৬ নভেম্বর, ২০২৬ | শুক্রবারবাংলা: ২১ কার্তিক ১৪৩৩
স্বাস্থ্য

টানা কিছুদিন কম ঘুমালেই বাড়তে পারে ওজন, বলছে গবেষণা

IMG_7482

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, পড়াশোনা কিংবা রাত জেগে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের সময় কমিয়ে ফেলেন। কেউ কেউ ক্লান্তি দূর করতে সকালে কফির ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শরীরের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা কি ভেবে দেখেছেন? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, প্রতিদিন মাত্র দেড় ঘণ্টা কম ঘুমালেও বাড়তে পারে শরীরের ওজন। পাশাপাশি কমতে পারে শারীরিক সক্রিয়তা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল অ্যানালস অব ইন্টারনাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় ঘুমের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

ছয় সপ্তাহে বেড়েছে প্রায় ৪৫০ গ্রাম ওজন

গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন ৯৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। তাঁরা সাধারণত রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতেন। গবেষণার অংশ হিসেবে টানা ছয় সপ্তাহ তাঁদের স্বাভাবিক ঘুমের সময় থেকে প্রতিদিন দেড় ঘণ্টা কমিয়ে দেওয়া হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, ছয় সপ্তাহ পর অংশগ্রহণকারীদের ওজন গড়ে প্রায় ৪৫০ গ্রাম বেড়েছে। একই সঙ্গে ঘুমের অভাবে তাঁদের মধ্যে ক্লান্তি ও অলসতা বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় শারীরিক নড়াচড়া কমিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

বাড়ছে বসে থাকার প্রবণতা

Advertisements

গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হওয়ার কারণে অংশগ্রহণকারীরা প্রতিদিন গড়ে ১৭ মিনিট বেশি সময় বসে কাটিয়েছেন। বিশেষ করে পুরুষ ও মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি ছিল। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট অতিরিক্ত বসে থাকার প্রবণতা দেখা গেছে।

গবেষণাটির প্রধান লেখক কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি আরভিং মেডিকেল সেন্টারের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মেরি-পিয়েরে সেন্ট-অঞ্জের মতে, গবেষণার এই ফলাফল বাস্তব জীবনের ঘুমের ঘাটতির প্রভাব বুঝতে সহায়তা করে। কারণ অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদিন প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুমান।

দীর্ঘমেয়াদে বাড়তে পারে রোগের ঝুঁকি

ছয় সপ্তাহে ৪৫০ গ্রাম ওজন বৃদ্ধি খুব বেশি মনে না হলেও দীর্ঘদিন একই অভ্যাস চলতে থাকলে এর প্রভাব আরও বড় হতে পারে। কানাডার চিলড্রেনস হসপিটাল অব ইস্টার্ন অন্টারিওর জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী জ্যঁ-ফিলিপ চ্যাপুটের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের ঘাটতি ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অব্যাহত থাকলে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন বা শারীরিক পরিশ্রম কম করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘুমের ঘাটতি স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম কেন জরুরি?

গবেষকদের মতে, শুধু ঘুমের ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাব জানলেই হবে না, পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের জন্য কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিও জানা জরুরি।

তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। অপ্রয়োজনে রাত জেগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা কিংবা বিনোদনের পেছনে ঘুমের সময় নষ্ট না করাই ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক নড়াচড়া ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখতে হবে, ভালো ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisements