয়, তখন এই মানুষগুলো সমস্যায় পড়েন। তারা ভাবেন, যেহেতু তার দক্ষতা কাজে লাগছে না তারমানে সে দক্ষ নয়। এই ভাবনা তাকে তাড়া করে বেড়ায়।

নানা কারণে পিছিয়ে পড়া নারীদের মধ্যে এই বিষয়টির প্রভাব দেখা দেয়। যেমন কৃষ্ণাঙ্গ, আদিবাসী নারী। এদেরকে সফল হওয়ার জন্য সাধারণ কোনো পুরুষের থেকে বেশি বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় অনুসরণ করার মত সফল নারী তারা খুঁজে পান না। তখনই তাদের আত্মবিশ্বাসে টানাপোড়েন শুরু হয়। কর্পোরেট দুনিয়াতে এটি বেশি হয়ে থাকে। কারণ সেখানে যখন কোনো নারী সফল হতে শুরু করেন তখন তিনি তার সহচারী হিসেবে নারীদেরকে খুব কম পেয়ে থাকেন। তখনই এমন ধারণার তৈরি হয়, হয়তো সে দৈব বলে সব পেয়ে যাচ্ছেন। তার মধ্যে এত সফলতা অর্জনের যোগ্যতা নেই।
নারীরা নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্যের জন্য সব ক্ষেত্রেই প্রশংসনীয়। কারণে অনেক সময় তাদের সফলতার জন্য এমনটা শুনতে হয় যে শুধু নারী বলে বা নিজের সৌন্দর্য দেখিয়ে সফল হচ্ছেন।
কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে সমতা রক্ষার জন্য নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন নারীদেরকে কটুক্তি শুনতে হয় যে সিস্টেমের কারণে তারা এই অবস্থান পেয়েছে। যোগ্যতা দিয়ে নয়। যা তার ইমপোস্টার হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই সমস্যাটি বেশির ভাগ নারীকে ভোগ করতে হলেও এর থেকে নিরাময়ের তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট উপায় এখনো জানা যায়নি। তবে মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ এক্ষেত্রে নিজের প্রতি সহানুভুতিশীল হতে। কাছের মানুষের সাথে নিজের অনুভূতির সবটা শেয়ার করলে, তার থেকে মানসিক জোর পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। যা ইমপোস্টার সিনড্রোম নিরাময়ে কিছু টা সহায়ক হতে পারে।