কৃত্রিম নখ লাগালে কি অজু হবে?

বর্তমানে সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসেবে অনেক নারী কৃত্রিম নখ ব্যবহার করেন। বিশেষ করে হাতের সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের নেল এক্সটেনশন ও কৃত্রিম নখ লাগানোর প্রচলন বেড়েছে। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন, কৃত্রিম নখ লাগানো অবস্থায় অজু করলে তা কি শুদ্ধ হবে?
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অজু শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরীরের নির্ধারিত অঙ্গগুলো যথাযথভাবে ধোয়া ফরজ। এর মধ্যে হাত ধোয়ার সময় আঙুলের নখসহ প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছানো জরুরি। এসব অঙ্গের সামান্য অংশও শুকনো থেকে গেলে অজু শুদ্ধ হবে না।
হাদিসে পূর্ণাঙ্গ অজুর নির্দেশনা
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে মক্কা থেকে মদিনায় ফেরার পথে কয়েকজন সাহাবিকে দ্রুত অজু করতে দেখা যায়। তাঁদের পায়ের গোড়ালিতে পানি না পৌঁছানোর বিষয়টি লক্ষ্য করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গোড়ালিগুলোর জন্য রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। তোমরা পূর্ণাঙ্গরূপে অজু করো।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৪১)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অজুর ফরজ অঙ্গের কোনো অংশে পানি না পৌঁছালে অজু পূর্ণাঙ্গ হয় না।
নখের নিচে ময়লা থাকলে কি অজু হবে?
ফকিহ আবু বকর আল-হাদ্দাদ (রহ.)-এর বক্তব্য অনুযায়ী, কারও নখের নিচে শুকিয়ে শক্ত হয়ে যাওয়া আটা লেগে থাকলে এবং এর কারণে পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হলে তা সরিয়ে নিচে পানি পৌঁছানো আবশ্যক।
যদিও এই বক্তব্য গোসলের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অজুর ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য।
তবে নখের নিচে জমে থাকা সাধারণ ময়লা যদি পানি পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি না করে, তাহলে তা অজুর জন্য প্রতিবন্ধক নয়। কিন্তু কোনো ময়লা পুরু বা শক্ত হয়ে পানি পৌঁছাতে বাধা দিলে তা পরিষ্কার করা জরুরি।
কৃত্রিম নখ লাগালে অজু হবে কি?
কৃত্রিম নখ আসল নখের ওপর একটি আবরণ তৈরি করে। ফলে এটি লাগানো অবস্থায় অজু বা গোসল করলে সাধারণত আসল নখে পানি পৌঁছায় না।
তাই কৃত্রিম নখ লাগানো অবস্থায় অজু বা ফরজ গোসল করলে তা শুদ্ধ হবে না। অজু ও গোসল শুদ্ধ হওয়ার জন্য কৃত্রিম নখ খুলে ফেলতে হবে, যাতে আসল নখসহ নির্ধারিত অঙ্গের প্রতিটি অংশে পানি পৌঁছায়।
সুতরাং, সৌন্দর্যচর্চার জন্য কৃত্রিম নখ ব্যবহার করলেও নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে অজু ও গোসলের শুদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



