মেসেজে তালাক দিলে তালাক হবে?

বর্তমান সময়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের মাধ্যম সামাজিক মাধ্যমের মেসেজিং। এ মাধ্যমে সবাই সহজে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকে। এর মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর যোগাযোগ অন্যতম।
এ মাধ্যমের একটি মেসেজিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- স্ত্রীকে মৌখিক বা লিখিত, যেকোনো পদ্ধতিতে তালাক দিলে তা কার্যকর হয়। অর্থাৎ, কোনো স্বামী স্ত্রীকে মেসেজের মাধ্যমে ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ লিখে পাঠালেও তালাক কার্যকর হবে।
এ বিষয়ে ইবরাহিম নাখাঈ (রহ.) বলেন, কেউ নিজ হাতে তালাক লিখলে তার ওপর তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।
সুতরাং, ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ লিখে স্ত্রীকে মেসেজ পাঠালে তার ওপর এক তালাকে রজয়ী কার্যকর হবে।
তালাকে রজয়ীর বিধান অনুযায়ী, তালাক দেওয়ার পর ইদ্দত চলাকালে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। স্ত্রী ঋতুমতী হলে তিনটি স্রাব অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত এবং অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিলে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্বহাল হয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তাদের স্বামীরা যদি আপস-নিষ্পত্তি করতে চায়, তবে এ মেয়াদের (ইদ্দতের) মধ্যে তাদেরকে (নিজেদের স্ত্রী হিসেবে) ফেরত গ্রহণের অধিকার তাদের রয়েছে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২৮)
তালাকে রজয়ীর পর ইদ্দতের মধ্যে লিখিতভাবে রুজু করলেও তা সহীহ হবে। ইমাম নববী (রহ.) বলেন, মৌখিকভাবে রুজু করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লিখিতভাবে রুজু করলে তা সহীহ হয়ে যাবে।
তবে রুজু করার উত্তম পদ্ধতি হলো, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মৌখিকভাবে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া।
অতএব, কোনো স্বামী মেসেজের মাধ্যমে ‘আমি তোমাকে তালাক দিলাম’ লিখে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে তাকে ফিরিয়ে নিলে সেই রুজু সহীহ হবে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক আগের মতোই বহাল থাকবে।



