নেইল পলিশ ব্যবহারে বন্ধ্যত্ব ও ক্যানসারের ঝুঁকি কতটা?

নেইল আর্ট ও জেল ম্যানিকিউর বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে বিভিন্ন রঙের জেল নেইল পলিশ এবং ইউভি বা এলইডি ল্যাম্পের সাহায্যে নখকে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রবণতা বেড়েছে। তবে সৌন্দর্যচর্চার এই পদ্ধতি নিয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্যঝুঁকির উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নেইল পলিশে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান এবং জেল পলিশ শুকানোর জন্য ব্যবহৃত ইউভি ল্যাম্প দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সম্প্রতি গ্রেট ব্রিটেনে প্রসাধনী প্রস্তুতকারকদের জন্য ‘টিপিও’ (TPO) নামের একটি রাসায়নিক উপাদানের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট থেকে এই উপাদানযুক্ত নতুন নেইল প্রোডাক্ট বাজারজাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরোনো পণ্যগুলোর মজুত বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই ইউরোপীয় ইউনিয়নে উপাদানটি নিষিদ্ধ করা হয়।
কেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে টিপিও?
টিপিও হলো জেল নেইল পলিশে ব্যবহৃত এক ধরনের ফটোইনিশিয়েটর। ইউভি বা এলইডি আলোর সংস্পর্শে এলে এটি জেল পলিশকে দ্রুত শক্ত হতে সাহায্য করে।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যায়নে রাসায়নিক উপাদানটিকে প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। গবেষণায় এর সম্ভাব্য প্রজনন বিষক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে মাঝে মধ্যে জেল ম্যানিকিউর করলেই কারও বন্ধ্যত্ব হবে, এমন সরাসরি প্রমাণ নেই। ঝুঁকি নির্ভর করে রাসায়নিকের ধরন, সংস্পর্শের মাত্রা এবং ব্যবহারের পরিস্থিতির ওপর। বিশেষ করে যারা নিয়মিত এসব পণ্যের সংস্পর্শে থাকেন, তাদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
জেল পলিশ শুকানোর ইউভি ল্যাম্পে ক্যানসারের ঝুঁকি?
জেল নেইল পলিশ শুকানোর জন্য ব্যবহৃত ইউভি ল্যাম্প থেকেও স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে। এসব ল্যাম্প থেকে নির্গত অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে বারবার ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে এলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। যদিও জেল ম্যানিকিউরের ইউভি ল্যাম্প ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কতটা, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
নেইল পলিশ ব্যবহারে আরও যেসব সমস্যা হতে পারে
নেইল পলিশ ও জেল ম্যানিকিউরের কিছু রাসায়নিক উপাদান এবং ব্যবহারের পদ্ধতির কারণে কয়েক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—
১. অ্যালার্জিক কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস বা ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব ও অ্যালার্জি।
২. নখ পাতলা, দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া।
৩. নখের আশপাশে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ।
৪. হাত, আঙুল কিংবা ঠোঁটের আশপাশে একজিমার সমস্যা।
কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন?
সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় পার্লারে কর্মরত ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন। কারণ, তাদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে নেইল পলিশের রাসায়নিক, বিভিন্ন ধরনের ধোঁয়া ও ইউভি ল্যাম্পের সংস্পর্শে থাকতে হয়।
কীভাবে সতর্ক থাকবেন?
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
- জেল ম্যানিকিউর ঘন ঘন না করাই ভালো।
- ইউভি ল্যাম্প ব্যবহারের আগে হাতের ত্বকে এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
- সম্ভব হলে আঙুল খোলা রাখে এমন ইউভি-প্রতিরোধী গ্লাভস ব্যবহার করুন।
- ত্বকে নেইল পলিশ লাগানো এড়িয়ে চলুন।
- ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে এমন পার্লার বেছে নিন।
- অ্যালার্জি বা ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সৌন্দর্যচর্চার পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নেইল পলিশ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও ইউভি রশ্মির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।



