৭ নভেম্বর, ২০২৬ | শনিবারবাংলা: ২২ কার্তিক ১৪৩৩
বিজ্ঞান

যে বিরল রোগে কারণ ছাড়াই হাসেন রোগী, কিন্তু অনুভব করেন না আনন্দ

images (3)

হাসি সাধারণত আনন্দ, খুশি কিংবা মজার কোনো মুহূর্তের প্রকাশ। কিন্তু এমন এক বিরল রোগ রয়েছে, যেখানে রোগী কোনো কারণ ছাড়াই অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসতে থাকেন। অথচ সেই হাসির সঙ্গে আনন্দের কোনো অনুভূতি থাকে না। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় ‘জেলাস্টিক সিজার’।

সম্প্রতি ৩১ বছর বয়সী এক নারীর এমন বিরল রোগের ঘটনা চিকিৎসকদের নজরে এসেছে। শৈশব থেকেই তিনি এ সমস্যায় ভুগছিলেন। দিনে অন্তত একবার হঠাৎ করেই তাঁর হাসি শুরু হতো। হাসির আগে ঘাড় ও বুকের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি হতো। আক্রমণের সময় তিনি কথা বলতে, খাবার গিলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারতেন না। প্রতিবার কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হতো এই অবস্থা।

শৈশবে তাঁর সমস্যা আরও গুরুতর ছিল। দিনে ছয় থেকে সাতবার এমন হাসির আক্রমণ হতো, যা কখনো কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী থাকত। এমনকি ঘুমের মধ্যেও তিনি হাসতে শুরু করতেন। তবে বিষয়টি অসুস্থতা হিসেবে বুঝতে পারেননি তাঁর বাবা-মা। তাঁরা মনে করতেন, মেয়ে ইচ্ছা করেই হাসছে।

পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকেরা তাঁর হাসির ধরন পর্যবেক্ষণ করে একে বিশেষ ধরনের খিঁচুনি বলে সন্দেহ করেন। এর নাম জেলাস্টিক সিজার। গ্রিক শব্দ ‘জেলাস্টিকোস’ থেকে এই নামের উৎপত্তি, যার অর্থ হাসি। এ ধরনের খিঁচুনিতে রোগী অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাসেন বা মুচকি হাসেন, যদিও এর সঙ্গে আনন্দের কোনো সম্পর্ক থাকে না।

প্রাথমিকভাবে মস্তিষ্কের এমআরআই ও ইইজি পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি। পরে হাসির আক্রমণের ভিডিও বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকেরা আবার এমআরআই করেন। এবার মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত হাইপোথ্যালামাসে প্রায় ৫ মিলিমিটার আকারের একটি অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়। চিকিৎসকেরা এর নাম দেন ‘হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমা’।

এটি মস্তিষ্কে জন্মগতভাবে তৈরি হওয়া এক ধরনের নিরীহ টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এ সমস্যার সঙ্গে জেলাস্টিক সিজারের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এর কারণে খিঁচুনি, আচরণগত সমস্যা এবং শিশুদের বিকাশে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

Advertisements

তবে ওই নারীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাসির আক্রমণের তীব্রতা ও frequency কমে এসেছে। আগে লেভেটিরাসিটাম ও ল্যামোট্রিগিন নামের খিঁচুনির ওষুধ দেওয়া হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বর্তমানে সমস্যা তুলনামূলক কম থাকায় তিনি ওষুধ গ্রহণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

চিকিৎসকদের মতে, হাইপোথ্যালামিক হ্যামারটোমার কারণে হওয়া মৃগীরোগের ক্ষেত্রে এমন স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিণতি অত্যন্ত বিরল। ঘটনাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

Advertisements