৮ নভেম্বর, ২০২৬ | রবিবারবাংলা: ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
জীবনযাপন

সুস্থতার জন্য কতক্ষণ রোদে থাকতে হবে?

সুস্থতার জন্য কতক্ষণ রোদে থাকতে হবে?

সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত এসব অভ্যাসের বাইরেও আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান প্রায়ই অবহেলা করা হয়, তা হলো ‘সূর্যালোক’ বা প্রতিদিন কিছুটা সময় রোদে কাটানো। সঠিক নিয়ম মেনে পরিমিত মাত্রায় সূর্যের আলো গ্রহণ করলে শরীর রোগমুক্ত থাকে।

জীবনযাপন-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘অ্যান্টি-এইজিং’ ও ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ ডা. সাবরিনা সোল্ট জানিয়েছেন, মানবদেহ প্রাকৃতিকভাবেই এমনভাবে তৈরি, যা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ভালো কাজ করে। হরমোন উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শরীরের ভেতরের ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নিয়ন্ত্রণ করতে সূর্যের আলো ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত রোদ ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তবে পরিমিত ও কৌশলগতভাবে রোদ পোহানো শরীর সুস্থ রাখতে খুবই জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ১০ থেকে ৩০ মিনিট সরাসরি খোলা ত্বকে সূর্যের আলো লাগানো উচিত। এছাড়া প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট শরীরে ভোরের নরম আলো লাগালে, ‘সার্কাডিয়ান রিদম’বা শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি সচল থাকে। এর ফলে হরমোন উৎপাদনও ঠিক থাকে।

দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোদের উপকারিতা

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘায়ু ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত রোদের বিভিন্ন উপকারিতার কথা বলেছেন। যেমন-

মন ভালো রাখা ও অবসাদ মুক্তি: সূর্যের আলো মস্তিস্কে ‘সেরোটোনিন’ নামক নিউরোট্রান্সমিটার বা হরমোনের নিঃসরণ দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মেজাজ শান্ত হয়, মনোযোগ বাড়ে। সেই সঙ্গে মানসিক স্থিতিশীলতা আনে। এটি দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্নতা, তীব্র অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা এবং বয়সজনিত স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমায়। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকলে স্ট্রোক, হৃদ্-রোগ রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি।

Advertisements

ভালো ঘুম: রাতে ভালো ঘুমের জন্য ক্যাফিন বর্জন বা স্ক্রিন টাইম কমানোর পাশাপাশি সকালের রোদ বেশ কাজ করে। সঠিক ঘুম বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

প্রাকৃতিক ভিটামিন ডি-এর জোগান

হাড়, মস্তিস্ক এবং হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভিটামিন ‘ডি’ অপরিহার্য। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে রোদ রক্তে ভিটামিন ‘ডি’-এর মাত্রা ঠিক রাখে। এর ফলে বয়সকালে ‘অস্টিওপরোসিস’বা হাড় ক্ষয় রোগ, হৃদরোগ এবং কিছু বিশেষ ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রদাহ দূর করা: সূর্যালোক শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী প্রধান কোষ, বিশেষ করে ‘টি-সেল’-এর উৎপাদন ও কার্যকারিতাকে সরাসরি চাঙা করে তোলে, যা যেকোনো ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

এছাড়া রোদ শরীরের ভেতরের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বা ক্রনিক ইনফ্লামেইশন কমায়। যেহেতু হৃদরোগ থেকে শুরু করে আলঝেইমার’স-এর মতো প্রায় প্রতিটি দীর্ঘমেয়াদি রোগের মূল উৎস হল এই ইনফ্লামেইশন বা প্রদাহ, এ কারণে পরিমিত রোদ পোহানো সুস্থ থাকার সহজ একটি প্রাকৃতিক উপায়।

অতিরিক্ত রোদের ঝুঁকি

রোদ উপকারী হলেও দুপুরের কড়া রোদ বা অতিরিক্ত সময় রোদে থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন প্রোটিন ধ্বংস করে দ্রুত চামড়া কুঁচকে দেয় এবং ডিএনএ ক্ষতি করে। এর ফলে ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে রোদ থেকে উপকার পেতে সকালের নরম আলো বেছে নেওয়া ভালো। এর পাশাপাশি বাইরে বের হলে ‘নন-কমেডোজেনিক সানস্ক্রিন’ব্যবহার করা, ছাতা বা চওড়া টুপি পরা এবং খাদ্যতালিকায় প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রাখা উচিত।

Advertisements